ভবিষ্যতের শক্তির উৎসঃ ঘূর্ণিঝড়!
এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1365বার পড়া হয়েছে।
প্রকৃতিকে বশ মানিয়ে তার বিধ্বংসী রূপকে মানুষের ব্যবহার্য উপকারী শক্তিতে রূপান্তর করে এসেছেন বিজ্ঞানীরা যুগে যুগে। এ থেকেই এসেছে সূর্যের আলো থেকে সৌরশক্তি, পানি এবং বায়ুর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি। কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়! কখনো মৌসুমি ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসলীলা দেখে আপনার কি মনে হয়েছে এর থেকে ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদন করা যাবে? আপনার কাছে একে পাগলামি মনে হলেও এমন একজন মানুষ আসলেই আছেন যিনি এই ঘূর্ণিঝড় থেকেই শক্তি উৎপাদন করতে বদ্ধপরিকর! তার নাম হল লুইস মিচাউদ।
বৃদ্ধ বয়সে রিটায়ার করার পর মানুষ সাধারণত কি করে? তাদের ছোট নাতিপুতিদের সাথে সময় কাটান অথবা খবরের কাগজ পড়েন? কিন্তু ৭২ বছর বয়সী কানাডীয় মিচাউদ এর ধারে কাছেও নেই। তিনি তার সময়ের সিংহভাগ ব্যয় করে চলেছেন টর্নেডো অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রচেষ্টায়। এমনই ঘূর্ণিঝড় তিনি তৈরি করছেন যা থেকে উৎপাদন করা যাবে শক্তি!
মিচাউদ অনেক আগে থেকেই শক্তির বিকল্প উৎস খোঁজার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি যখন ExxonMobil এর এঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন তখন থেকেই তিনি ঘূর্ণিঝড়ের এই চরম গতিবেগের বায়ুপ্রবাহ থেকে শক্তি উৎপাদনের চিন্তা করেন। বায়ুপ্রবাহ উপরের দিকে ওঠার সময়ে যে বাষ্প ঘনীভূত হয় তা থেকে শক্তি সংগ্রহ করা যাবে- এটা ছিল তার তত্ব। কিন্তু তিনি দেখলেন এর চাইতে নিয়ন্ত্রিত একটা ঘূর্ণি তৈরি করে তা থেকে টারবাইনের মাধ্যমে শক্তি সংগ্রহ করা অনেক বেশি সহজ হবে। তার তৈরি প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি হয় ২০০৫ সালে। এর নাম Atmospheric Vortex Engine (AVE) যেটা তৈরি করতে পারে “মিনি-টর্নেডো”। এরপর তিনি নিজের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন যার নাম AVEtech।
মিচাউদ এর তৈরি প্রোটোটাইপকে বলা যেতে পারে একটা ভরটেক্স এঞ্জিন। প্লাইউড দিয়ে তৈরি এই কাঠামোর আকৃতি হল মোটে দুই ফিট লম্বা এবং ৪ ফিট লম্বা। কিন্তু এর ক্ষমতা আছে ছোট ছোট ঘূর্ণি তৈরি করার।
এখন পর্যন্ত সাতটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন তিনি যেগুলো ২০ মিটারের চাইতে ছোট ঘূর্ণি তৈরি করতে সক্ষম। এই প্রোটোটাইপ দিয়ে তৈরি ঘূর্ণি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি সম্ভব নয় কিন্তু মিচাউদ মনে করছেন, যথেষ্ট বড় করে তৈরি করতে পারলে এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এই ঘূর্ণি থেকেই সম্ভব ভবিষ্যতের শক্তির চাহিদা মেটানো। আকাশ-কুসুম চিন্তা মনে হলেও তার এই প্রজেক্ট ইতোমধ্যেই পাচ্ছে পিটার থিয়েল নামের এক বিলিয়নিয়ার এর সহায়তা। এখন দেখার পালা মিচাউদ সত্যি সত্যিই এই অসাধারণ যন্ত্র তৈরি করতে পারবেন কি না।
ঘূর্ণিঝড় কিভাবে তৈরি হয়? মাটির কাছের তাপমাত্রা যখন ওপরের তাপমাত্রার চাইতে কমপক্ষে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয় তখন এই উষ্ণ এবং হালকা বায়ু ওপরে উঠে যেতে শুরু করে এবং এত দ্রুত ঘুরতে শুরু করে যে এ থেকে জন্ম নেয় ঘূর্ণিঝড়। নিজের AVE যন্ত্রে একই রকমভাবে ঘূর্ণি তৈরি করতে মিচাউদ তৈরি করেন একটি সিলিন্ডার এবং এর নিচে থেকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয় উষ্ণ বায়ু। এই বায়ু ঘুরতে ঘুরতে ওপরে উঠতে থাকে এবং বায়ুর সরবরাহ বাড়তে থাকলে এর উচ্চতাও বাড়ে। এর ওপরের অংশে বায়ুপ্রবাহের বেগ এতই বেশি হবে যে টারবাইনের মাধ্যমে এটি শক্তি উৎপাদন করতে পারবে।
এই প্রযুক্তিকে কিভাবে বানিজ্যিকিকরন করা যাবে? বিভিন্ন কলকারখানায় যে উষ্ণ বায়ু তৈরি হয় তা কোনও কাজে লাগে না বরং এদের ঠাণ্ডা করতে অতিরিক্ত পানি লাগে। কিন্তু এই বায়ু যদি সরবরাহ করা যায় AVE মেশিনে ঘূর্ণি তৈরিতে তবে দুই পক্ষই উপকৃত হবে। আর এভাবে তৈরি করা হলে যে ঘূর্ণি উৎপাদিত হবে তার উচ্চতা ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে! আর এত বড় ঘূর্ণি থেকে উৎপাদিত শক্তির পরিমাণও যে অনেক বেশি হবে তা বলাই বাহুল্য। নিউক্লিয়ার শক্তি বা জীবাশ্ম শক্তির চাইতে এর কার্যকারিতার মাত্রা হবে বহুগুণে বেশি।
মিচাউদ নিজের এই প্রযুক্তি নিয়ে অনেক আশাবাদী হলেও এর ব্যাপারে চিন্তিত এবং কিছুটা ভীত হলেন ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান এর অধ্যাপক নিল্টন রেনো। বায়ুমণ্ডলীয় পরিচলন সম্পর্কিত একজন বিশেষজ্ঞ তিনি। AVE এর মাধ্যমে বিশালাকৃতির ঘূর্ণি তৈরি যে সম্ভব এটা তিনি মানছেন। কিন্তু এই দানবকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না তা নিয়ে তিনি যথেষ্টই সন্দিহান। এবং একে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে যে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসতে পারে সেটাই তার দুশ্চিন্তার কারণ।
১,৪৪৩ বার পড়া হয়েছে
গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট।
কিছু তথ্য জানলাম ।
যাক অবশেসে অভিশাপকেও কাজে লাগিয়ে ফেলবে?
জেনে খুব খুশি হলাম।
ঠিক তাই