Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৬/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 923বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর

রাশেদ প্রায় দৌড়ের মত করে হাটছে । এটা একটা রুটিন হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে , প্রতি মানডে তে তার লেট হচ্ছে অফিস পৌছতে । আজকে কিছুতে লেট হওয়া চলবেনা, তাহলে ওয়ার্নিং লেটার পেতে হবে । দৌড়ে সামনে যে ট্যাক্সি পেল তাতে উঠে গেল, বলল চল হাতির পুল ।

স্যার অন্য ট্যাক্সি তে যান । আমার এখন ট্যাক্সি জমা দেওয়ার সময় হইছে  বলল ট্যাক্সি ড্রাইভার।

ইশ যেদিন দেরী হয় সব দিকে দেরী হয় অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে নেমে যাওয়ার উপক্রম করতে ট্যাক্সি ওয়ালা বলে ঠিক আছে স্যার আসেন আপনারে নামাই দিয়া তারপর যামু ।

মনে মনে বেশ কৃতজ্ঞ বোধ করলো ড্রাইভার এর প্রতি খুশি মনে জিজ্ঞাসা করে ভাই আপনার নাম কি ?

পেয়ারে আলম বলল ট্যাক্সি ড্রাইভার

নাম শুনে হেসে ফেললে ও বলল রাশেদ ভাই আপনার নাম সার্থক  যে পেয়ার দিয়ে আমাকে অফিস পৌছানোর চেষ্টা করছেন বহুত শুকরিয়া সে ও কৌতুক এর সাথে বলল ।

ড্রাইভার ও হাসিমুখে মিরর দিয়ে তাকে দেখল ।

হটাত পা সরিয়ে একটু নড়ে চড়ে বসতে একটা ব্যাগ তার পায়ের কাছে পেল, এতক্ষণ উত্তেজনায় সে খেয়াল করেনি

পেয়ার ভাই পিছন এর ব্যাগ টা কি আপনার? রাশেদ জিজ্ঞাসা করলো

নাতো ভাই আহারে কার ব্যাগ ফালায় গেল, খুইলে দেখেন তো ভাইজান কোনো ঠিকানা পান কিনা

কি কোনো জরুরি কিছু আছেনি ভাইজান

পেয়ার আমরা মনে হচ্ছে ভালো বিপদে পড়ে গেলাম হতাশ কন্ঠে বলল রাশেদ।

কি হইছে ভাইজান ট্যাক্সি একটু থামিয়ে রাশেদ এর তাকালো ড্রাইভার ।

ও আল্লাহ গো এত টাকা কার ভাইজান ?

কিজানি দাড়াও দেখি কোনো ঠিকানা পাওয়া যায় কিনা, ব্যাগ এর সাইড পকেট সব খুঁজে কোনো ঠিকানা পাওয়া গেলনা  দুজনে অনেক চিন্তায় পড়ে গেল

আমার আজকের অফিস এর দেরী হয়ে যাচ্ছে, কি যে করব বুজতে পারছিনা, ব্যাগ টা কি থানায় জমা দিব জিজ্ঞাসা করলো রাশেদ ট্যাক্সি ড্রাইভার কে অসহায় এর মত

না ভাইজান পুলিশ এর কাছে দিয়েন না , কোনো ঠিক আছে জানেন আমাদের পুলিশ কত দুই নম্বর, তাছাড়া দেখবেন আপনারে হয়তবা নিয়া লক কইরা রাখব, অনেক টাকা তো যার কাছে যাবেন তার ই এটা করার সম্ভাবনা আছে ।

কেন এটা করবে ? জানো আমার এক বন্ধু বাহিরে থাকে, কানাডায় তার কাছে এক ঘটনা শুনছি, ওদের পেপার এ লিখা লিখি হয়েছে, এক লোক এক বাড়ি কিনার পর রেনোভেট করতে গিয়ে ফ্লোর মাটি খুড়ার পর ওখানে ২০ মিলিয়ন ডলার এর ব্যাগ পেয়েছে, ভদ্রলোক ব্যাগ এর টাকা না দেখে কাছে থানায় দিয়ে এসেছে ।

তাকে পুলিশ হেসে জিজ্ঞাসা করেছে এটা তুমি রাখতে পারতে কেউ তো জানতনা.

তার সুধু একটা উত্তর ছিল এই টাকার মালিক তো আমি না, তাছাড়া কেউ জানত না এটা ঠিক না আমার গড তো জানবে ।

ভাইজান আপনি ও এরকম এখন আপনি ও তো আমারে না শুনায়ে এই টাকা নিয়ে বাসায় চলে যেতে ।

কি যে বল পেয়ার এই টাকার উপর কি আমার অধিকার আছে , বলে রাশেদ হেসে ফেলল।

তাইত যাক আমি নিজের এই উপলব্ধিতে  অনেক হ্যাপি , আমি পরিশ্রম ছাড়া অন্যের সম্পত্তি কখনো পেতে চাইনা ।

অধিকার নিয়ে কে এখানে ভাবে বলেন , সবল দুর্বল এর উপর অত্যাচার করে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, একজনের ন্যায্য সম্পত্তি আরেকজন নিয়ে যায় ভাইজান ।

এখন এটার একটা সমাধান বল পেয়ার , আমার মাথা ঘুরতেছে , এত টাকা কোনদিন একসঙ্গে দেখিনি, আমার খুব  নিজের একটা বিসনেস করার সখ, এই টাকার জন্য হচ্ছেনা , বলা যায়না চল তাড়াতাড়ি কাছের থানায়, এই ব্যাগ থেকে ফ্রি হই, বলা যায়না যদি দুই তিন বান্ডিল নিয়ে আবার পকেট এ ঢুকিয়ে ফেলি  বলে হাসলো রাশেদ।

পেয়ার ও হাসলো, সে বলল এটা করার হইলে আমার না জানাই করতেন ভাইজান , আপনি অনেক ভালো ভাইজান।

আরে না না ভালো মন্দ সবকিছু রিলেটিভ ব্যাপার, আজকে আমার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, ভালো আচরণ করছি, কালকে হয়ত দেখা যাবে আমার জব চলে গেছে, তখন মনে হবে এই টাকার ব্যাগ টা নিয়ে চলে যাই, কম বেশি সাধারণ মানুষ আমরা আমাদের প্রবৃত্যির অধীন  মহাপুরুষ রা সবধরনের অন্যায় কাজ থেকে মুক্ত, সাধারণ মানুষ রা না  এজন্য দেখো যখন কেউ নিজের লোভ বিসর্জন দিতে পারে, কোনো স্যাক্রিফিস করে আমরা অবাক হয়ে বলি মহাপুরুষ ।

একটা কাজ করেন এই টাকাটা পুলিশ এ না দিয়ে আপনার কাছে রাখেন , যখন আপনার মনে হইব  এই লোকের সত্য সত্য  টাকার দরকার তখন এখান থেকে নিয়ে নিয়ে দিলেন ।

আমি তাহলে এই ব্যাগ টা এখানে রেখে যাই, নিয়ম অনুযায়ী এটা তোমার গাড়িতে ছিল, কাজে এটার মালিক তুমি, এখন তোমার যেটা ভালো মনে হয় সেটা কর, তোমার বিবেক বুদ্ধির উপর ছেড়ে দিলাম ।

সর্বনাশ ভাইজান , দয়া কইরা এটা কইরেন না, আপনি এটা কোনো পার্ক এ রাইখে দেন যদি আপনার না লাগে  ।

রাশেদ টাকার ব্যাগ সহ অফিস এর এলেভেটর এ উঠলো, দুশ্চিন্তায় তার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এই ব্যাগ এখন সে কোথায় রাখবে ।

======================================================================
প্রতিদিন ভোর পাচটায় ঘুম থেকে উঠা আলবার্তোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের l খুব ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে ভোরে উঠে মসজিদ এ যেতে যেতে পরে এটা এখন তার ডেইলি রুটিন হয়ে গিয়েছে । যদিও পর পর দুইটা সানডে তে এবার কিছুটা ব্যতিক্রম হয়ে গেল সিস্টার রোসালীন আর তার মেয়ে এভেলিন এর জন্য ।দুই মা মেয়ে যেন পন করে বসেছে তার স্থবিরতা কাটিয়ে ছাড়বে । শুক্র, শনি, রবি একদিন মিস নেই, মাঝে মাঝে উইক ডে তে তারা বানিয়ে নিয়ে আসে অনেক ধরনের খাওয়ার, তারপর চলে জম্পেশ আড্ডা ।আলবার্তো হাপিয়ে যায় মাঝে মাঝে কিন্তু মা মেয়ে কে কিভাবে নিবারণ করবে তা তার মাথায় আসেনা ।

আলবার্তো আপনার ফ্যামিলি তে কে কে আছে ? জিজ্ঞাসা করে এভেলিন

ফ্যামিলি র কথা জিজ্ঞাসা করলে সে সবসময় গম্ভীর হয়ে যায় । ফ্যামিলি র কোনো কিছু নিয়ে কারো সাথে কথা বলেনা, শেয়ার করতে ও পছন্দ করেনা

আমাকে লালন পালন করেছে এই চার্চ এর আগের ফাদার ইগ্নিশিয়াত, বলতে পারো উনি আমার বাবা, আমার মা সব, আমার মা বাবা কে তা মনে ও পড়েনা এখন  কথাটা আংশিক সত্যি , কিন্তু পুরো সত্যি সে কার ও সাথে শেয়ার করতে চায় না ।

ব্রাদার মরগ্যান এসে হই হুল্লোড় সুরু করে দেয়

আসুন আসুন ফাদার আজকের আবহাওয়া অনেক চমত্কার, টেনিস খেলা যাক এদের প্রাণচাঞ্চল্যে সাড়া না দিয়ে পারা যায়না ।

মা মেয়ে কে আজকে খুব সুন্দর লাগছে , সাদা রজনীগন্ধা র মত তাইনা? জিজ্ঞাসা করলেন ব্রাদার মরগ্যান ,

আলবার্তো হেসে মাথা নেড়ে সায় দেয় ।

দুজনে একইরকম বরফ সাদা জর্জেট এর মধ্যে গোলাপী ফুল তোলা সুন্দর ইভনিং ফ্রক পরেছে ।

সিস্টার রোসালীন এর গাল লাল হয়ে গেল প্রশংসা শুনে

আপনারা খেলুন আমরা দেখি, বলল রোসালীন

না না তা হবেনা আসুন আপনি আমার পার্টনার আর এভেলিন আলবার্তো র পার্টনার , বলল আমুদে ভাবে ব্রাদার মরগ্যান , আমরা ওল্ড দুজন একদিকে নবীন রা আরেক দিকে

তাকে ওল্ড বলাতে রোসালীন এর মন খারাপ হয়ে গেল , বরাবর সে কখনো শুনেনা যে তার বয়স হয়েছে, বরং এভেলিন এর সাথে বাহিরে গেলে সবাই বলে ওরা দুই বোন, কেউ মনে করেনা ওরা মা আর মেয়ে ।

আলবার্তো হেসে হালকা গলায় যা বলল তাতে রোসালীন এর হৃদপিন্ড আনন্দে আর খুশিতে যেমন লাফ দিয়ে উঠলো, তেমনি একইসঙ্গে বিস্ময় অভিবুত হয়ে পড়ল , আলবার্তো এধরনের কথা বলতে পারে

আমার তো সিস্টার রোসালীন কে আমার চেয়ে ও অল্প বয়সী মনে হয়, এটা বিশ্বাস করা কষ্ট তার এভেলিন এর বয়সী একটা মেয়ে আছে ।

এভাবে হাসি ঠাট্টা য় এখন আলবার্তো র সময় বেশ কেটে যাচ্ছে । আজকে বিকাল এ চার্চ এ ফাদার ডে উপলক্ষে একটা অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়েছে । অনেক সিস্টার রা কিছু কিছু ফুড তৈরি করে নিয়ে এসেছে যে যার পছন্দ মত ।

এই মেয়েটা কি নাম যেন এশা সে দেখি আজকে ও এখানে । এত অল্প বয়সী মেয়ে সে এখানে তার মা বাবা ছাড়া কি করছে আলবার্তো ভেবে পায়না  মেয়েটা কে কড়া গলায় কিছু বলতে হবে ।
অনুষ্ঠান এর শুরু তে আলবার্তো কে ফাদার ডে এর তাত্পর্য, ফাদার রোল কি হওয়া উচিত, একজন সন্তান এর জীবনে ফাদার এর ভূমিকা কিরকম, এসব নিয়ে কথা বলতে বলতে ভাবলো তাহলে আমার বাবা তো প্রপারলী লালন পালন করেছে , তার কোনো দোষ আমি কেন দেখছি, আমার ও সন্তান হিসাবে একটা দায়িত্ব আছে , আমি কত টুকু পালন করছি ? এসব ভাবতে ভাবতে সে খুব বিষন্ন হয়ে পড়ে ।

“Love…..is a perfect bond of union ” Colossinns 3:14.

বাইবেল এর স্ক্রিপ্চার্স সবসময় যেন তার মনের কথা ই বলে

হটাত পিছন থেকে একজনের কথা বলার আওয়াজ পেয়ে তাকাতে দেখল এশা দাড়িয়ে, আজকে তার মধ্যে কোনো জবু থবু ভাব সে বেশ স্মার্ট আর সাবলীল l কথা ও বলছে বেশ সপ্রতিভ ভাবে হাসি মুখে

ফাদার আমি চিন্তা করছি ব্যাপটিসম করলে কেমন হয় বলল হাসি মুখে কৌতুকের সুরে ।

আলবার্তো খুব ই বিরক্তি বোধ করলো এশার কথা বলার স্টাইল এবং তার টপিকস এ .

উত্তর দিল সে অনেক কড়া ভাবে যাও তুমি বাসায় চলে যাও, মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা কর  এসব নিয়ে চিন্তা করার বয়স এখন ও তোমার হয়নি ।

আয়েশা খুব ই দমে গেল আলবার্তো র কড়া কথা শুনে, কিন্তু সে আজকে পিছু হটে গেলনা সে যেন আজকে জেদ ধরে বসে আছে আলবার্তো র সব ঘটনা শুনে ছাড়বে ।

আমি তো ব্যাপটিসম অনেক লাইক করি ফাদার, একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার মনে হয় আমার কাছে  আপনি কবে করেছেন?

এটা সিনেমা নভেল না যে তুমি রোমাঞ্চ ফীল করবে, এটা তোমার জীবন বোধ আদর্শ বোধ বা লাইফ স্টাইল, ধর্ম আমাদের বেস টা কে মজবুত করে , তুমি যেখানে আছ, যেই রিলিজিওন এ আছ আমি মনে করি আগে ওখানে থেকে পুরা জ্ঞান আহরণ কর, তারপর যদি তোমার ভিতরে র আদর্শের সাথে দন্ধ হয়, তখন চিন্তা করবে রিলিজিওন চেঞ্জ করা বা কনভার্ট হওয়ার ।

সরি ফাদার আমি ঘুনাক্ষরে ও কনভার্ট হওয়ার চিন্তা করিনি, আমি আমার ইসলাম ধর্মে সুখী, আমার জীবন নিয়ে একস্পেরিমেন্ট বা ধর্ম সার্চ করার কোনো ইচ্ছে নেই , আমি সুধু ব্যাপটি সম এ আগ্রহী ।

তবে তুমি প্রতি দিন চার্চ এ আস কেন?

ব্যাপটি সম তখন ই তোমাকে করা হবে যখন তুমি ক্রিশ্চান হতে চাও

আপনার জন্ম কি খ্রীষ্টান ফামিলি তে ?

না সংক্ষিপ্ত জবাব আলবার্তো র

তাহলে আপনার ফামিলি মা বাবা তারা কোথায় ?

এবার সত্যি আলবার্তো বেশ রেগে গেল, মেয়ে টা আসলে কৌশলে তার পারিবারিক হিস্ট্রি শুনতে চাচ্ছে

আমি একজন কনভার্টেড ক্রিশ্চান, মুসলিম ফামিলি তে আমার জন্ম, আমি আমার বাবা মাকে ছেড়ে এসেছি এক পারিবারিক কারণে, তোমার কৌতুহল কি মিটাতে পারলাম, কথাটা কৌতুকের স্বরে বললে গলার স্বরে রুক্ষতা গোপন রইলোনা আলবার্তো র ।

আলবার্তো কোথায় আপনি এভেলিন এসে খুব অন্তরঙ্গ ভাবে তার হাত ধরল, বলল চলুন আমার ফ্রেন্ড এর ব্যাপটিসম, আপনি দেখবেন না

অবশ্যই বলল আলবার্তো অনেক আন্তরিকতার সুরে, সে ও হাত বাড়িয়ে চাপড়ে দিল এভেলিন এর কাধ , তারপর বলল চল

দুজন কে খুব সুন্দর মানিয়েছে মনে মনে ভাবলো আয়েশা, তার মন অসম্ভব বিষন্ন হয়ে গেল  সে তো আসলে এখানে আসে আলবার্তো কে দেখতে, তার না আছে কোনো আগ্রহ ক্রিশ্চান ধর্ম নিয়ে বা ব্যাপটিসম নিয়ে ।

তার আর ও বেশি মন খারাপ হয়ে গেল যখন আলবার্তো তাকে বিদায় সম্ভাষণ না করে হাসতে হাসতে এভেলিন এর হাত ধরে সামনের রুম এ চলে গেল ।

বিষন্ন মনে সে তাদের গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো

==========================================

ছেলেকে এইভাবে বাথরুম এর দরজায় রক্তমাখা অবস্থায় পরে থাকতে দেখে মিজান এর অজ্ঞান হওয়ার মত অবস্থা হলো । চিত্কার চেচামেচি সুরু করলো করলো হাহাকার এর মত করে আলিফ আলিফ বাবা বলে হাত ধরে পালস দেখল, হার্টবিট আছে

ও যাক হার্টবিট আছে বলে জোরে চিত্কার দিল উত্তেজনায়, তারপর দপ্তরীর দিকে ফিরে এক কড়া ধমকের সুরে বলল ” কি ধরনের দায়িত্বহীনের মত কাজ কর তুমি, তোমার স্কুল, তোমার প্রিন্সিপাল, তোমার দরজা বন্ধ করার আগে একবার সব কিছু চেক করা উচিত ছিল না?

সরি স্যার এরকম  এই প্রথম হলো , কখনো তো এরকম হয়না, আজকে একঘন্টা আগে ছুটি হওয়াতে এই গন্ডগোল টা হইলো স্যার

এটা কোনো কথা হলো, বাচ্চার  মুখে রক্ত মারের দাগ এসব কিভাবে হলো, তোমরা বাচ্চাদের খেয়াল করে রাখবেনা

সে স্বভাবে অনেক শান্ত মেজাজ এর ভদ্র মানুষ, কারো সাথে চেচামেচি করার অভ্যাস কখনো নাই, কিন্তু আজকে ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে জ্ঞান শুন্য এর মত হয়ে গেছে lতাড়াতাড়ি ছেলেকে পাজাকোলা করে গাড়িতে উঠালো, ইশ এখন ড্রাইভার দরকার ছিল, আলিফ ধরে রাখতে হবে,

ফোন করার চেষ্টা করলো  পিজি হাসপাতাল এর ইমার্জেন্সি তে, তার হাত থেকে ফোন পড়ে গেল হাতের কাপুনিতে   হে আল্লাহ আমার ছেলেটাকে ঠিক রেখো, ভিতরে সে ফুফিয়ে উঠলো ।

দপ্তরী এসে তার হাত ধরল,

স্যার আমি পিছনে ভাইয়া রে নিয়া বসি, আপনি তাড়াতাড়ি গাড়ি চালান, অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য অপেক্ষা করলে দেরী হইব স্যার , হাসপাতাল কাছে আছে চলেন ,

দুজনে আলিফ কে নিয়ে রওয়ানা করলো হাসপাতাল এর দিকে, গাড়ি ছুটল ঝড়ের গতিতে

কেয়া অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে আলিফ আর মিজান এর জন্য, দুজনের চারটার মধ্যে বাসায় চলে আসার কথা , এখন বাজে ছয়টা , অশান্তি আর অস্ত্থিরতায় সে বারান্দায় পায়চারী করছে, যতবার মিজান কে ফোন করছে বার বার, কেন যে ফোন ধরছেনা  টেনশন আর ধরে রাখতে পারছেনা কেয়া

আয়েশা তোর বাবা ফোন ধরছেনা কেন রে? আয়েশার ঘরে এসে জিজ্ঞাসা করে, এই মেয়েটার যে কি হয়েছে সারাক্ষণ মুখ ফুলিয়ে থাকে ,

এই তুই কি ঠিক আছিস, সারাক্ষণ মুখ গম্ভীর দেখি কেন? ভাত ও তো খেলিনা কলেজ থেকে এসে

বাবা র সঙ্গে নিচ্চয় ঝগড়া করছ, এইজন্য বাবা রাগ করে ফোন ধরছেনা, বলে একটু হাসলো আয়েশা কেয়ার দিকে তাকিয়ে

যাক আয়েশা ঠিক ই আছে কেয়া নিচ্চিন্ত বোধ করলো , সে ও হেসে জবাব দিল তোর বাবা আর আমাকে ঝগড়া করতে দেখেছিস পাজি মেয়ে ।

দেখত ফোন করে পাস কিনা, আমি এর মধ্যে দশবার ফোন দিলাম, আমাকে তো একবার ফোন দিবে যত বিজি থাকুক

ও মা বাবার  তো আলিফ কে নিয়ে শপিং এ যাওয়ার কথা,

তাই বলে কি ফোন ধরবেনা, কোনদিন এমন হয়নি যে তোর বাবা আমার ফোন পিক করেনি ,

জানি তুমি বাবার লাইলী, শিরি জান প্রাণ সব বলল আয়েশা কৌতুকের স্বরে

মারব থাপ্পর বাবা মার সাথে এভাবে মজা করে, কেয়া ও মজা করে চুল টেনে দিল আয়েশার

মিজান হাসপাতাল এসেছে প্রায় পচিশ মিনিট হয়ে গেল, সে পাগল এর মত ছোটাছুটি করছে, কোনো ডিউটি ডাক্তার নাই, একজন নার্স কাম রিসেপশনিস্ট এর মত বসে আছে, সে অনবরত ফোন এ কার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে ।দুইবার সামনে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে ও পারেনি, সে হাত ইশারা করে বুজাতে চাইল একটু পরে শুনছি।

আর বলিসনা তোর ভাই এর যে পেট হইছে তারপর খাওয়া দাওয়া র কোনো কন্ট্রোল নাই, প্রতিদিন টেবিল এ মাংশ লাগবে, ওপাশে অন্য জন কিছু বলছে আর সে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে ।

মিজান আর ধৈয্য ধরে রাখতে পারলনা, সে গিয়ে নার্স এর সামনে ডেস্ক এ জোরে হাত দিয়ে শব্দ করে বলে ফেলল , তোমাকে পে করা হচ্ছে কাজ করার জন্য, ফোন এ গল্প গুজব এ মেতে থাকার জন্য না , সে জোরে চিত্কার করে ধমকের সুরে কথা বলতে লাগলো,

so   irresponsible  careless  আমাদের হাসপাতাল এর ডাক্তর নার্স, একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের কোনো ফীলিংস নেই

তার চেচামেচিতে আশেপাশে নার্স , ওয়ার্ড বয় রা উকি ঝুকি মারতে লাগলো ।

নার্স ভয় পেয়ে গেল এবার , তাড়াতাড়ি ফোন এর ওপাশে ব্যক্তিকে বলল পরে ফোন দিচ্ছি বলে ফোন কেটে দিল, একটা ফর্ম বাড়িয়ে দিল, এটা ফিল আপ করুন আগে ।

এবার মিজান এর মাথায় পুরা আগুন ধরে গেল , সে বিরাট এক ধমক দিল, নার্স টা কেপে গেল , কবে হবে তোমাদের সেন্স, দেখো ও আমার ছেলে , ও একঘন্টা ধরে অজ্ঞান, ব্লিডিং হচ্ছে, তুমি স্টুপিড আমাকে ফর্ম দিচ্ছ ফিল আপ করার জন্য ।  আগে আমার ছেলেকে এডমিট কর, ফার্স্ট এইড এর ব্যবস্থা কর, আমি তো চলে যাচ্ছিনা, ফর্ম ফিল আপ করতে পারব ।

সরি স্যার এটা রুলস এর কারণে , আপনার টেনশন বুজতে পারছি, দেখি তাড়াতাড়ি কি করা যায়

ফোন এ কাকে বলল “নিতাই তাড়াতাড়ি স্ট্রেচার নিয়ে অস, সঙ্গে ইমার্জেন্সি ফার্স্ট এইড ..কুইক

এবার খুব শোরগোল সুরু হয়ে গেল হাসপাতাল এ ওয়ার্ড বয় এবং দুজন এসে তাড়াতাড়ি স্ট্রেচার এ আলিফ কে শুইয়ে দিল, তাড়াতাড়ি এমার্জেন্চি তে নিয়ে ব্যান্ডেজ করলো, আলিফ এখন ও অচেতন, একই সঙ্গে সালাইন আর অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হলো ।

মিজান হাউ মাউ করে কিছুক্ষণ কাদলো, মাথা নিচু করে একমনে দোয়া করতে করতে শুনলো কেউ একজন ডেকে কিছু বলছে

তাকিয়ে দেখে ফ্রন্ট ডেস্ক এর সেই রিসেপশনিস্ট তার হাতে এক কাপ কফি আর প্লেট কিছু সিঙ্গারা সমুচা , মেয়েটি বলল নিন কফি টা খেয়ে নিন, নিচ্চয় কাজ থেকে সরাসরি ছেলের স্কুল এ গিয়েছেন , রিলাক্স হওয়ার সুযোগ হয়নি ।

থ্যান্কস এখন খেতে পারবনা, প্লিস নিয়ে যান এসব,

টেনশন করবেননা ডাক্তার চলে এসেছে, উনি দেখছেন এখন আপনার ছেলে কে , কিছুক্ষণের মধ্যে তার জ্ঞান ফিরে আসার কথা, আপনি ফ্রেশ হন, হাত মুখ ওয়াশ করুন ,আপনার ফামিলি কে জানিয়েছেন ?

ওহ মাই গড আমি ওদের কথা পুরাপুরি ভুলে গেছি, প্যান্ট এর পকেট হাতড়ে বের করে দেখল, অনেক বার বাসা থেকে ফোন , কিভাবে কেয়া কে বলবে বুজতে পারছেনা , ভাবতে ভাবতে বাসার নম্বর ঘুরালো ।

এবার কেয়া আয়েশা দুজনে অনেক টা পাগলের মত হয়ে গেল, এখন বাজে রাত নয়, এখন ও মিজান আলিফ এর কোনো খবর নেই, কেয়া একে একে মিজান এর যত কলিগ এর নম্বর তার কাছে  আছে ফোন বুক এ সবাইকে ফোন করলো, সবাই খুব বিস্মিত কন্ঠে বলল উনি তো ৪ টার আগে বের হয়ে গেছেন আজকে অফিস থেকে ।

আয়েশা আলিফ এর সব বন্ধু দের কে একে একে ফোন করলো কেউ কিছু বলতে পারলনা , একজন সৌরভ ও বলল আমি তো ওকে আমাদের গাড়িতে আসতে বলেছিলাম, ও বলল বাবার জন্য ওয়েট করছে

দুজন একজন বারান্দায় আরেকজন সিড়ি তে গিয়ে বারবার দেখে আসছে ।

হটাত দুজনকে চমকে দিয়ে টেলিফোন বেজে উঠলো জোরে ,

কেয়া হ্যালো বলতে শোনা গেল মিজান এর গলা , তার গলার স্বর অনেক ক্লান্ত, বিদ্ধস্ত মনে হছে, মিজান মনে হচ্ছে হাপাচ্ছে, তার হার্টবিট এর শব্দ পরিস্কার শুনতে পাচ্ছে কেয়া

কি হয়েছে কেয়া প্রায় চিত্কার দিয়ে উঠলো, সে আর উত্কন্ঠা চেপে রাখতে পারলনা, তোমরা কোথায়? দুর্বলতা আর টেনশন এ মিজান এর  হাত থেকে ফোন পড়ে গেল ।

নার্স টি তাড়াতাড়ি ফোন নিয়ে বলল , আমি হাসপাতাল থেকে বলছি, আপনার স্বামী আর ছেলে এখন এই হাসপাতাল এ । ফোন এ কেয়ার কান্নার আওয়াজ শুনে মিজান নার্স এর হাত থেকে ফোন নিয়ে বলল , কেয়া তোমরা খাওয়া দাওয়া করে দরজা ভালো করে বন্ধ করে শুয়ে পড়, আমি ঠিক আছি, আলিফ এর ছোট একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে স্কুল এ , আমি ওকে নিয়ে এখন হাসপাতাল এ ।

এ তুমি কি বলতেছ কাদতে কাদতে মাটিতে বসে পড়ল সে , আয়েশা এসে ফোন ধরল।

মা তুমি ফোন এর কাছে থেক, আমি কতক্ষণ পর পর খবর জানাব, তুমি তোমার মাকে খেয়াল কর, কোনরকমে বলল মিজান ।

বাবা কোন হাসপাতাল বল আমরা ও আসব, কথা শেষ না হতে ই মিজান এর ফোন কেটে গেল বা রেখে দিল

অজু করার পর একটু হালকা বোধ করলো, সে হাসপাতাল এর ভিতরে মসজিদ এ গিয়ে ইশা র নামাজ পড়ল, নামাজ পড়া শেষ করে সে মোনাজাত করতে করতে মনে হলো, আল্লাহ তার অলিফ কে সুস্থ ভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরিয়ে দিবে তার কাছে, মনে এই assurance  আসাতে  সে অনেকক্ষণ পর বেশ নিচ্চিঁত বোধ করলো ।

আলিফ এর রুম এর কাছে আসতে জানালা দিয়ে দেখল সে কথা বলছে ডাক্তার এর সঙ্গে অল্প অল্প করে।

দয়াময় আমার আল্লাহ , সেন্স ফিরিয়ে দিয়েছে আমার ছেলের ।

খুশিতে আবার ফোন করলো বাসায়, এর পরে  আলিফ এর রুম এ ঢুকে পাশের বেড এ গভীর ভাবে ঘুমিয়ে পড়ল মিজান সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে ।

(পরবরতীতে )

৯৬৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    মিজান আর ধৈয্য ধরে রাখতে পারলনা, সে গিয়ে নার্স এর সামনে ডেস্ক এ জোরে হাত দিয়ে শব্দ করে বলে ফেলল , তোমাকে পে করা হচ্ছে কাজ করার জন্য, ফোন এ গল্প গুজব এ মেতে থাকার জন্য না , সে জোরে চিত্কার করে ধমকের সুরে কথা বলতে লাগলো,

    so irresponsible careless আমাদের হাসপাতাল এর ডাক্তর নার্স, একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের কোনো ফীলিংস নেই

    তার চেচামেচিতে আশেপাশে নার্স , ওয়ার্ড বয় রা উকি ঝুকি মারতে লাগলো ।

    হ্যাঁ ,
    একমত এ বিষয়ে
    মানুষ মারা যাচ্ছে
    আর ওরা বলে ফরম লিখতে ,
    কি একটা অমানুষিক ব্যাপার ।

    অনেক ভাল লাগা।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ে ফেললাম। ভাল লাগল।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top