Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ০৯/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 910বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর

টানা দুইসপ্তাহ জমে আর ডাক্তার এর টানাটানি চলল রাজীব  কে নিয়ে  । রুবিনারকয়কদিনকরুবিনারএইরুবিনার অবস্থা টা এইসময় ছিল অচেতনের মত। অনুশো চ নয় তার ভিতর টা পুড়ে যেতে থাকলো। নিজেকে ধিক্কার   দিতে লাগলো বারং  বার। ঘরের  দরজা জানালা সব বন্ধ করে আচ্ছন্নের মত পড়ে রইলো সে। সে রাজীব কে দেখতে হাসপাতাল ও  গেলনা।

দেওয়ালে মাথা ঠুকতে লাগলো বেদনায় গ্লানিতে। তার বাবা তাকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে রাখেন আরেক দিকে। রহিম জামাল  তারা কি ঠিকমত খাচ্ছে কিনা আসার সময় তাদের কে কোনো টাকা পয়সা দিয়ে আসেনি। এই ত্রিমুখী টেনশন এর ভারে সে ও অসুস্থ হয়ে পড়ল।

আহ  হৃদয়ের ভারে সে অবসন্নবোধ হয়ে পড়ল। আল্লাহ তুমি জানো  কেন আমি এরকম করেছি। সে বুজলো আমরা মানুষ। কেউ আমরা নিয়তির বাহিরে যেতে পারিনা। সে অনেক চেষ্টা করেও অসহায় জামাল এর ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলনা।

প্রভু আর আমি কোনো চেষ্টা করবনা এমন কিছু যা আমার সমাজ কে আঘাত করে। যা আমার বাবাকে কষ্ট দিবে। সর্বপরি রাজীব যদি ফিরে আসে আবার তার জীবনে আর কোনো অবহেলা রাজীব কে করবেনা।

অনেকদিন পরে সে আজকে ফজর এর নামাজ পড়ল। মোনাজাত করার সময় আজকে সে বারবার পড়ল আমান্তুবিল্লাহে কামা হুয়া বিযাসমিহি অসিফাতিহি ওকাবিল্তু জামিয়া…যা কিছু ভালো মন্দ যখন আসে তোমার তরফ  থেকে আজ থেকে নাও তুমি আমার ভার নাও প্রভু। মোনাজতে কাদতে কাদতে জায়নামাজে সে এলোমেলোভাবে শুয়ে পড়ল। অনেকদিন পরে সে কিছু টা হালকা বোধ করলো মনে হলো আল্লাহ তার কথা শুনেছে। কিছুটা নির্ভরতায় তার পালনকারী আল্লাহ এর উপরে  ঘুমিয়ে পড়ল জায়নামাজ এ।

হাসপাতাল এ পৌছতে সুমিত্রার সাড়ে আটটা বেজে গেল। ইশ আজকে ও দেরী হয়ে গেল। আজকে নিচ্চয় রেজিস্টার স্যার অনেক রাগ করবে। ভগবান  আজকে যেন স্যার একটু দেরী করে আসে তাড়াতাড়ি কমন রুম এ ব্যাগ টা রেখে গনেশ এর মূর্তি টা বের করে ছুয়ে আবার কাবার্ড এ রেখে তাড়াতাড়ি ফিট ফাট হয়ে ওয়ার্ড এ আসল।
সুমিত্রা  বের হয়ে আসল ওয়ার্ডে রাতের জাগরণ আর ক্লান্তি মুসে। ওয়ার্ডে এসে সে ভুলে গেল আপনার কথা তার অসুস্থ মেয়ের কথা তার অসহায় পিতার কথা।

————————————————————————————————————————————————————-

ঠিক সেই সময়ে বেজে উঠলো ফোন হাসপাতাল থেকে। রহিম এর গলা শোনা গেল।

আপা ভাইজান এর জ্ঞান ফিরা আসছে আপনাগোরে খোজে বলল রহিম। আপনি খালুজান রে নিয়া শিগগির আসেন।

রুবিনার এখন চোখ জেপে ঘুম আসছে। ভিতরে সে খুব হালকা বোধ করছে। সে জানে তার আল্লাহ এখন করছে রাজীব এর তত্ত্বাবধান আর তার খেয়াল। সে ফোন রেখে নিছিন্তে বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়ল আবার।

যেই সময়ে রাজীব এর সেন্স ফিরে আসছিল ঠিক একই সময়ে শহরে আরেক কোনে দরিদ্র বাসস্থানে একটি শিশু পৌ ছে গে ছে জীবন মৃত্যুর সন্নিকটে। সে সুমিত্রা র ৪ বয়স  এর মেয়ে অপর্ণা। হতভাগ্য শিশু টির না ছিল কোনো খাওয়ার না কোনো অসুধ।

রাজীব এর সারাপাশে প্রচুর খাওয়ার ফলমূল সব নষ্ট হয়ে গেসে। নার্স এসে সব ফেলে দিল। রাজীব উদাস হয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে রইলো। তার পক্ষে ঘুনাক্ষরে কল্পনা করা সম্ভব না তার  এই নষ্ট   খাওয়ার  এর কিয়দংশ আর তার ফেলে দেওয়া অসুধ এর যত্সামান্য যদি এই শিশু অপর্নাকে দেওয়া যেত সম্ভবত বেছে যেত। শিশু টি মা মা করে কানলো কিসুক্ষন তারপর অসুস্থ শরীরে টলমল পায়ে পাকঘরে আসলো। খুজলো  সবজায়গায় যদি কোনো খাওয়ার পাওয়া যায়। মোড়া এনে তার উপর দাড়িয়ে উপরে কাবার্ড খুজলো যদি মা এখানে মা তার প্রিয় বিস্কুট ক্যান্ডি মিমি লুকিয়ে রাখে। কিসু না পেয়ে কানতে লাগলো। তার নানার কানে কান্নার আওয়াজ গেলনা। কেননা মাঝে মাঝে তিনি কানে একেবারে শোনেন না। মোড়া থেকে নামতে মেয়েটি পড়ে গেল মাটিতে। পড়ে ই থাকলো অসহায় শিশু টি। একসময় সে জ্ঞান হারালো।

সুমিত্রা র যে কি হয়েছে  আজকে বারবার কাজ ভুল করছে। মনের মধ্যে একটা অস্থির ভাব। এক রোগীর জন্য আপেল কাটতে গিয়ে কেটে ফেলল আঙ্গুল।

আহ ভগবান শক্তি দাও ভিতর থেকে হাহাকার এর মত বলে।

মনোয়ারা বেগম যত্ন করে ব্যান্ডেজ করে দিলেন। কপালে আদর করে দিয়ে বললেন

কি হইছে গো মা আজকে তোমার ? তোমার মাইয়া ভালো আছে  ?

তার বুকটা ধক করে উঠলো। আজকে একবার ও ফোন করা হয়নি ভাবিরে খবর নিতে পারেনি  মেয়েটার। তার ঘরে এখন ফোন নাই। তিন  মাসের বিল  বাকি। লাইন কেটে দিছে।

রাজীব  উদাসীন  হয়ে রুবিনা র কথা  ভাবতে  লাগলো  । ঠিক সেই সময়ে রুবিনা  এসে পৌসলো রাজীব এর দরজায়।সে হালকা একটু সেজেছে আজকে । রাজীব এর নীল্ কার্ডিগান পরে আসলো রহিম এর কিনা  সাদা ড্রেস এর সঙ্গে। রাজীব  খুশি  হয়ে  শোয়া থেকে উঠে বসলো।

রহিম একপাশে দাড়িয়ে আপেল  কাটছিল রাজীব এর জন্য।

দুজনে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলো  এই অপুরূপ মেয়েটির  দিকে।

(পরবর্তীতে)

৯৬৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    “দুজনে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলো এই অপুরূপ মেয়েটির দিকে।”

    লাইনটা কাব্যময় হয়ে উঠেছে,
    বেশ ভাল লেগেছে

    দুই জনই আবার প্রেমে পরলো নাতো?

    পরবর্তী প্রকাশের প্রতিক্ষায়…..

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম সাথে আছি।

  3. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার উপন্যাসটি দীর্ঘ মনে হলো অনেক দিন ধরে পড়ছি ।
    সাথেই আছি ।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    উপন্যাস টির আগের পর্ব পড়া হয়নি… সময় করে পড়তে হবে
    অ অনেক ভাল লিখেন, শুভকামনা

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top