Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ২৩/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1178বার পড়া হয়েছে।

পূর্ব প্রকাশের পর

আফরোজা যখন যেখানে থাকে সেখানে প্রকৃতি হাসতে থাকে l আসে পাশে সব মানুষ কে হাসি ঠাট্টা আদর আপ্পায়ন দিয়ে ভরিয়ে রাখা যেন তার একমাত্র কাজ l দেখতে শুনতে সে যে খুব সুন্দরী ত়া নয়।

আফরোজা দেখতে  মধ্যমানের সুন্দরী l কিন্তু অনেক সুন্দরী মেয়েদের কেও তার পাশে নিস্প্রভ মনে হয় , তার প্রাণ প্রাচুর্য্য ভরা ব্যক্তিত্বের কারণে  ।   আফরোজা ছিল আশফাক এর সহপাঠি, এমন কোনো ছেলে ছিলনা তাদের ক্লাস এ যে আফরোজা কে অপছন্দ করত, বরং এভাবে প্রতিটা ছেলে ছিল তাদের ক্লাস এ আফরোজা র একতরফা প্রেমিক l কিন্তু আফরোজা কখনো এসব খেয়াল করত কিনা সন্দেহ, বা খেয়াল করলে ও এসব নিয়ে মাথা ঘামাতনা l সাধারণ মেয়েদের মত সাজগোজ, অলংকার, সুন্দর ড্রেস পরা এসব থেকে সে অনেক দুরের মানুষ ছিল l তার সময় কাটত অন্যের সাহায্য করে l রাস্তায় কে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে, মানুষ তাকে দেখে দেখছেনা, আফরোজার কাজ হবে তত্ক্ষনাত তাকে হাসপাতাল এ নিয়ে যাওয়া, তার সর্বধরনের চিকিত্সার বন্দোবস্ত করা l এই সময়ে দরকার হলে সে তার ফাইনাল পরীক্ষা বাদ দিয়ে এই কাজ করবে ।

সহপাঠির নোট তৈরি করে দেওয়া, প্রাকটিক্যাল খাতার ড্র করে দেওয়া, তার কোনো ক্লান্তি ছিলনা, কোনো অবসর ছিলনা. অনেক ছেলে যেকাজ করতে সাহস করেনা সে কাজ সে মেয়ে হয়ে ও করত অবলীলায় সাহস এর সাথে l দেখা গেল রাস্তায় গুন্ডারা ধরে কোনো একটা ছেলে মারধর করছে, সমস্ত রাস্তায় পিনপতন স্তব্দতা বিরাজ করছে , কেউ সামনে যেতে সাহস পাচ্ছেনা , পুলিশ পিছনে দাড়িয়ে আছে , সে দৌড়ে অবলীলায় যে কোনো একজনের হাত ধরে কড়া গলায় জিজ্ঞাসা করবে

“কি হয়েছে? ওকে আপনারা এভাবে মারছেন কেন? সবাই হতভন্ব হয়ে যেত l সবার হাত থেকে অস্র পড়ে যেত l  এমনকি রাস্তার গুন্ডা মাস্তান রাও তাকে সালাম দিত, ভয়ে না ভালোবেসে, শ্রধায় ।

আশফাক এর সাথে তার পরিচয় গাড় হয়েছে একটা ঘটনাতে l একদিন ভার্সিটি তে যাওয়ার পথে তুমুল বৃষ্টি, রিকশা র জন্য দাড়িয়ে আছে আশফাক, তখন তার সামনে একটা রিকশা থামল, দেখে তাতে আরোহী আফরোজা ।

এই তুমি ফিসিক্স ২য বর্ষ , বি সেকশন তাইনা? জিজ্ঞাসা করলো আফরোজা রিকশা থামিয়ে ।

সে ভালো করে ই চিনে আফরোজা কে কিন্তু কখনো যেচে আলাপ করতে যায়নি , কেননা সবসময় দেখত আফরোজা অনেক ছেলেবেষ্টিত হয়ে থাকত, মনে মনে এসব বড়লোকের আধুনিক মেয়েগুলি কে খুব অপছন্দ করত l আফরোজা র সাথে কথা হওয়ার পর তার চিন্তা র জগতে ব্যাপক পরিবর্তন হয় l সে পরে খুব অনুশোচনা বোধ করেছিল এরকম অপূর্ব মেয়ে সম্পর্কে কত নেগেটিভ ধারণাই  না করেছিল ।

আফরোজা অবশ্য তার নাম জানতনা, জিজ্ঞাসা করতে বলল ওর নাম

আরে আস, বৃষ্টিতে ভিজছ কেন ? রিকশা তে আস বলে একটু সরে জায়গা করে দিল।

আশফাক আপত্তি করছিল উঠতে, তখন একটা বকা দিয়ে বলল আমাকে তোমার একটা ছেলে বন্ধু র মত মনে কর মেয়ে মনে না করে ।

সেটা কিভাবে সম্ভব মনে মনে আশফাক বলে দেখতে শুনতে এত তা মেয়েলি মেয়েকে কিভাবে ছেলে মনে করবে ।

রিকশাতে যেতে যেতে আশফাক এর যেটা হলো আর সবার মত সেও আফরোজা র প্রেমে পড়ে গেল l এরপর থেকে তার প্রতিদিন এর কাজ হলো ক্লাস এ প্রফেসর দের লেকচার ফলো না করে সারাক্ষণ বিভিন্ন  ভাবে আফরোজা কে লক্ষ্য করা এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা l কিন্তু আফরোজা কে দেখলে মনে হবে সে আশফাক কে চিনেনা বা খেয়াল ই করছেনা l সব সময় কোনো না কোনো কাজে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখত ।

এ হেন আফরোজা প্রেমে  পড়ল  খুব সাদামাটা মধ্যবিত্ত ঘরের দেখতে শুনতে সাধারণ এক ছেলের l না হলে তখন তাদের ক্লাস এ অনেক সুদর্শন, হ্যান্ডসাম ছেলেরা ছিল যারা আফরোজা র জন্য দেওয়ানা ছিল । রাকিব, হায়দার , নাফিস এদের কারো বাবা ছিল এম পি , কেউ বা ছিল বিরাট বিজনেস ম্যান এর ছেলে।রে শুনেছে ফাইনাল পরীক্ষার আগে বিয়ে করে ইউ এস চলে গেছে এবং ঐখানে সেটল করেছে l সেই আফরোজা কে প্রায় সাত বছর পরে এখানে এভাবে দেখবে ভাবতে পারেনি ।

হটাত আফরোজা র নজর পড়ল এইদিকে , তাকিয়ে রইলো তারপর সানগ্লাস খুলে ভালো করে দেখার পর চিত্কার করে দৌড়ে এলো

ওহ মাই গড আশফাক আমি তো তোমাকে চিনতে পারিনি, এত বড় ভুড়ি হয়েছে চিনব কিভাবে ?

আশফাক অপ্রস্তুত হয়ে পেট চেপে দাড়ানোর চেষ্টা করলো .তারপর হেসে ফেলল।

বলল তুমি একেবারে চেঞ্জ হওনি ? সেই আগের চেহারা, একই ব্যবহার ।

সেটা বাহ্যিক ভাবে ভিতরে তুমুল পরিবর্তন হয়েছে ।

কি ধরনের বলে হাসলো আশফাক

তুমি কি একা নাকি ? কক্স বাজার এ বিয়ে করনি ?

দুইবছর হলো বিয়ে করেছি, বউ আছে, ও ফ্রেশ হচ্ছে আমরা মাত্র এসে পৌছলাম ।

তোমার কি খবর বর আর ছানা পোনা কই?

তোমাকে দেখে সব আগের কথা মনে পরে যাচ্ছে আশফাক, সেই ভার্সিটি লাইফ এর কথা, সবার কথা, রিতা, শারমিন, অর্ণব, জামিল ..সবাই কেমন আছে এখন?

কার ও সাথে যোগাযোগ নাই এখন, আগে তোমার কথা বল বলল আশফাক ।

আমার বলার কিছু নাই, চেয়ে চেয়ে দেখি, সবাই চলে যায় আমার বলার কিছু নাই..হেসে হেসে গান গাইলে ও শেষ মুহুর্তে মনে হলো হতাশায় আর দুখে গলার স্বর কিছু তা ভেঙ্গে গেল ।

কি ব্যাপার বলত?

আমার আর আলম এর ছাড়াছাড়ি  হয়ে গেছে দুবছর হলো ।

বল কি কিভাবে ? আশফাক এর মনটা সত্যি বেদনায় ভরে গেল, তোমাদের এত ভালবাসার বিয়ে।

আমাদের একমাত্র ছেলে সিয়াম এর জন্মের পর থেকে সম্পর্ক খারাপ হতে সুরু করছিল , সিয়াম  মারা যাওয়ার  পর থেকে ও আমাকে সহ্য করতে পারছিলনা, সব সময় খুব ঝগড়া করত, জিনিস পত্র ভাগ্চুর করত l শেষে ঘরে যখন থেকে ড্রিংক করা সুরু করলো, তখন থেকে আমি ও আর সহ্য করতে পারছিলামনা l দিন রাত আমরা চিত্কার করে ঝগড়া করতাম আশফাক l   এর পর হয়ে গেল ছাড়া ছাড়ি l.খুব বাজে সময় গেছে আমার লাইফ এ আশফাক, বলল সে ভাবলেশ হীন গলায়, বুঝা যাচ্ছে কথা গুলো বলতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছে তবু সে কষ্ট কাওকে দেখতে দিতে চাচ্ছেনা, নিজেকে খুব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে l

আশফাক এর মনটা সহানুভূতি আর বেদনায় ভরে গেল .তার একহাত নিজের হাতে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনার দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল ” থাক এসব নিয়ে আর ভেবনা , দেখে শুনে আরেকটা বিয়ে কর।

নিলুফা অনেকক্ষণ হলো আশফাক এর জন্য ওয়েট করছিল, তাকে না দেখে সে বের হয়ে আসল হোটেল থেকে , এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পেল আশফাক আর আফরোজা খুব অন্তরঙ্গভাবে দাড়িয়ে আছে . এ মেয়ে কে? আশফাক কি এর সঙ্গে দেখা করার জন্য এখানে এসেছে ।

তার বুকে ছোট একটা ধাক্কার মত লাগলো ।

(পরবর্তীতে )

১,২৪০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    আশফাক এর মনটা সহানুভূতি আর বেদনায়
    ভরে গেল .তার একহাত নিজের হাতে নিয়ে মাথায়
    হাত বুলিয়ে সান্তনার দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল ”
    থাক এসব নিয়ে আর ভেবনা ,
    দেখে শুনে আরেকটা বিয়ে কর।

    উত্তম পরামর্শ
    এ পর্ব ভাল লাগল , সাথেই আছি ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী পবের জন্য।

  3. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    সাথে আছি-
    অনেক অনেক ভাল লাগা।

  4. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সবাইকে মত প্রকাশের জন্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top