Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ভুতের বাড়ি

লিখেছেন: সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্ | তারিখ: ২৯/০৬/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1267বার পড়া হয়েছে।

চৈতি আমার খুব বন্ধু। তার বাবা একটি বাড়ি কিনেছেন ভূতের গলিতে। খুব পুরনো একটি বাড়ি। কম দামে পেয়েছেন বলে তাড়াতাড়ি করে কিনে ফেলেছেন বাড়িটা। কবে উঠবে বাড়িতে সেই আনন্দে চৈতিরা ছটফট করছে। একদিন তারা কেনা বাড়িতে গিয়ে উঠল। বাড়িটির দেয়ালে ও ছাদে অসংখ্য ছিদ্র। চামচিকারা উড়াওড়ি করছে। ঘরভর্তি পোকামাকড়ের বাসা। বাড়ির দেয়াল কাত হয়ে আছে। মনে হয় একটু ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে। বাড়ির চারপাশে জঙ্গল। বাড়ির এক কোনে আছে দুটি কদম গাছ আর এক কোনে আছে একটি তেঁতুল গাছ। ভুতুড়ে পরিবেশ। তারপরেও খারাপ লাগছে না চৈতিদের। কারণ বাড়িটা এখন নিজেদের। তাই অনেক আনন্দ।

গভীর রাত। সবাই ঘুমিয়ে আছে। ‘চৈতির বাঁবা বাঁড়ি আঁছেন্নি। অ চৈতির বাঁপ, বাঁড়ি আঁছেন্নি।’ গম্ভীর গলায় কে যেন ডাকছে।

কথাগুলো কয়েকবার কানে এলেও চৈতির বাবা তেমন দাম দেয়নি। চৈতির বাবা তো আরও কেউ থাকতে পারে। কিন্তু মশারী ফাঁক করে যখন বলল, ‘চৈতির বাঁবা ঘুমাইছেন্নাকি, উঁঠেন।’ তখন চৈতির বাবা চোখ মেলে তাকালেন। দেখলেন, মশারীর বাইরে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ছায়ামানুষ! হাত পা, শরীর, মাথা অষ্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চৈতির বাবা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, কে আপনি, কে!
‘আঁমি বাঁড়িঅলা। এই বাড়ির মালিক আমি। হুঁট করে বাঁড়িতে উইঠা পঁড়লেন দেঁহি, আঁমার সঙ্গে কোন যোঁগাযোগই করলেন না, ব্যাঁপারটা কি, কিছুই ত বুঁঝতে পারতেছি না আঁমি, বলল ছায়ালোকটি।
চৈতির বাবা মোচড় দিয়ে উঠে বসলেন বিছানার এক কোণে। মশারীর একটা অংশ স্ট্যান্ডের উপরে রেখে বললেন, আচ্ছা বসেন ভাই, বসেন। একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বসতে বললেন তিনি। ছায়ালোকটা ডান-বাও তাকিয়ে বললেন, ‘সঁংসার তো ভালই পাঁতছেন দেঁখছি। বাঁড়ি কই আঁপনের।’ চৈতির বাবা অবাক হয়ে নরম গলায় বললেন, এত রাতে এসে আপনি বাড়ি-ঘরের খবর নিচ্ছেন, আগামাথা কিছুই ত বুঝতেছি না ভাই। আপনি কে বলুন ত!
‘অঁ ঠিকই কঁইছেন আঁপনি? আঁগামাথা কিঁছুই বুঝতেছেন না? চোঁখ দুটি বন্ধ করেন। আঁগামাথা বুঁঝাই।’ চৈতির বাবা কথাামতো বন্ধ করলেন চোখ। একটু পরেই লোকটি ধীরে ধীরে বলল, এঁবার চোখ খুলুন। চৈতির বাবা চোখ খুলেই ‘ওরে আল্লারে’ বলে খাট থেকে উপুড় হয়ে পড়ে গেলেন মাটিতে।

চৈতির মা’র ঘুম ভেঙে গেল। আয় হায়! এ কি অবস্থা কী হয়েছে আপনার, এসব বলে কেঁদে কেঁদে চৈতির বাবাকে টেনে তুললেন খাটে।
চৈতির বাবা বললেন, পানি দেও। পানি খেয়ে তিনি ঝিমুতে লাগলেন। ঘুম থেকে উঠে পড়ল চৈতি। সে কান্না শুরু করে দিল। তার ছোট ভাইটি উঠেও দেখাদেখি কাঁদতে লাগল। গভীর রাতে এ বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল। ছায়ালোকটি বলল, ‘চৈঁতির বাঁপ শোন্্, তোঁর মতো আঁমার দুটি বাঁচ্চা আঁছে। নঁইলে খাঁমছি মেঁরে তোঁর শরীর থেঁকে রক্ত বেঁর কঁরে ফেঁলতাম আঁর সেঁই রক্ত দিয়ে ঘরটা রং কঁরতাম। সঁকাল আঁটটার আঁগে বাঁড়ি ছেঁড়ে চলে যাঁবি।’ -বলেই শোঁ করে চলে গেল লোকটি।

ভয়ে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেল সবার। কোন রা-শব্দ নেই। সকাল বেলা। চৈতিরা বাড়িটা ছেড়ে চলে আসছে। সবারই মন খুব খারাপ। এমন সময় গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ল দুটি শিশু। তারা ছুটে এসে চৈতির হাত ধরে বলল, কঁই যাঁও তোঁমরা? যেঁতে দেঁব না তোঁমাদের। চৈতি বলল, তোমাদের সঙ্গে এভাবে আমাদের থাকতে বলছ? এখানে থাকলে আমরা ভয়ে মরে যাব। ভয়ংকর একটা লোক এসে আমাদের চলে যেতে বলেছে। থাকলেই বিপদে পড়ে যাব আমরা। শিশু দুটি বলল, এঁটা আঁমাদের বাঁড়ি। আঁমার বাঁবা খুঁব খাঁরাপ। তোঁমাদের চঁলে যেঁতে বঁলেছে বুঁঝি? কিন্তু আঁমরা তোঁমাদের যেঁতে দেঁব না। তোঁমরা হঁবে আমাদের খেঁলার সাঁথী। বাঁবা যঁদি কিঁছু বঁলে সেঁটা আঁমরা দেঁখব। তোঁমরা অবঁশ্যই থাঁকবে এ বাঁড়িতে। তোঁমরা হঁবে আঁমাদের চঁমৎকার বন্ধু।

চৈতিরা থাকতে লাগল বাড়িটিতে। দিনে দিনে খুব বন্ধু হয়ে গেল ভূতের বাচ্চা দুটি। একসাথে খেলে আর আনন্দ করে। চৈতির অনেক বুদ্ধি আছে। সে ভূতের বাচ্চাদের গল্প আর ছড়া শোনায়। ভূতের বাচ্চা দুটি আনন্দে লাফালাফি করে বলে, আরও বলো, আরও শুনব। চৈতি এদের লেখাপড়া শেখাতে লাগল। এরা মানুষের রূপ ধরে স্কুলে যায় আর পড়ালেখা করে। এভাবে ভূতেদের সঙ্গে চৈতিদের বেজায় খাতির হয়ে গেল। তাই তাদের আর কোনো ভয় নেই। বাড়িতে চোর-ডাকাত আসতে পারে না তাদের ভয়ে। কি মজা!
চৈতি আমাকে কানে কানে বলে, দেখিস সুমা, আমি ভূতকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করে ছাড়ব। আমি চোখ বড় করে বলি, ‘এগুলি কী বলিস তুই! ভূত আবার মানুষ হয় ক্যামনে!’

১,৪২৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্। ছাত্রী। লেখালেখি করা আমার ভীষণ পছন্দ। আমি ছড়া, গল্প লিখি। পত্রিকায় নিয়মিত লিখি। ব্লগ আমার কাছে একটা বিশাল লাইব্রেরির মতো। অনেক কিছুই শেখা যায় এখান থেকে। ব্লগ পড়তে আমার খুব ভাল লাগে। আমি পড়ালেখার ফাঁকে ব্লগ পড়ি আর মাঝেমধ্যে লিখি। আমি আশা করি যারা ব্লগে লিখেন তাঁদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো। আমার প্রকাশিত বইঃ ৩টি। নামঃ ১) ছোট আপুর বিয়ে। সাহিত্যকাল প্রকাশনী থেকে ২০১২ সালে প্রকাশিত। ২) দুই বন্ধু ও মেকাও পাখির গল্প এবং ৩) ভূতের পেটে টুনির বাসা। এ দুটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ সালে সাহস পাবলিকেশান্স থেকে। শিশু অধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ (প্রিণ্ট মিডিয়া) ৪ বার জাতিসংঘ-ইউনিসেফ-এর মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডসহ আরো কিছু পুরষ্কার পেয়েছি। প্রাপ্ত পুরস্কার ১. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ ২০১৩ (১ম পুরস্কার) ২. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৮ (২য় পুরস্কার) ৩. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০০৯ (২য় পুরস্কার) ৪. জাতিসংঘ শিশুতহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’ লাভ ২০১০ (২য় পুরস্কার) ৫. ’ডানো ভাইটা-কিডস’ মাসিক সাতরং’-ব্র্যাকগল্পলেখা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার (২০০৯) ৬. ঐতিহ্য গোল্লাছুট প্রথম আলো গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ২০০৭-এ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরস্কার। ৭. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৭) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৮. প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে আয়োজিত লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৮) অন্যতম সেরা লেখক পুরস্কার ৯. ’চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি-বগুড়া’ এর গল্পলেখা প্রতিযোগিতায় ২য় পুরস্কার (২০০৯) ১০. প্রথম আলোর ‘বদলের বয়ান’-এ লেখা প্রতিযোগিতায় (২০০৯) ২য় পুরস্কার ১১. আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র উৎসব ২০১০-এ গল্পলেখা পর্বে ‘অন্যতম সেরা গল্পকার’ পুরস্কার। ১২. কথাসাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার ২০১১ ঢাকা। ২য় পুরস্কার। ১৩. ঐতিহ্য গোল্লাছুট গল্পলেখা প্রতিযোগিতা-২০১২ অন্যতম সেরা গল্পকার পুরষ্কার
সর্বমোট পোস্ট: ১৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৪১৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-৩০ ০৮:০৯:০৬ মিনিটে
banner

১০ টি মন্তব্য

  1. সপ্নিল রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি যে ভূত ভয় পাই আপু!

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পৃথিবীতে ভূত নামে কিছু আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

  3. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনার চিন্তা ভাবনা বেশ ভাল। লেখার হাতও ভাল। বয়সের সাথে সাথে চিন্তা ভাবনা আর লিখার হাত আরও পাকা হয়ে উঠবে আশা করি।
    খুব ভালো হয়েছে। শুভকামনা রইল।

  4. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভূতের গল্প রাতে পড়তেই মজা। ভাল লাগল

  5. আরিফুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভূতের গল্প পড়তে মজা আসলেই ঠিক। কিন্তু বিশ্বাস হয় না। কাউছার আলম ভাইয়ের সাথে একমত পোষন করছি যে,ভূতের গল্প রাতে পড়তেই মজা। ধন্যবাদ

  6. শাহরিয়ার সজিব মন্তব্যে বলেছেন:

    ভূতের কাহিনী মানে কাল্পনিক কাহিনী । তবে মজা ও ভয় দুইটাই পাওয়া যায় । ভালো ভাই আরো লিখবেন ।

  7. কাউছার আলম মন্তব্যে বলেছেন:

    ঠিক বলেছেন শাহরিয়ার সজিব ভাই। আমি আপনার সাথে একমত।

  8. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লিখেছেন তো !
    অসংখ্য অসংখ্য ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

  9. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন দারুন
    গল্পও এত সুন্দর হয়
    ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top