Today 30 Nov 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মহা-প্রয়ান

লিখেছেন: এম, এ, কাশেম | তারিখ: ০৭/১০/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1439বার পড়া হয়েছে।

 

_______________________________________________________________________________

 

 

এক সকালে দেখি- তালা চাবি পিঞ্জর পরে আছে সব ঠিকঠাক
আগে যেমন ছিল , যেমন থাকার কথা, তেমনি সকলি আছে;
উড়ে গেছে শুধু সোনার মৌমাছি হায় কোন ফাকে অদৃশ্য বাতাসে;
রূপার বাটী দু’টো উল্ঠে পরে আছে খোলা,সদ্য স্ব্প্নের রেশ এখনও 
অনড় দু’টো কালো জাম হিম হয়ে জমে আছে বাটীর উপর,
দম বন্ধ কল – অচল, কখন জানি থেমে গেছে রথের চাকা
শব্দের কল কাকলি ফিস ফিস করে ছুটি নিয়ে গেছে অনেক আগে
আলো বায়ু শূন্য শীর্ণ পিঞ্জরখানি  হিম হয়ে পরে আছে আজ এইখানে;
লোবান কাঠি শুধু জ্বলে জ্বলে শোকের সুবাস ছড়ায় অসীম শূন্যে ; 
 
 
বাতাসের পিঠে চড়ে শোক শব্দরা খবর হয়ে পৌছে যায় কর্নান্তরে
সুখের গ্রাম জুড়ে উঠে কান্নার রোল, সকলে দৌড়ে; দশ দিগন্ত হতে
সকলে দৌড়ে  উদ্বেগ শন্কায়, শোকাহত মানুষের সমাবেশ উঠোন জুড়ে।
 
 
খড় কাঠে তাপে বড়ই পাতার ঠান্ডা জল গরম হয় তেপায়া চুলোয়
শেষের স্নানে পবিত্র হওয়ার নিরব আয়োজন চলে পর্দার অন্তরালে ,
কান্নার রোল উঠে, বেদনার হাহাকার ছড়িয়ে পরে ভিতরে বাহিরে
বাতাসের শূন্য পিঠে শোকের পদ্য লিখে যায় স্মৃতী বিরহ কাব্যে;
থেমে যাওয়া রথ সকলের শ্রদ্ধার কাঁধে চড়ে চলে অজানার পথে
মাঠির অন্ধকার সুরঙ্গের শেষে জানি আর ও একটা ঐশ্বরিক আলোর
জগত আছে; হয়তো সেখানে সকলের একদিন দেখা হবে, কথা হবে;
আজ বিদায়, হে – আমাদের মহান শ্রদ্ধেয় পিতা, বিদায় !
 
 
লোকাচার, ধর্মাচার প্রার্থনা শেষে সকলে ঘরে ফেরে, পথ ধরে,
সকলে যে যার পথে ; পথে পথে সকলে স্মৃতীর গদ্যে বলা বলি করে –
মাথার উপর একটি বট বৃক্ষ ছিল, একটি বৃক্ষ, মহীরুহ বট বৃক্ষ;
সারা গ্রাম জুড়ে ডাল পালা মেলে ছায়া দিত, দিত শীতল বাতাস,
মায়ার শরীর ছিল – দয়া বিলাতো দু’হাতে, ছিল মহাপ্রাণ,
তাহার প্রজ্ঞায় আলোকিত হতো গ্রামের ছোট বড় সকল সমান,
সকলে তাই সন্মান করতো,ভালবাসতো, বুদ্ধি পরামর্শ নিতো;
ধ্যান মগ্ন এই মাহান পুরুষের পবিত্র চরণ যখনই স্পর্শ করেছি
আর্শিবাদ কামনায় – তাহার পবিত্র হস্ত স্নেহের জলে সিক্ত হয়ে
নেমে আসতো মাথার উপর, ঐশ্বরিক এক নির্ভরতার  আলোয়
রোমাঞ্চিত হতো অস্থি-মজ্জা-শরীর, মন হতো শন্কামুক্ত,আশাবাদী,  
পথ দেখিয়ে যেতেন তিনি সম্মুখে সকলের আলোকবর্তিকা হয়ে।
 
 
বরাবয় মহাপ্রান, ঐশ্বরিক আলোয় উদ্ভাসিত এক আলোকিত প্রাণ ,
আজ চলে গেলো হায় সকলকে নিঃস্ব করে , সকলকে কাঁধিয়ে,
চলে গেছেন কালের কাল পাথর ক্ষণ জন্মা এক মহান পুরুষ
মহান স্রষ্টার কুদরতি চরণে শোকরিয়ার সেজদায় লুঠে মহা প্রয়াণে।
 
 
হে আল্লাহ , 
তোমার সৃষ্টিকে আজ তোমার হাতে সোপার্দ করলাম
দয়া করে তুমি তাঁহাকে রহমত করো, ক্ষমা করে দাও
আর তাহাকে তোমার  জান্নাতের মেহমান করে নাও।
নিঃসন্দেহে তুমি রাহ-মানির রাহিম – আমাদের প্রভু। 
_________________________________________________________________________________

১,৫০৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ২২২ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৮০৯ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৬ ০৫:৪৪:৩৪ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    খড় কাঠে তাপে বড়ই পাতার ঠান্ডা জল
    গরম হয় তেপায়া চুলোয়
    শেষের স্নানে পবিত্র হওয়ার নিরব
    আয়োজন চলে পর্দার অন্তরালে ,

    বাস্তব একটি কবিতা লিখেছেন ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    হে আল্লাহ তুমি তাকে ক্সমা করে দিও

    অসম্ভব ভাল লাগল ।

    লেখা বোল্ড করে না দিলে ভাল হয় । কারণ চোখে লাগে ।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    এই মেঘ এই রোদ্দুর- কথার সাথে সহমত।
    ভাল লাগল আপনার কবিতা।

  4. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাদের মতামতকে সন্মাণ করে
    লেখা সম্পাদনা করলাম
    ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top