Today 02 Dec 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মুক্তির গাড়ি

লিখেছেন: তুষার আহসান | তারিখ: ২৬/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 988বার পড়া হয়েছে।

আগে লোকে গাড়ি বলতে গরুর গাড়ি বুঝত।

এখন মানুষগুলো গরু হয়ে যাচ্ছে,তাই গরুর গাড়ি নিখোঁজের তালিকায়।

চারচাকার মোটরগাড়ি গুলোয় এখন গাড়ি।

শাওনের পাশ দিয়ে হুশহাশ চলে যায় ঝকমকে গাড়িগুলো।

শাওন আমেদ জীবনবীমার দালাল।দশ বছরের এজেন্ট হিসেবে তার যেমন উপার্জন হওয়ার

কথা ছিল,হয়নি। কারণ মিথ্যে ছাড়া এজেন্সী চলে না। শাওন তার বত্রিশ বছরের জীবনে মিথ্যে

বলতে পারে।

বউ বলে,তুমি মিথ্যে বলছো।

—কেন?

—কারণ তুমি তোতলাচ্ছো।

মিথ্যে বলতে শাওনের জ্বভ লটপট করে।চিরকাল।বউ বলে,অই দোষেই তোমার টাঁক পড়ে গেছে।

 

প্রতিদিন তিন কিলোমিটার হেঁটে বীমা অফিস থেকে বাড়ি ফেরে শাওন। পিচ রাস্তায় হুশ করে পাশ

কাটিয়ে চলে যায় নামী-দামী গাড়ি। শাওন ভাবে,ইস ওই গাড়িতে যদি কেউ পরিচিত থাকত,তবে নিশ্চয়

বলত,হেঁটে যাচ্ছ কেন,এসো আমার গাড়িতে।

গাড়ি থামে না। কেউ কিছু বলে না। অথচ সেসব অস্বাভাবিক কিছু নয়।

শাওনের কত কলেজের বন্ধু, তারা কেউ নামী উকিল,ব্যবসায়ী,মাস্টার। কত জনের গাড়ি আছে।তারা

এই রাস্তায় যাওয়া-আসা করে। কারো চোখেই পড়ে না শাওনের হেঁটে যাওয়া।

জীবনবিমা অফিসের অনেকেরই গাড়ি আছে,তারা থামে না। গতিই জীবন তাদের।শাওনের জন্যে থামলে

তারা হয়ত শাওনের মত শ্যাওলা হয়ে যাবে।

শাওনের কাছে বিমা করিয়ে বেশ কিছু মানুষ মারা গেছে। তাদের বিমার টাকা যথাযথ ভাবে পাইয়ে দেওয়ার

জন্য প্রচুর খেটেছে শাওন। সেই টাকায় গাড়ি কিনেছে ওয়ারিশরা। তারা কেউ থামে না।

জীবন নদীর মত। সাফল্য স্রোতের মত শাওনের জন্যে থেমে নিজেকে কে আর কর্দমাক্ত করে!

বউ বলে,তুমি পচা পুকুরের শ্যাওলা,তোমার জন্য জীবন কয়লা হয়ে গেল। তুমি মরলে আমি কাঁদব না,

গাল দেব জান ভরে।

একদিন শাওনকে অবাক করে একটা গাড়ি থামল।

চালকের পাশে বসে থাকা হাতে বালা পরা ছেলেটা বলল,আসুন স্যার গাড়িতে উঠে বসুন।

—আ-আপনাদের বোধহয় ভুল হচ্ছে।

— না,না, ভুল হবে কেন,আপনি বিমা অফিসে চাকরী করেন না?

— না,ভাই চাকরী নয়,এজেন্ট।

—উরি বাপস,এজেন্ট তারমানে তো মেলা ইনকাম।

—ইনকাম আর কোথায় করি,দশবছর ধরে বউয়ের গাল খাচ্ছি।

ড্রাইভার বলল,সবার বউই গাল দেয়।

শাওন বলল,তা আপনাদের কারো কি আমি বিমার টাকা-পয়সার তদ্বির করেছি।

—না,স্যার,তবে আপনার হাত দিয়ে এবার আমাদের ঘরে বিমার টাকা ঢুকবে।

বিষয়টা কেমন তালগোল পাকিয়ে গেল শাওনের মাথায়। তার কিছুতেই মনে পড়ছে

না,ইদানিংকালে কারো ডেথ-ক্লেমের সুপারিশ করেছে কিনা। কি একটা কাগজে পড়েছিল

টাঁকমাথার লোকদের দিল সাফ হয়,মাথাও।

তার টাঁক তারমানে প্রকৃত টাঁক নয়?

দোনামনা করে গাড়িতে উঠে বসল শাওন। বলল,আমি কিভাবে তোমাদের টাকা পেতে

সাহায্য করব।

ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে বলল,আপনার বউয়ের কাছে আমরা টাকা চাইব,মুক্তিপণ।আপনাকে

আমরা কিডন্যাপ করলাম।

শাওন বিড়বিড় করল,মুক্তিই মুখ্য কথা,যেভাবেই হোক।

তার একটুও তোতলা-ভাব এল না।

১,০৭৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি পশ্চিমবঙ্গ,ভারবর্ষের মানুষ। ছোট বেলা থেকেই লেখালেখি করি। দৈনিক আনন্দবাহজার সহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রপত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ পায়। ইন্টারনেটের নেশা এখন এমন ভাবে ধরেছে, ব্লগ ছাড়া আর কোথাও লিখতে ইচ্ছে করে না।
সর্বমোট পোস্ট: ৫১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮৪২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-১০ ১২:৪৪:৪৯ মিনিটে
Visit তুষার আহসান Website.
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    সুন্দর লেখা, তুষার ভাইকে ধন্যবাদ।

  2. মাহ্‌দী ফায়েজ মন্তব্যে বলেছেন:

    খুবি ভালো।

  3. তুষার আহসান মন্তব্যে বলেছেন:

    @ ফায়েজ ভাই।

  4. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    তুষার ভাই, কবে আমাদের আবার নতুন লেখা উপহার দিবেন? আপনি আসলেই একজন গুণী লেখক। শুভেচ্ছা জানবেন।

  5. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    চমৎকার লিখনী
    দারুন সুন্দর

    শুভ কামনা থাকলো
    ভাল লাগলো
    মুগ্ধ হবার মতো

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top