Today 17 Jan 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

‘ মেঘের কোলে রোদ ’ । ( পর্ব -২) ।। নুচাই ফকির ।।

লিখেছেন: আহমেদ রুহুল আমিন | তারিখ: ০৩/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1306বার পড়া হয়েছে।

( কিছু কথা : এ এক অদ্ভুত অত্যাশ্যর্য ঘটনা সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশের জন্য । তা হচ্ছে মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব সাগর-রুণি হত্যাকান্ড । দীর্ঘদিন আমরা অসহায় এ হত্যা রহস্য সম্পর্কে কোন কুল কিনারা করতে পারিনি । শুধুই আশার বাণিতে চোখ ভিজিয়ে চলেছে সাগর-রুণির অসহায় মা । আর মেঘ…….. ? কেমন আছে মেঘ… ? মেঘের নানুবাড়ি এই বারো আউলিয়ার জনপদ ? আমরা দোয়া করি , মেঘ ভাল থাকুক । সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন , যখন সাগর-রুণির একমাত্র শিশুসন্তান ‘মেঘ’ যে চোখের সামনে খুনিদের রঞ্জিত হাত-মূখ চর্মচোখে প্রত্যক্ষ করেছে , তার মানসিক অবস্থা আমরা কল্পনাও করতে পারবনা ! মেঘ এখন কিছুটা বড় হয়েছে বা কিছুটা বুঝতে শিখেছে । দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখেন !একদিন এই জনপদ ছিল পরতে পরতে কুসংস্কার , ধমান্ধত্য,সামাজিক কলুষতার বিচরণ ক্ষেত্র । বেগম রোকেয়ার সেই অবরোধবাসিনীর চিরচেনা এই জনপদে জেগে উঠেছিল অধুনা এক নারী মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব রুণি আপু । তার জন্মভুমির উপাখ্যান নিয়ে পৌরানিক কল্পকাহিনীর এই অবতারনা “ মেঘের কোলে রোদ” । পাঠকদের মনে করিয়ে দেই “ মেঘের কোলে রোদ ” বড় গল্পটি “ মেঘের ” নামে উৎসর্গ করা । ‘গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ‘। )

রাণিগঞ্জ গ্রামটি এমন জায়গায় হবে তা কল্পনাও করতে পারেনি কালাচান ফকির । টাংগন নদীর ধারে ছোট্ট একটি বাজার , বাজারের পার্শ্বে জঙ্গল ঘেসে গ্রামের একমাত্র একটি স্কুল দিনের কোলাহল বাড়িয়ে দেয় স্বল্প সময়ের জন্য । প্রতি সপ্তাহে বুধ ও শনিবার হাটবার হওয়ায় ওই দুই দিন অনেকরাত পর্যন্ত এলাকাটা সরগরম থাকে । তবে, মাঝে মধ্যে জঙ্গল থেকে গেছোবাঘ ও বুনো শুয়োর লোকালয়ে এসে এলাকার মানুষের ক্ষেত খামার ও গরু-ছাগলের ক্ষতিসাধন করে । মাঝে মধ্যে মানুষের উপরও হামলা করে । মানুষের তখন একমাত্র ভরসা খড়ে আগুণ জ্বালিয়ে টিন বা ড্রাম বাজানো । এতোবড়ো গ্রামে একজনেরই গাদা বন্দুক রয়েছে হাজি শাহার আলী সরকারের । তবে, লোকটি খুব কঞ্জুস টাইপের । গুলি খরচ করতে চায়না । এই যখন অবস্থা তখন আর বেশিরভাগ গ্রামের মানুষের কোন উপায় থাকেনা । আহত রোগীদের এখানে কোন চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নেই । এখান থেকে গরুর গাড়িতে করে রুহিয়া রেলস্টেশন তারপর ঠাকুরগাও কিংবা দিনাজপুরের চেরিটেবল ডিসপেনসারি । যাতায়াতে সময়ের কারণে বেশীর ভাগ রোগী রক্তক্ষরণে মারা যায় । রাণিগঞ্জ ছাড়াও দুই/ পাঁচ ক্রোশের মধ্যে পুর্বদিকে বোদা ,সাকোয়া ও পশ্চিমে ফকিরগঞ্জ ,রুহিয়া বাজার রয়েছে । সে লোকমুখে শুনেছে যে, চার/পাঁচ ক্রোশ উত্তরে রয়েছে বারো আউলিয়া নামে একটি জায়গা যার বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে শুধুই জঙ্গল বা বনাঞ্চল । এই বারো আউলিয়ায় একটি মাজার আছে । যার অন্ধ ভক্ত এলাকার হিন্দু, মুসলমান নির্বিশেষে সবরকম মানুষ । প্রথম প্রথম কালাচান ফকির বেশীরভাগ সময়েই বাজার গুলোতেই কাটায় । যে বাজারেই যায় এলাকার লোকজন অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে । বিশেষ করে, তার জটবাধা চুল , দাড়িগোঁফে মুখ ঢাকা , মোষের মতো কালো সুঠাম দেহ তার সাথে গেরুয়া শতচ্ছিন্নতালি দেয়া পোষাক , হাতে বিচিত্র লাঠি । নুতন এলাকা বলে লোকজনের আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ভঙ্গ ধরে সে। যেমন , সে কখনো কোন কথা বলেনা , লোকে ধরে নেয় সে জন্ম থেকেই বোবা । তার বামকাঁধে ঝোলানো পটলায় থাকে সবসময়ের জন্য কালো কুচকুচে রঙ্গের একটি বিড়ালের বাচ্চা আর কিছু কন্ডুলি পাকানো কেন্না পোকা । একটি পিতলের তৈরী লোটাও রাখে সবসময় পানির জন্য । আর একটি ব্যাপারে সে খুবই সচেতন তা হলো তার খাবার দাবার । সে কখন খায় , খায় কি খায়না তা মানুষজনতো দুরে থাক কাকপক্ষিও টের পায়না । লোকজন টাকা- পয়সা , খাবার দিতে গেলে সে এমন অঙ্গভঙ্গী করে ভয়েই তারা আর কাছে ভীড়েনা । আগ্রহভরে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে সে কী খায় তখন পটলা থেকে কেন্নাপোকা বের করে গপ করে খেয়ে চোখবুজে পানি খায় । সবকিছু মিলিয়ে সে একজন রহস্যভরা ভিন্ন মানুষ । অল্পদিনের মধ্যে অনেক ভক্তও জুটে যায় তার। ফকিরগঞ্জ বাজারে ঘোরাফেরা করার সময় এক যুবক তার পিছু ছাড়েনা । ওর নাম বাহারাম আলী ওরফে নুচাই । বাড়ি মির্জাপুরের পানবাড়া গ্রামে । এখনো ঠিকমতো দাড়িমোচ উঠেনি । মায়ের বাউন্ডেলে ছেলে । ছোটবেলায় বাপ মারা যায় । মা অনেক চেষ্টা করেছিল ছেলেকে মানুষ করার । ছেলে মানুষ না হয়ে বাউন্ডেলে হয়েছে । তাই গ্রামে কারো কাছে স্থান না পেয়ে শেষে এসে জোটে কালাচান ফকিরের কাছে । কালাচান ফকিরও সঙ্গী পেয়ে মনে মনে বেজায় খুশি । এরকমই চেয়েছিল সে ।

১,২৮৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
#কায়েতপাড়া, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড় । #চল্লিশ দশকে অকাল প্রয়াত ছোট মামার কলকাতার সংগ্রহকৃত কিশোর ক্লাসিক " শুকতারা " ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রবীন্দ্র সম-সাময়িক ( যেখানে তাঁর লেখা ছবিসহ সরাসরি প্রকাশ হতো) বিভিন্ন ছড়া/কবিতা সত্তর আশির দশকে পাঠে শিশু মনে কল্পনার দোল খেত । সেই থেকে শুরু । লেখা-লিখি টুকটাক । ভাল লাগে কবিগুরু , বিদ্রোহী,সুকান্ত -জীবনানন্দ, সত্তর-আশির দশকের আবুলহাসান, দাউদ হায়দার,খোন্দকার আশরাফসহ অনেক কবির লেখা । সমরেশ মুজুমদার,সব্যসাচি সৈয়দ হক,আনিসুল হক, সদ্যপ্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ,ইমদাদুল হক মিলন প্রিয় গল্পকার/লেখকের তালিকায় । # প্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব : হযরত মোহাম্মদ (সা.) । # প্রিয় ব্যক্তি : মা-বাবা । # যা আশ্চয্য করে : পবিত্র কোরআন, বিশ্ব- প্রকৃতি, কম্পিউটার-তথ্য প্রযুক্তি । #দু'সন্তানের জনক ।
সর্বমোট পোস্ট: ৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৫ ১৭:১৮:৩৫ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো,
    আহমেদ রুহুল আমিন ভাই, আপনার ‘ মেঘের কোলে রোদ ’ । ( পর্ব -২)
    ভাই আপনি প্রথমে মেঘের কথা বলেছেন, ওর কথা শুনলে আমার চোখে পানি এসে যায়।

    আমি সাগর-রুনিকে নিয়ে কয়েকটি কলাম লিখেছি।

    দুঃখ লাগে, আমরা এর বিচার পেলাম না, জানিনা, এর বিচার আদৌ হবে কিনা!

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    কোন অন্যায়ের বিচারই হচ্ছে না দেশে

    লেখা ভাল লাগল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top