Today 20 May 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

মেঘের কোলে রোদ-৫

লিখেছেন: তুষার আহসান | তারিখ: ১৫/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1344বার পড়া হয়েছে।

অতসী এক সময় অবাক হয়ে দেখল, বাগানের ওপাশে উঁকি মেরে কেউ তাদের

দেখছে। হাসল সে। বলল, অত লজ্জা করার কিছু নাই, আমার বন্ধুকে দেখবি

যদি এখানে আয়।

গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল গনেশ। বিব্রত মুখে দাঁড়াল অতসীর সামনে।

অতসী হাসতে-হাসতে বলল, কি-রে আমার বন্ধুকে পছন্দ হয়েছে?

— ধেৎ, কি যে তুমি বল না দিদি!

—পছন্দ হয়েছে কিনা বল, তোর ওই গানের মেয়ের চেয়ে তো ঢের সুন্দর কি

বলিস?

ধপাস করে ঘাসের উপর বসে পড়ল গনেশ। বলল, আমি কিন্তু পালাব এবার।

—কোথায় যাবি, তোর সেই গান-সুন্দরীর কাছে?

— ওর কাছে তো হায়দারদা গেছে।

বুকের মধ্যে তীর বিঁধলে হরিণী যেমন তাকায় তেমন দৃষ্টিতে গনেশের দিকে

তাকাল তপতী।বলল, কি বললি?

যা জানি তাই বললাম। স্কুলের ফান্ডের জন্য আবার যাত্রাপালা হবে।নাটকের

নাম ‘পলাশীর যুদ্ধ’।তাই হায়দারদা বায়না করতে শহরে গেছে।

— পলাশীর যুদ্ধ হোক, আর বক্সারের যুদ্ধ হোক, তুই যেন আবার ওই

মেয়েটার খপ্পরে পড়িস না, নইলে বাবা কিন্তু আবার কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে।

—দিদি, তুমি না, আমাকে শুধু লজ্জা দাও, কতবার বলেছি শিউলীকে

আমি ভুলে গেছি। তাছাড়া হায়দারদা তো বলেছে, অন্য কোন মেয়েকে

আনবে এবার।

— তোদের দাদা এবার কি রোল করবে?

— সিরাজের রোলে দাদা ছাড়া কাউকে মানায় নাকি।

—বাপরে আমার দাদা-ভক্ত হনুমান,পলাশডাঙার শচীন রায় কি খারাপ

অভিনয় করে নাকি, কত জায়গায় সোনার মেডেল পেয়েছে, তাকে

আনলে কি ক্ষতি হত শুনি?

—দাদা তো তাই বলছে, শচীনবাবুকে আনবো, লোকে ভিড় করবে, ভিন

গ্রাম থেকে চাঁদা পাব বেশী।কিন্তু আমাদের ইয়াং স্টার ক্লাবের ছেলেরা

শুনছে না। বলছে, সে পালার আসরে যা হয় হবে, তুমি এখন রিহ্যাসাল

চালাও।

— আর তোদের দাদা রিহ্যাসেল করছে রেগুলার?

— করছেই তো, দাদা না থাকলে রিহ্যাসালই হয় না, এই তো তিনদিন হল

শহরে গেছে, রিহ্যাসালও বন্ধ।

কথা বলতে বলতেই বাগানের ওপাশ থেকে কেউ একজন হাঁক দিল,গনেশ,

ও গনশা।

—হ্যাঁ, বল।

—শুনেছিস, দাদা ফিরেছে?

—তাই নাকি, তুই দাঁড়া আমি এক্ষুণি যাচ্ছি।

বলে উঠে দাঁড়াল গনেশ। তারপর ছুটে গেল যেন বাগান পেরিয়ে রাস্তার দিকে। তার

চলে যাওয়া দেখতে দেখতে তপতী বলল, দাদা ভক্ত গোবর গনেশ!

তখনই সে দেখল তার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রোমিলা। বলল, কি-রে

তোর ঘুম ভেঙে গেল?

— হুঁ, ভাঙল। ভাঙল বলেই তো জানতে পারলাম, দাদার প্রতি ভাইয়ের যা ভক্তি,

তারচেয়ে বেশী ভক্তি ভাইয়ের দিদির।

— এই, কি যে তুই বলিস না,চল ভেতরে গিয়ে দেখি মা রান্নার কি কতদূর করল।

—রান্না আমি আধসেদ্ধ হলেও খেতে পারি, কিন্তু কৌতুহল হলে সেটাকে চেপে রাখতে

পারিনা। ঘটনা কি সত্যি করে বল।

তপতী ম্লানমুখে বলল, ঘটনা কিছুই নয় রে, সবই মনের কল্পনা,ছেলেটার আজ অব্দি

আমাদের বাড়ির চৌকাঠ মাড়ায়নি।

— কেন বল তো?

— রাতদিন লোকের উপকার করে বেড়ায়, তাই এদিকে তাকানোর ফুরসৎ নাই।

— আমি কি কাকুকে কথাটা জানাবো?

—কোন লাভ হবে না।

—কেন?

—ছেলেটা মুসলমান।

(পরের কথা জানতে আগামী পর্ব পড়ুন)

 

 

 

*

১,৪২৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
আমি পশ্চিমবঙ্গ,ভারবর্ষের মানুষ। ছোট বেলা থেকেই লেখালেখি করি। দৈনিক আনন্দবাহজার সহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রপত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ পায়। ইন্টারনেটের নেশা এখন এমন ভাবে ধরেছে, ব্লগ ছাড়া আর কোথাও লিখতে ইচ্ছে করে না।
সর্বমোট পোস্ট: ৫১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৮৪২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৭-১০ ১২:৪৪:৪৯ মিনিটে
Visit তুষার আহসান Website.
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগছে।সাথে আছি।

  2. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম ভাল লাগল । চালিয়ে যান ।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম, তুষার ভাই

  4. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    পর্বটি পড়লাম।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top