Today 08 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

‘মেঘের কোলে রোদ ‘ ।

লিখেছেন: আহমেদ রুহুল আমিন | তারিখ: ০৬/০৮/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1021বার পড়া হয়েছে।

( কিছু কথা : বাংলাদেশে মিডিয়া জগতে এরকম হৃদয় বিদারক, অমানবিক কিম্বা বলা চলে অব্যবস্থাপনা-অকর্মন্য ‘জাতীয় ব্যর্থতা’ ইতিপূর্বে কখনো ঘটেছে কিনা ? তা হলো ‘ সাগর-রুণি’ হত্যাকান্ড এবং এর রহস্য উদঘাটন । এই রহস্য উদঘাটনে সরকারের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের ব্যর্থতা একাকার হয়ে আমরা এখন আশাহত ‘সাগর-রুণির’ হত্যারহস্য কোন দিন বাংলার জমিনে প্রকাশ হবে কিনা ! যে মিডিয়া জগৎ কেঁচোর সন্ধানে সাপ বের করে ফেলে সেই মিডিয়াও নিরুপায় । সবচেয়ে খারাপ লাগে তখন , যখন সাগর-রুণির একমাত্র শিশুসন্তান ‘মেঘ’ যে চোখের সামনে খুনিদের রঞ্জিত হাত-মূখ চর্মচোখে প্রত্যক্ষ করেছে , তার মানসিক অবস্থা আমরা কল্পনাও করতে পারবনা ! মেঘ এখন কিছুটা বড় হয়েছে বা কিছুটা বুঝতে শিখেছে । দোয়া করি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখেন ! গল্পটি তার নামে উৎসর্গ করলাম । ‘গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ‘। একটু কৈফিয়ত : একবার মনে হলো `মেঘ’ এর নানুবাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় গল্পের নাম রাখি `মেঘ’ এর নানুবাড়ি । কিন্তু তার নানুবাড়ি বা ফ্যামিলীগত কোন গল্প থাকবেনা এখানে । তাই গল্পের নাম দিলাম ‘মেঘের কোলে রোদ’ – যে নামটি কবিগুরুর বহুল প্রচারিত একটি `ছড়া’ থেকে ধার নেয়া ।)
(পুর্ব প্রকাশের পর …..) জমিদার মারা গেলে যথারীতি সুন্দরী ব্রাক্ষ্মনী বউটি সোনাদানা -মনিমানিক্য ভরা নক্স্রীকাঁথাটি তার গায়ে জড়িয়ে সোনা-দানার থেকে জীবনের মায়ায় চিতায় ঝাপ দিতে রাজি না হলেও ঢাকঢোল করতালের শব্দে চিতায় ঝাপ দিয়ে সহমরনে বাধ্য করা হয় । ওই এলাকার প্রজাবৎস্যরা ছিল অতীব ধার্মীক ও সহজ সরল । ‘চিতা ভস্ম ’ কেউ ছুলে মহাপাপ হবে জেনে – সেখানে কেউ হাত দেয়নি । একমাত্র সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোকটিই তাঁদের ‘ চিতাভস্ম ’বড় বস্তায় ভরে নিকটস্থ জমিদারের অতি প্রিয় জায়গা শান বাধানো কাজল পুকুরে নিক্ষেপ করা হয় । সেই থেকে লোকে এই কাজল পুকুরের নাম দেয় ‘সতিপুড়া দিঘী’ । ওদিকে অনেক অনেক দিন পর সেই পশ্চিমের ইরান , তুরান , কাবুল দেশ থেকে ঘোড়ার পিঠে চড়ে যে কাবুলিওয়ারা আসতো ( ঠিক রবি ঠাকুরের ’কাবুলিওয়ালা’ গল্পের ছবিতে দাড়িওয়ালা মানূষটির মতো ) এমন কয়েকজন কাবুলিওয়ালা এই এলাকার মানূষকে নানা ধরনের সামগ্রী বাকিতে ( ধার ) দিতো । আগের যুগে উচু ডাংগা এই এলাকাটি সম্পূর্ন প্রকৃতি নির্ভর হওয়ায় আবাদ ফসল হিসেবে একটিমাত্র ফসল মানুষ ঘরে তুলতো সেটি হলো মানাশারা আমন ধান । তাও পঞ্চ্াশ শতকের জমিতে মাত্র তিন থেকে চার মন । ফলে মানূষ খুব অভাবী ছিল ।এই অভাবী মানূষদের রক্ত শোষন করতো এই কাবুলীওয়ালারা ! কিভাবে সেটাই বলছি । পণ্য-সামগ্রীর পাশাপাশি এই সব অভাবী ও সহজ-সরল মানূষদের চাহিদা মতো দিতো টাকা ধার । তারা ছিল অতীব চালাক ও ধুর্ত প্রকৃতির । যে টাকা ধার হিসেবে দিত , তা সুদে- আসলে বছর শেষে দ্বিগুণ/তিনগুণ ওসুল করে নিত । কেউ টাকা দিতে না পারলে তার গোয়াল থেকে গরু-ছাগল , খোয়ার থেকে হাঁস – মুরগী যা হাতের কাছে পেত তাই নিয়ে চলে যেত । একবার হয়েছে কি, চার-পাঁচজন কাবুলীওয়ালা রাতযাপনের জন্য একজনের বাড়ির কাচারী ঘরে থাকে । তখনকার যুগে মানূষ প্রাকৃতিক কর্ম সারতো বনে-জংগলে কিম্বা বাঁশতলায় । যথারীতি ভোর বেলায় একজন কাবুলীওয়ালা বাঁশতলায় প্রাকৃতিক কর্ম সেরে পানি খরচের জন্য ‘সতিপুরা দিঘী’তে নামে । পানি খরচ করার জন্য যেই বামহাত পানিতে নামিয়েছে , খট করে শক্ত মতোন কি যেন তার নখে লাগে । নখ- আংগুলে টান দিতেই তো তার ‘চক্ষু চড়কগাছ’ ! একি একেবারে জ্যান্ত সোনা-দানা, মনি মুক্তা হাতের নাগালে ! আবারো হাত ডুবিয়ে দেখে- আবারো ‘চক্ষু চড়কগাছ’ ! ( চলবে ..)

৯৯৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
#কায়েতপাড়া, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড় । #চল্লিশ দশকে অকাল প্রয়াত ছোট মামার কলকাতার সংগ্রহকৃত কিশোর ক্লাসিক " শুকতারা " ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রবীন্দ্র সম-সাময়িক ( যেখানে তাঁর লেখা ছবিসহ সরাসরি প্রকাশ হতো) বিভিন্ন ছড়া/কবিতা সত্তর আশির দশকে পাঠে শিশু মনে কল্পনার দোল খেত । সেই থেকে শুরু । লেখা-লিখি টুকটাক । ভাল লাগে কবিগুরু , বিদ্রোহী,সুকান্ত -জীবনানন্দ, সত্তর-আশির দশকের আবুলহাসান, দাউদ হায়দার,খোন্দকার আশরাফসহ অনেক কবির লেখা । সমরেশ মুজুমদার,সব্যসাচি সৈয়দ হক,আনিসুল হক, সদ্যপ্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ,ইমদাদুল হক মিলন প্রিয় গল্পকার/লেখকের তালিকায় । # প্রিয় ব্যাক্তিত্ত্ব : হযরত মোহাম্মদ (সা.) । # প্রিয় ব্যক্তি : মা-বাবা । # যা আশ্চয্য করে : পবিত্র কোরআন, বিশ্ব- প্রকৃতি, কম্পিউটার-তথ্য প্রযুক্তি । #দু'সন্তানের জনক ।
সর্বমোট পোস্ট: ৭৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-১১-১৫ ১৭:১৮:৩৫ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ লাগল………

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল

  3. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ ভাল লাগা লেখা
    শুভেচ্ছা ।

  4. আহমেদ রব্বানী মন্তব্যে বলেছেন:

    বিচিত্র এক দেশে আমাদের বাস!তাইতো মেঘেরা এমন কষ্ট ভোগ করে।

  5. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    মন্তব্যকারী সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা । গল্পটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।

  6. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল ।শুভ কামনা ।

  7. ঘাস ফড়িং মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক ভাল লাগল। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top