Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

যাতনার পাবকে সাগর জ্বলেঃ শেষ অংশ

লিখেছেন: শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত | তারিখ: ১৭/০৯/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 942বার পড়া হয়েছে।

তার প্রধান সমস্যা একমাত্র উত্তরাধিকারী পুত্র সাগর । রক্ত জমাট বাধা পীড়া তার পিছু ছাড়ছে না । দু সপ্তাহ পর পর শরীরে রক্ত প্রবেশ করাতে হয় । ডাক্তার তাঁর বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে অপারগ । এ বিষয় সম্পত্তির ভবিষ্যত্‍ মালিক চির রুগ্ন । আর সন্তান গ্রহণের যথেষ্ট প্রচেষ্টা চলছে , কিন্তু অরণ্যে রোদন । সহস্র অযুত ওঝা , কবিরাজ , ডাক্তার ব্যর্থতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে । এর মূল কারণ আল্লাহই বেশ জানেন । পরিশেষে হৃদয়ের যাতনায় দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করলেন তিনি,আল্লাহ আমার সমস্ত কেড়ে নিলে কোন দুঃখ নেই কষ্ট নেই । শুধু আমায় চিন্তামুক্ত করুক । এটাই এখন আমার একমাত্র চাওয়া । অধিক অর্থ লিপ্সা আমার হৃদয় থেকে অন্তীম বিদায় নিয়েছে । অধিক অর্থের মাঝেই ধরণীর সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দুঃশ্চিন্তা অশান্তির বাস । তার বাক্য আমাকে স্পষ্ট অবগত করল , তিনি কেমন আছেন ?

আমরা শীতলক্ষা নদী অতিক্রম করলাম ট্রলারের সাহায্যে । ট্রলার ঘাট থেকে সি, এন, জি, ও পরে রিক্সা যোগে একেবারে প্রত্যান্ত অঞ্চলে গেলাম । এ দেশের সকল শ্রমজীবীদের শিরমনির নিকটে । আহ্ ! চৈত্রের পিঠ ফাটা অসহ্য অগ্নিতাপে কয়েকজন কৃষক ক্ষেতে কর্মে মগ্ন । সালাম দিয়ে একজনের সাক্ষাতকার নিয়ে জানলাম তারাও সুখে নেই , চিন্তার মহা সমুদ্রে ডুবন্ত । কষ্টের সহিত জানালো , কত মেহনত করে ফসল বুনছে । কিন্তু এ ফসল ছহিহ ছালামতে গৃহে তুলতে পারবে কিনা নিশ্চয়তা নেই । প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল বিনষ্ট হয়ে থাকে । তাই স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করে দুর্যোগ থেকে মুক্তি লাভের । দুর্যোগ মুক্তিতেও তাঁরা পূর্ণ তৃপ্তি নয় । কারণ ফসল আবাদে যে পরিমাণ খরচ , বিক্রয়ে লাভ তো দূরের কথা সমতার আশ্বও নিষ্ফল ।

দেশ উন্নয়নে নিয়োজিত শেষ্ঠ সংগ্রামী মেহনতিদের পানে রাজ্য পরিচালনাকারীরা নজর দেয়ার সুযোগ নেই । তারা মহা ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে ,কি করে লুটে পুটে গগন সম কেল্লা নির্মান করবে এ খেয়ালে মগ্ন । আসলে এরা দেশ প্রেমিক নামের ছদ্ম বেশি লুটতরাজ শোষণকারী । কোন কারণে এরা ফসল বোনা ক্ষেমা দিলে , কি পরিস্থিতি হবে ? এ বৃহত্তম বিষয়ে একটুও ভাবনা নেই তাদের । বড় দুঃখ পেলাম সম্মানিত শ্রমজীবীদের বেদনাত্তক অবস্থা শুনে । মানুষের মধ্যে কেহ সুখে আছে বলে মনে হলনা । তাই সাক্ষাতকার নেয়া ক্ষেমা দিলাম ।

সুখি জনের সন্ধানে চরম ব্যর্থের স্বীকার হয়ে বাসার পানে ফিরছি । পন্থের পার্শ্বেই একটি নীবিড় অরণ্য নজরে পড়ল । হরেক প্রজাতি বৃক্ষের সতেজ পত্রগুলো মৃদু পবনে নড়াচড়া করছে । ভাবলাম এরাই সুখে আছে । অটবির হৃদয় কেড়ে নেয়া সৌন্দর্য্যপূর্ণ উদ্ভিদগুলোর পানে চেয়ে শুধালাম , হে প্রিয় বন্ধুরা তোমরা কেমন আছ ? অনুভব করলাম ,স্বমস্বরে তাদের কন্ঠ ধ্বনি কর্ণে ভেসে এলো । মহা চিন্তায় প্রতিনিয়তই কাল অতিবাহিত হচ্ছে । কখন যেন তোমরা কেটে বিনাশ করে ফেল ? কারণ তোমাদের মত নৃশ্বংস প্রাণি আর দৃষ্টিগোচর হয়না । জীবন খোয়ানোর ডরে সঠিকভাবে খেতে ও ঘুমাতে পারছিনা । অথচ মোদের শ্বাসেই তোমরা বাঁচার সুযোগ পাও । ওদের কষ্টের ধ্বনি শুনে মর্মাহত হলাম , কিন্তু শান্তনাময় কোন বাণী আমার চিত্তে ছিলনা ।

পরে চলতে চলতে বিস্তৃত পথকে জিজ্ঞাসিলাম , তুমি বুঝি ভাল আছ সুখে আছ ? সে উত্তর দিল , মোটেও না । অসংখ্য মালবাহী ও মালবিহীন যানবাহন আমার পিঠের ওপর দিয়ে চলছে অবিরাম অহরহ । এক দিনের তরেও বিশ্রামের সুযোগ দিতে কৃপা হয়না । মাঝে মধ্যে কিছু বন্ধুরা হরতালের আহবান দিলে হৃদয় আহ্লাদের পরশ পায় , কিছুক্ষণ শান্তিতে থাকব বলেই । কিন্তু অন্য দল আষাঢ়ের বাদল ফোটার ন্যায় গুলি বর্ষণ করে পথ থেকে হটিয়ে দেয় । আবার আমার ওপর দিয়ে উত্‍পীড়ন অত্যাচার সচল হয়ে যায় । আমাদের তো প্রতিবাদের ক্ষমতা নেই । তাই দু’নেত্র বুজে নীরবে সইছি ।

গোধুলী লগ্নে রবির লাল দীপ্তি হেরিয়ে মুগ্ধ হলাম আর ভাবলাম । নিশ্চই এটা সুখের প্রভা , তাই শুধালাম দিবস সম্রাট কেমন আছ ? ভাল নেই । কেন ? উভয় সংকটের অনলে ওতপ্রোতভাবে পুড়ছি । আমি না হাসলে সবার চিত্ত ঘোর নিশিতে আচ্ছন্ন । আর প্রাণ ভরে হাসলে আমার উত্তাপে গা পুড়ে যায় । তখন গাল মন্দ করে বিশ্রী ভাষায় । আবার কখনও হাসতে চাইলেও পারিনা , মেঘ আমাকে ঢেকে রাখে ।

রাতের রাণীকে শুধালাম , সে উত্তর দিল বিন্দুমাত্র সুখ তার কাছে নেই , আছে হৃদয় পূর্ণ কলংকের বোঝা । এ অসহনীয় বোঝা বহন করছে জীবন ভর । এ কলংক তার শশীর সহিত । তবুও তার কলংকিত বদনের হাসি কার না ভাল লাগে ?

রাত্রে বাসায় ফিরে খানা পিনার রুচি মন্দা লাগছে , ঘুমও আসছে না চিন্তায় । বুঝলাম ইহকাল জীবনে প্রকৃত সুখে কেহ নেই ,কেননা এটা ক্ষণস্থায়ী জীবন ।

বিতৃষ্ণা লাগায় ছাদে গিয়ে ভাবছি দু’হস্তের আঙ্গুল চুলে প্রবেশ করিয়ে ললাটে হাত রেখে । গ্রীষ্মকাল অসহ্য ঝাপসা গরম পরছে । এর মধ্যে দখিনা মৃদু শীতল হাওয়া আমার আদুল গায়ে শিরশিরি দিচ্ছে ।

চমত্‍কার সুখ ও শান্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে । শুধালাম ,ওহে শান্তির সোহাগিনী তুমি কে ? আমি দখিনা পবন । আমার বিশ্বাস ধরাতে একমাত্র তুমি সুখি । নিশ্চই ঠিক বলেছি ? তাই না ? না , আপনার ভুল ধারণা । আমি উষ্ণের কালে সবার সোনায় সোহাগা ,সুখ আবেশের রাণী । আর শীত মৌসুমে সবার চক্ষুশুল বিষন্ন কণ্টক । এ কালে আমি বইলে সবাই ঠান্ডার চোটে থর থর কাঁপে গতর হয় তুষার সদৃশ্য । কত শত গাল মন্দ অভিসম্পাত আমার ললাটে জোটে ।
আমি দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম নিরাশ হলাম হতাশায় ডুবলাম আর উপলব্ধি করলাম । সবার চিত্তের লুকান একটি করে দুঃখ -কষ্ট কিংবা যাতনা সমবেত করে তুষার পর্বতে পরশ দিলে পুড়ে কয়লা পর্বতে রুপান্তরিত হবে । আর প্রশান্ত সাগরের গভীর জলে স্পর্শ করলে সমস্ত জল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে ।

১,০০৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
01912657988 অথবা 01853861342
সর্বমোট পোস্ট: ১৮৫ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৩৬ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৩ ১১:৪২:৪১ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. শেখ শান্ত হাসি মন্তব্যে বলেছেন:

    জীবনের বাস্তব গল্প ।ভাল লাগল ।

  2. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম।

  3. আঃ হাকিম খান মন্তব্যে বলেছেন:

    শান্ত ভাই, আপনার লেখাটি চমৎকার হয়েছে। এখন আর লিখেন না কেন?

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top