Today 02 Aug 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রাজনীতির বাইরে কে ?

লিখেছেন: সাঈদ চৌধুরী | তারিখ: ০৫/১১/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1101বার পড়া হয়েছে।

 

একজন খুব সাধারন রিকশাওয়ালার সাথে কাল রাতে ঢাকার রাস্তায় কথা হচ্ছিল । তার কথায় যে মুগ্ধতা পেয়েছি তাতে বার বারই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে খুব শীঘ্রই ।রাস্তায় যেতে যেতে সে বলছিলো তার ছেলেকে সে তার মতই নাকি হিরো বানাবে । আমি হাসছিলাম আর ভাবছিলাম সেটা কিভাবে সম্ভব । নিজেকে সংবরন না করে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেই ফেলেছি ভাই, কিভাবে সম্ভব সেটা । তার উত্তর ছিলো আমার ছেলেটা এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে । টেস্টে এবার সে এ+ পেয়েছে, ইনশাআল্লাহ মূল পরীক্ষাতেও পাবে ।আর দুটো মেয়ে আছে তারাও পড়াশোনা করছে । একজন পড়ে ক্লাস এইটে আরেকজন ক্লাস থ্রিতে । এগুলো বলার পর সে এও বলল, এখন রিকশা চালাই এক সময় আর আমাকে কষ্ট করতে হবেনা ।তার চোখে মুখে আমি তারুন্যের স্বপ্ন দেখেছি । সে বিশ্বাস করতে শিখে ফেলেছে যে, তার আর একসময় কষ্ট করতে হবে না । কিন্তু তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি দেশের ভূমিকা কতটুকু কার্যকর । বলা যেতে পারে একটি দেশ কিভাবে একজন ব্যক্তির স্বপ্ন পুরনের নিয়ামক হয় । এর উত্তর হল একটি দেশের সবচেয়ে বড় উপাদান সেই দেশের নাগরিক যার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ভরপোসনের দায়িত্বও ঐ দেশের সরকারের অবশ্যই আছে । আর এই দায়িত্বর প্রধানতম কারন হচ্ছে এই জনগনের দ্বারাই দেশের সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া ।    

একটি দেশের মানুষ ভোট দেয় তারপর গঠিত হয় নির্বাচিত সরকার, মন্ত্রিপরিষদ, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি ইত্যাদি..।যাদের ভোটে কোন দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা নির্বাচিত হয় তারাইতো আসল রাজনীতিবিদ । কিন্তু আমাদের দেশে বার বারই এই রাজনীতির বাইরে একটি রাজনীতি হয় । সেটা সবাই জানে । কয়েকটি মানুষের কাছে কুক্ষীগত ক্ষমতা নরানোর নামই আমাদের দেশের রাজনীতির অন্য নাম হয়ে দাঁড়াচ্ছে !!!

কিন্তু ক্ষমতার এ অপব্যবহারেও চলে তমুল প্রতিযোগীতা । প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় ২২ বছরে প্রানহানি হয়েছে ২৫১৯ জনের ( ০৫/১১/২০১৩ ইংতারিখে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী) ।

 একটি দেশের রাজনৈতিক সহিংশতা বলতে আপনি আমি কি বুঝি ?আমরা যাই বুঝিনা কেন আমাদের দেশে রাজনৈতিক সহিংশতার সঙ্গা হয়ে গিয়েছে দুই দলের মুখোমুখি অবস্থান । আর এই কারনে জনমানুষে শান্তি নাই । মূলত রাজনীতি যারা করছে তাদের রাজনীতির ফলাফল ভোগ করছে সাধারন মানুষ । আবার এই সাধারন মানুষদের ভোট কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে একজনকে নির্বাচন করার জন্য ।

যদি নির্বাচন করেই একজন মানুষকে নির্বাচিত হতে হয় তবে সেই নির্বাচনের মূল নিয়ামক জনসাধারনের আজ অধিকার বঞ্চনার গল্পই বেশী ভারি হবে । কিন্তু একটি সভ্য সমাজ এই অসহায়ত্বকে সমর্থন করেনা । আমরা যদি সবাই রাজনীতির মধ্যেই হই তবে আমাদের কন্ঠস্বরেই তাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো । কিন্তু অর্থনীতির একমুখীতা, ছাত্র সমাজের নিরব ভূমিকা পালন অথবা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দল প্রীতি এবং মানুষের মধ্যে চরম অশিক্ষা আজ জনগনের কাছ থেকে তার মূল্যবান ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে । যদি এইসব অবিচারীয় হত্যাকান্ড বন্ধে কোন সজোড় প্রতিবাদ না আসে তবে কোনদিন এই বদ্ধ অবস্থা থেকে এ জাতি মুক্তি পাবেনা ।

আমরা যারা লিখি তাদের অনেকেই প্রতিটি লেখায়ই এই অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে । কিন্তু লেখার কার্যকারীতাও সচেনতা সৃষ্টিতে তেমন ভাবে সাড়া ফেলতে পারেনা । আবার এমন কিছু মানুষ আছে যারা শুধু গাঁ বাচিয়ে চলার চেষ্টা করে । কিন্তু গাঁ বাঁচাতে গিয়েও কি সে রাজনীতির বাইরে ?

কখনই সে রাজনীতির বাইরে যেতে পারে না । ভোটের দিন সরকার অফিস আদালত বন্ধ করে দেয় ভোট দেওয়ার জন্য, হরতালের সময় দাম দিয়ে জিনিস কিনে খেতে হয়, নিরাপত্তা হীনতার সমস্ত ভাগটাও নিতে হয়, দেশে যেটুকু শান্তি আসে তার সুবাতাসও সে পায়। তাই একজন একজন করেই এ দেশ এদেশের রাজনীতি । আর এজন্যই প্রতিটি মানুষের অধিকার আগে বাঁচাতে হবে । আজ নির্বাচনকালীন যে সহিংশতার আভাস আমরা পাচিছ তা ঠেকাতেও এই জনগনকেই এগিয়ে আসতে হবে । আসুন আমরা প্রত্যেকেই ঐ রিবশাওয়ালার মত আমাদের জীবন ও জীবিকার চিন্তা করি সউপায়ে, কিছু দেওয়ার চিন্তা করি এদেশেকে ।নিজে যদি স্বচ্ছল এবং আত্বনির্ভরশীল থাকা যায় তবেই আমি দেশের সম্পদ এবং কোন মানুষের জন্য সাহায্য কর্তা । মানুষের এটাইতো সবচেয়ে বড় অর্জন । আমরা এই অর্জন গুলোর দিকে না তাকিয়ে যদি হই হুল্লোর করে ক্ষমতা দখলের চেষ্ট করি তবে ক্ষমতা কখনই ধরা দেবেনা । ক্ষমতা নামের যে অসততা আজ পরীলক্ষিত তা-ই দিন দিন বিস্তার লাভ করবে । তাই রাজনীতি হতে হবে জনগনের দ্বারাই পরিচালিত কোন গতিশীল প্রক্রিয়া ।  রাজনীতিকরা যে যাতেই আন্দোলন করুকনা কেন তারা যদি এই সব সহিংশতার কাজে কোন মানুষের সমর্থন না পায় তবে কিভাবে সহিংশতা করবে ? সব সহিংশতা বন্ধে রাষ্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপাদান নাগরিকের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশী ।    

   

১,১৮২ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যেতে চাই ।
সর্বমোট পোস্ট: ১৯০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৬৯২ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-১৭ ১২:১২:৫১ মিনিটে
banner

১৪ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    যদদিন স্বার্থপরতা মনোভাব না কমবে ততদিন দেশ উন্নতির দোয়ারে পা রাখতে পারবে না ।

    ভাল লাগল আপনার লেখা

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনাকে ধ্যণবাদ মন্তব্যের জন্য । আসলে স্বার্থপরতার মনভাব কমানোর জন্য সত্যিকারের শিক্ষা এই প্রজন্মের মধ্যে ঢোকাতে হবে । যদি এই ক্ষেত্রে শিক্ষা সঠিকভাবে দিতে ব্যর্থ হওয়া যায় তবে সারাজীবনই এদেশ এমন কুক্ষীগত অসভ্য রাজনীতির খেলায় প্রকম্পিত হবে ।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    সব সহিংশতা বন্ধে রাষ্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপাদান নাগরিকের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশী । রাজনীতিকরা যে যাতেই আন্দোলন করুকনা কেন তারা যদি এই সব সহিংশতার কাজে কোন মানুষের সমর্থন না পায় তবে কিভাবে সহিংশতা করবে ।তাই রাজনীতি হতে হবে জনগনের দ্বারাই পরিচালিত কোন গতিশীল প্রক্রিয়া ।

    আপনি ঠিক বলেছেন অযোগ্য আমাদের উচিত দূর্নীতিবাজ পলিটিশিয়ানদের বয়কট করা।এদেরকে যদি আমরা ভোট না দেই বা বর্জন করি একসময় নিশচয় তাদের মধ্যে সচেতনতা আর বিবেকবোধ আসবে।
    ভাল লগেছে এই বক্তব্যধর্মী লিখাটি।

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনার বিশ্লেষনীয় মন্তব্যের জন্য ধণ্যবাদ । আসলে বয়কট করাটাও এত সোজা হবেনা । এদের থেকে আস্তে আস্তে সমাজকে বের করে আনতে হবে । তাদের সকল কর্মকান্ডকেই ভালো বলে সমর্থন দেওয়ার রীতি বাদ দিতে হবে । ধণ্যবাদ । ভালো থাকুন ।

  3. তাপসকিরণ রায় মন্তব্যে বলেছেন:

    রাজনীতি আজকাল প্রায় দেশেই ক্যাচালের পর্যায়ে পড়েছে।অত্যাচারের ধাক্কা জনগণের কাছে যে দিন অসহ্য হয়ে উঠবে,তখনই ধীরে ধীরে প্রজ্বলিত হবে অগ্নি–আর সে তাপিত দাবেই জনগণ জীবন মরণ পণ নিয়ে রুখে দাঁড়াবে,আর তখনই ঘটবে ইপ্সিত ক্রান্তিকারি ঘটনা–তা না হলে এ ষড়যন্ত্রতন্ত্র থেকে মুক্তি কথায়?ভাল লিখেছেন,ভাই!

  4. মাসুম বাদল মন্তব্যে বলেছেন:

    জনসচেতনতা আসবে …

  5. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    অত্যাচারের মাত্রা যত বেশী হবে সরকারের পতন তত দ্রুত হবে।

    • সাঈদ চৌধুরী মন্তব্যে বলেছেন:

      আমির ভাই, আপনার এই কথাটি আসলে আমি ঠিক বুঝলাম না । অত্যাচার বলতে কাদের উপর অত্যাচারের কথা বুঝিয়েছেন ? অত্যাচারের মাত্রা বাড়লে কষ্টটা কার হয় !!!

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    তাপস কাকার সনে একমত

  7. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    Valo boktobyo

  8. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো সো লিখার ফন্টটা দেখে নিন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top