Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

রাজা ও একটি শিশু

লিখেছেন: বিএম বরকতউল্লাহ্ | তারিখ: ১৮/০৮/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1255বার পড়া হয়েছে।

এক ছিল অত্যাচারী রাজা। কারণে-অকারণে মানুষ ও পশু-পাখিদের ধরে অত্যাচার করে আনন্দ পেতেন তিনি। কেউ পছন্দ করত না রাজাকে। মনে মনে সবাই ঘৃণা করত তাঁকে। এটা রাজা জানতেন। তবুও কমতি ছিল না তাঁর অত্যাচারের।

একদিন রাজা হাতি চড়ে শিকার করতে বের হলেন। তার সাথে রয়েছে সিপাই, পাইক-পেয়াদা আর কোতোয়াল। সবাই হাতির পিঠে চড়ে বেরিয়েছেন। তাদের কোমড়ে তলোয়ার।

পথের ধুলোবালিতে বসে খেলা করছিল একটা শিশু।
রাজাকে দেখে সবাই ভয়ে দৌড়ে পথ ছেড়ে পালিয়ে গেল। পথের শিশুটি আপনমনে খেলা করতে লাগল।

সবার সামনে রাজার হাতি। পথের মাঝে শিশুটিকে দেখে রাজার হাতি দাঁড়িয়ে গেল। আর সাথে সাথে পেছনের সব হাতিও গেল দাঁড়িয়ে।

রাজা কঠিন গলায় বললেন, ‘দাঁড়ালে কেন?’
হাতিচালক বলল, ‘একটি শিশু পথের ঠিক মাঝখানে বসে খেলা করছে রাজামশাই। সরছে না।’
সরছে না? রাজা শিশুটিকে লক্ষ করে বললেন, ‘কে রে তুই, আমার পথ আগলে বসে আছিস? সর।’
‘তোমরা সরে যাও। দেখছ না আমি যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছি। আমার পুতুল এখন যুদ্ধ করতে যাবে। পথ ছেড়ে দিলে যুদ্ধে যাবে কিভাবে?’ বলল শিশুটি। সে তার পুতুলসেনাকে যুদ্ধে পাঠাবার জন্য তৈরি করে দিচ্ছে। খুব ব্যস্ত সে।

রাজা শিশুর কথা শুনে আর তার ব্যস্ততা দেখে রেগে আগুন হয়ে বললেন, এ’ই ছোকরা, জানিস কার পথ আগলে বসে আছিস আর কার সাথে কথা বলছিস তুই? এত বড় দুঃসাহস!

শিশুটি কারো দিকে না তাকিয়ে বলল, ‘আমার পুতুল এখন যুদ্ধে যাবে। আমি তাকে রেডি করে দিচ্ছি। তলোয়ার কই খুঁজে পাচ্ছি না। সে মাথা ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক খুঁজে তলোয়ার পেল না। শেষে একটা দুর্বাঘাসের ডগা ছিঁড়ে পুতুলের কাঁধে বসিয়ে দিয়ে বলল, এই হলো তোমার তলোয়ার। যুদ্ধ করে রাজাকে পরাজিত করবে। ভয় করছে তোমার? কোন ভয় নেই। আমি আছি তোমার সাথে। যুদ্ধ করতে করতে রাজাকে শেষ করে ফেলবে তুমি। তারপর তুমি হবে সেনাপতি আর আমি হব রাজা। যাও, যাও, হা: হা:।’

অধৈর্য হয়ে উঠলেন রাজা। তিনি কঠিন গলায় বললেন, ‘এই ছোকরা কত বড় দুঃসাহস তোর। সরবি তো সর নইলে এই তলোয়ারের আঘাতে টুকরো টুকরো করে ফেলব তোকে।’

শিশুটি বলল, ‘আমি যুদ্ধ করে রাজা মারব। তারপর আমি হব রাজা। আমি সরব কেন? তুমি ওপাশ দিয়ে চলে যেতে পার না?’

রাজা উত্তেজিত হয়ে আদেশ করল, ‘পিষ্ট করে ফেলো বেয়াদব ছোকরাটাকে।’
হাতিকে আদেশ করা হলো। হাতি শিশুটিকে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে গেল। রাজা পেছনে তাকিয়ে দেখে, শিশুটি তার পুতুলকে যুদ্ধে পাঠাবার আয়োজনে ব্যস্ত। ব্যাপার কি?

আবারও নির্দেশ করল রাজা শিশুটিকে পিষ্ট করার জন্য। হাতি ঘুরানো হলো পিছন দিকে। কিন্তু হাতি শিশুটিকে পিষ্ট না করে হেঁটে সামনে চলে গেল। আবারও হুংকার দিয়ে রাজা বলল, ‘শিশুটিকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে বুঝিয়ে দাও, রাজার পথ সবার পথ নয়। রাজার পথে থাকলে মরতে হয় পিষ্ট হয়ে।’

পথের দুপাশে প্রজাদের বাড়িঘর। প্রজারা ভয়ে যার যার ঘরে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে এসব। তারা এই অত্যাচারী রাজার হাত থেকে শিশুটিকে রা করার জন্য স্রষ্টার কাছে করুন মিনতি করছে।

শিশুটি পথ ছাড়ল না। আপন মনে খেলছে সে। হাতি এবারও শিশুটিকে পাশ কেটে চলে গেল।

রাজার ধমকে সবাই থমকে দাঁড়াল। রাজা রাগে কাঁপতে কাঁপতে হাতির পিঠ হতে লাফিয়ে পড়লেন পথে। খাপ থেকে সটান বের করলেন তলোয়ার। অবাধ্য হাতিকে গালমন্দ করতে করতে ছেলেটির দিকে এগিয়ে গেলেন। ভয়ে লুকিয়ে থাকা শিশুটির পিতা-মাতা চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে বলল, ‘প্রভু এ যাত্রায় তুমি এই ভয়ংকর রাজার হাত থেকে আমার সন্তানকে রা করো। তোমাকে কথা দিলাম, এবার আমার সন্তানটি জীবনে বেঁচে গেলে এ রাজ্য ছেড়ে চলে যাব প্রভু!’

রাজা তলোয়ার উচু করে শিশুটিকে আঘাত করতে তেড়ে গেলেন এমন সময় ঘটল আরও ভয়ংকর ও আযব এক ঘটনা। রাজার হাতিটি হঠাৎ চিৎকার করে উঠল এবং শূঁড় দিয়ে প্যাঁচিয়ে ধরল রাজাকে। হাতিটি একটা হ্যাঁচকা টানে পায়ের নিচে ফেলে পিষে ফেলল অত্যাচারী রাজাকে। তারপর হাতিটি শিশুটিকে তুলে পিঠে বসিয়ে সোজা চলে গেল রাজপ্রাসাদে।

শিশুটিকে নিয়ে বসিয়ে দেওয়া হলো রাজসিংহাসনে। অত্যাচারী রাজার বদলে শিশুরাজার শাসনে রাজ্যে ফিরে এল শান্তি।

১,৩৪৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
@ লেখালেখি করি সেই ছোটোবেলা থেকেই। বাবার কাছে হাতেখড়ি। বাবা লিখে আমাকে পড়াতেন। আর আমি লিখে বাবাকে দেখাতাম। তালে তালে তালাতালি! জাতীয় দৈনিকে, রেডিওতে আর্টিকেল, ফিচার, রম্য ও ছড়া লিখতাম একসময়। তারপর শিশুতোষ গল্পের প্রতি ঝুকে পড়ি। ছড়া লিখি মাঝে মধ্যে। @ প্রকাশিত গ্রন্থঃ ছয়টি। @ প্রাপ্ত পুরষ্কারঃ জাতিসংঘ (ইউনিনসেফ) কর্তৃক আয়োজিত দেশব্যাপী বড়োদের গ্রুপে গল্পলেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে "মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ২০১১" লাভ করি। @ পেশাঃ চাকরি। @ পেশাগত কারণে ব্যস্ততার মধ্যেই কাটে সময়। এরই মধ্যে সময় করে লেখালেখি করার চেষ্টা করি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়াতে নিয়মিত লিখছি। লেখায় গতানুগতিক চিন্তা-চেতনার পরিবর্তে স্বকীয়তার ছাপ রাখার চেষ্টা করি। ব্লগে লিখে অনেক আনন্দ পাই। প্রিয় পাঠকদের মন্তব্য, পরামর্শ ও উপদেশ আমার লেখালেখির মতো সৃজনশীল কাজে শুধু অণুপ্রেরণাই যোগায় না; নিজেকে পরিশুদ্ধ ও লেখার উৎকর্ষ সাধনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
সর্বমোট পোস্ট: ২৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১৬৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৫-২৯ ১১:৫১:৫৪ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. এ টি এম মোস্তফা কামাল মন্তব্যে বলেছেন:

    রূপকথা ধাঁচের গল্পটি ভালো লেগেছে।

  2. আলামগীর কবির মন্তব্যে বলেছেন:

    শেষ হওয়া পূর্ব পর্যন্ত খুবই ভাল লাগছিল। শেষটুকু আর একটু ভাল হলে খুব ভাল লাগত।

  3. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্পটি কি চিরায়ত গল্প নাকি আপনার নিজস্ব সৃষ্টি?

  4. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো,যুলুম অত্যাচার বেশি দিন চলে না ।

  5. সাফাত মোসাফি মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুণ লাগল।আপনাকে ধন্যবাদ।

  6. বিএম বরকতউল্লাহ্ মন্তব্যে বলেছেন:

    উৎসাহবোধ করছি। আপনাকে ধন্যবাদ।

  7. এম, এ, কাশেম মন্তব্যে বলেছেন:

    ঈশ, আমরা ও যদি আমাদের অত্যাচারী রাজরাজরাদের
    সরিয়ে রাজা হতে পারতুম,
    ভাল লাগা……………………………………………………।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top