Today 08 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

সোহাগের সুন্দর বন পরিবহন এক্সপ্রেস

লিখেছেন: আরজু মূন জারিন | তারিখ: ১২/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1266বার পড়া হয়েছে।

তৃতীয় পর্ব

নিথুয়া পাথারে পড়ে গেছি বন্ধুরে।
ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।
ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।

ট্রানজিষ্টারধারী ব্যকূল গলায় আহাজারির ভঙ্গিতে কাওকে উদ্দেশ্য করে গান গেয়ে যাচ্ছে।
ওই ব্যাটা শুদ্ধ করি গান গা ।সকালের প্লাষ্টিকের সাপে ভয় খাওয়া লোকটা ধমক মেরে বলল।

নির্ধারিত রেষ্ট হাউসে সবাই রাতের রেষ্ট নিবে এবং সোহাগ আর রশীদ মিঞা তারা বাসে রেষ্ট নিবে ঠিক করল।

বেদ্দব পুরা বেদ্দবের দল বিড়বিড় করে রশীদ মিঞা দুইজনের উদ্দেশ্যে গালাগাল করতে লাগল।
রশীদ মিঞার এমনিতে একটু মন খারাপ।সারাবাসে কোন মহিলা যাত্রী নাই।এটা একটা হইল মেয়েশূন্য পৃথিবী।

ভাইজান কেমন হই গেল প্রথম যাত্রায় মায়ের জাতি নাই।গনতন্ত্র হইলনা ভাইজান।শুধু একদল স্বৈরাচার যা ইচ্ছে তাই করতেছে ট্রানজিষ্টার এর দিকে ঈঙ্গিতে দেখায়।

মুখে আনিসনা সর্বনাশগো নাম।মাইয়া থাকলে দেখতি চুলাচুলি কামড়াকামড়ি করি জান শেষ করি দিত।দেশের অবস্থা দেইখা তোর শিক্ষা হয়নো রশীদ।দুইটা মাইয়া একলগে কোনসময় থাকত দেখছ।খুবই হিংসুটা জাতি।

ভাইজান হুশ কইরা কথা কন।আপনের মা আমার মা মাইয়া মানুষ।সব মাইয়া কি খারাপ?

রশীদ মিঞা মেয়ে মানুষ ছাড়া নিঃসঙ্গ বোধ করতে লাগল।আল্লাহ তার মনোবেদনা টের পেলেন।অনতি বিলম্বে একটা বাস এসে দাড়াল সোহগের সুন্দরবন এক্সপ্রেসের পাশে যেটার ড্রাইভার সহ সব মেয়ে যাত্রী।সম্ভবত কোন মেয়ে কলেজ এক্সকারশনে এসেছে।

এখন ও অন্ধকার নেমে আসেনি প্রকৃতিতে।বাসটা থামিয়েছে সোহাগ হিরন পয়েন্ট এর কিছুটা আগে এক খোলা মাঠে আর ও কিছু গাড়ী আর বাসের সাথে।অনেকক্ষন গাড়ী চালিয়ে সোহাগ ভীষন ক্লান্ত।আড়মোড়া কেটে ক্লান্তি দুর করার চেষ্টা করল।রশীদের মুখোমুখি আরেক বাসের জানালা দিয়ে কুড়ি বাইশের একটা অল্পবয়সী মেয়ে চারিদিকে গাছপালা প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করছিল সম্ভবত।রশীদ অপলক নেত্রে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল।মনে মনে আল্লাহর বানানো সুন্দর ছবির তারিফ করতে লাগল।

মেয়েটির পাশে একজনকে দেখা গেল দশাশই শরীরের মহিলা আত্মীয় শ্রেনী মা বুয়া শ্রেনীর।ঝট করে এসে জানালা লাগিয়ে দিল।লাগানোর আগে ভাল করে শাসিয়ে দিয়ে গেল।

ওই পোলা মাথা নীচু।আমার মাইয়ার দিকে আরেকবার তাকাইলে চোখ কানা করি দিমু বেত্তমীজ কোনাইকার।

রশীদ ও ভয়ে জানালা লাগিয়ে দিল।জীবনে ওই চোখ তুইলা ওই মেয়ের দিকে তাকাইবনা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল।বাপরে আমার চোখ অনেক মূল্যবান।

সবাই বাস থেকে নামল।আশেপাশে ঘুরে দেখছে তার সাথে ছবি তুলছে।

রশীদ হাটতে হাটতে জঙ্গলে র ভিতরে ঢুকল।একগাছের নীচে দাড়াল কিছুক্ষনের জন্য।আয়েশ করে তার প্রথম সিগারেট ধরালো।

চারিদিকে শোরগোল চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে যা দেখল মুখ দিয়ে বের হল আবার বেক্কল টা জ্বালাই খাইব দেখতেছি।

এবার সাপ না বানরের সাথে বানরের ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করতাছে সকালের ভয় খাওয়া গাধা।

বানরটা এখানে কোথ্থেকে জোগাড় হল কে জানে।কিন্তু এখন সে ওই লোকের কাধে চড়ে কান ধরে বসে আছে।লোকটা যতই মাথা নেড়ে ঝাকুনী নিয়ে বানরটারে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে অনুকরণপ্রিয় বানর ও একই জিনিস করছে। বানর একই ভঙ্গিতে দাত মুখ ভেংচি কেটে মাঝে মাঝে লোকটার গালে থাপ্পড় মেরে যাচ্ছে।

ও আল্লাহ গগনবিদারী চিৎকার করছে দৌড়ের সঙ্গে লোকটা।

এটারে সরা সরা সরা ।
সর তুই মরা মরা মরা।

(পরবর্তীতে)

১,৩৬১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে বললে সবসময় বিব্রত বোধ করি। ঠিক কতটুকু বললে শোভন হবে তা বুঝতে পারিনা । আমার স্বভাব চরিত্র নিয়ে বলা যায়। আমি খুব আশাবাদী একজন মানুষ জীবন, সমাজ পরিবার সম্পর্কে। কখনো হাল ছেড়ে দেইনা। কোনো কাজ শুরু করলে শত বাধা বিঘ্ন আসলেও তা থেকে বিচ্যুত হইনা। ফলাফল পসিটিভ অথবা নেগেটিভ যাই হোক শেষ পর্যন্ত কোন কাজ এ টিকে থাকি। জীবন দর্শন" যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ " লিখালিখির মূল উদ্দেশ্যে অন্যকে ভাল জীবনের সন্ধান পেতে সাহায্য করা। মানুষ যেন ভাবে তার জীবন সম্পর্কে ,তার কতটুকু করনীয় , সমাজ পরিবারে তার দায়বদ্ধতা নিয়ে। মানুষের মনে তৈরী করতে চাই সচেতনার বোধ ,মূল্যবোধ আধ্যাতিকতার বোধ। লিখালিখি দিয়ে সমাজে বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমি লিখি এ যেমন এখন আমার কাছে অবাস্তব ,আপনজনের কাছে ও তাই। দুবছর হলো লিখালিখি করছি। মূলত জব ছেড়ে যখন ঘরে বসতে বাধ্য হলাম তখন সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে লিখালিখি শুরু। তবে আজ লিখালিখি মনের প্রানের আত্মার খোরাকের মত হয়ে গিয়েছে। নিজে ভালবাসি যেমন লিখতে তেমনি অন্যের লিখা পড়ি সমান ভালবাসায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা :রসায়নে স্নাতকোত্তর। বাসস্থান :টরন্টো ,কানাডা।
সর্বমোট পোস্ট: ২২৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৩৬৮৩ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৫ ০১:২০:৩৫ মিনিটে
banner

১২ টি মন্তব্য

  1. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব মজার গল্প । ভাল লাগল পড়ে । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  2. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ রহমান ভাই।আপনাদের প্রশংসা শুনলে অনেক খুশী হই।শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  3. ওয়াহিদ উদ্দিন মন্তব্যে বলেছেন:

    নিথুয়া পাথারে পড়ে গেছি বন্ধুরে।
    ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।
    ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।

    গানের উল্লেখ খুব ভাল লাগল। এরূপ পরিবেশে এ ধরণের গান খুব মনে ধরে।

  4. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ ওয়াহিদ ভাই আপনার কমেন্টসের জন্য।আপনি চলন্তিকাতে অনেক কম লিখেন।বেশী করে লিখবেন।ভাল থাকবেন কেমন ।

  5. কে এইচ মাহবুব মন্তব্যে বলেছেন:

    আরজু আপু তুমি কেমন আছো আমাকে বলনা । আত বড় লেখা অনেক কষ্টের । ভালো থাকবে ।

  6. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    আমিতো ভীষন আনন্দে অতীব সুখে আছি।(আলহামদুলিল্লাহ)

    তুমি ও অনেক ভাল থাকবে ভাই।শুভকামনা।

  7. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    নিথুয়া পাথারে পড়ে গেছি বন্ধুরে।
    ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।
    ধর বন্ধু আমার কেহ নাই।——চমৎকার গান।

  8. আজিম মন্তব্যে বলেছেন:

    মজার গল্প এবং সাথে আঞ্চলিক ভাষারও কিছুটা সংমিশ্রন, আরজু আপা ভাল হচ্ছে, পড়তে ভাল লাগছে, চালিয়ে যান ।

  9. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল আপি

  10. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আপি মন্তব্যের জন্য।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top