Today 19 Jun 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে সীমাহীন

লিখেছেন: রাজিব সরকার | তারিখ: ১৩/০১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1090বার পড়া হয়েছে।

আমি তখন হাটতেছি।পাশে কেউ ছিল না।আমি তখন দিবাস্বপ্ন দেখছিলাম।স্বপ্নটা এরকম।
-এই পাস্তুর,এই দিকে আয়তো।
পাস্তুর হেসে বললেন-আমি একজন সম্মানিত ব্যক্তি,আমাকে এভাবে ডাকবেন না।
-আচ্ছা সরি,নিজেকে বড় ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিতো।আপনার খবর কি?
-এই তো ভাল।কিছুদিন আগে একটা ঝামেলা হয়েছিল।
আমি বললাম-স্বর্গে আবার কি ঝামেলা?
-ঈশ্বরের সাথে বিবাদ।যতই বলি,গবেষণা করব,ব্যাটা নারাজ।বলে-স্বর্গে গবেষণা করার কি দরকার?আমি বলি-অনেক কিছুইতো অজানা।ঈশ্বর বলেন-জনাব পাস্তুর এখন সুখে কাটান,গবেষণাতো পৃথিবীতে করে এসেছেন।
-ঈশ্বরতো ঠিকই বলেছেন।স্বর্গে গেছেন,ফূর্তি করবেন,এটাইতো ঠিক।
পাস্তুর সাহেব বিমর্ষ বদনে বললেন-আমার যে গবেষণা ছাড়া আর কিছুই ভাল লাগে না।
আমি হেসে বললাম-আচ্ছা আমি ঈশ্বরকে অনুরোধ করব।
পাস্তুর হাসলেন।এমন হাসি যেন পৃথিবীর সব পেয়ে গেছেন।এমন সুন্দর হাসি আমি আর কখনো দেখিনি।এমন সময় কার সাথে যেন ধাক্কা খেলাম-সামনে তাকিয়ে দেখি মোহিতা।আমার কলেজ বান্ধবী।স্বপ্নের ঘোর কেটে গেল।মনে মনে পাস্তুর সাহেবকে বিদায় দিলাম।মোহিতা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমার যদি বলিউড স্টারদের মত চেহারা হত,তাহলে এক কথা-তাওতো নয়-হাবাগোবা ধরণের।একেই বলে বুঝি-যে না আমার চেহারা,তার নাম পেয়ারা।
আমি বললাম-এই বান্দর,কি হল?
মোহিতা কিছুটা স্বাভাকিক হয়ে বলল-তোমার মত ছাগল আমি দুনিয়াতে একটিও দেখি নাই।চশমা পরেছ,চশমার লেন্স কই?
তাইতো,নিজে নিজেই বিস্মিত হলাম।এমন গবেট ধরণের কাজ কিভাবে করলাম,বুঝে উঠতে পারছি না।
মোহিতা হেসে বলল-শার্ট ইন করে পরেছ,বেল্ট কই?
আমি প্যান্টের দিকে তাকিয়ে দেখি-সত্যিই তো বেল্ট লাগাইনি।বেল্ট লাগাবো লাগাবো করেই লাগাইনি।মনে হল,মাথা বুঝি আমার গেছে-তাড়াতাড়ি পাবনা যেতে হবে।আমি মোহিতাকে কি বলব ভেবে পাচ্ছি না।তার সাথে আমার পুরো বেজি-সাপ সম্পর্ক।
আমি স্বাভাবিক হয়ে বললাম-তোমাদের সুন্দরী মেয়েদের সমস্যা কি জান?
-কি?
-তোমরা রাস্তায় যাইতেই ওই ভাই,এই ভাইয়ের রীতিমত প্রশংসা পাও।আর ফোনেতো রীতিমত আছেই।তোমার চেহারা চাঁদের মত,চাঁদ না শুধু পূর্ণিমা চাঁদের মত,ক্যাটরিনা কাইফের চেয়েও বেশি সুন্দরী।এসব প্রশংসা বাক্য শুনতে শুনতে তোমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছ।এখন আর প্রশংসা না শুনলে ভাল লাগে না।মনে হয়, তোমাদের বিশ্বজুড়ে সবাই প্রশংসা করুক।কী বিশ্রী শখ তোমাদের,ছি,ছি?
মোহিতা এতক্ষণ চুপ করে শুনছিল।কথাটা যে মিথ্যা তা নয়।আসলেই মেন্টালিটি ওরকমই হয়ে গেছে।মোহিতা হেসে বলল-তা হলেতো বুঝই,কেন তাহলে তুমি আমার প্রশংসা কর না?
-দুনিয়ার সবাইতো তোমার প্রশংসা করবে না।তাই কিছুটা কষ্ট পেতেই হবে।
মোহিতা গম্ভীরভাবে বলল-কারেক্ট।
মোহিতা চলে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে,কান্না করছে।মাঝে মাঝে কান্না করা খারাপ না।
সামনেই অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ।আমার বিভাগ।ক্লাসে ঢুকলাম।সঞ্জয় মুখার্জী বাশি বাজাচ্ছে।রাইসা বলছে-ইস্রাফিলের শিঙ্গা আর বাজিয়ো না।আমরা এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না।
তবুও সঞ্জয় বাশি বাজাতে লাগল।এক অনির্বচনীয় আনন্দ তার চোখে মুখে।সব ধ্বংস হোক,তবুও সে বাশি বাজাবে।
ক্লাসের যে ফাস্ট বয়,সে গল্পের বই পড়ছে।এক ছেলে দাঁড়িয়ে বলল-ম্যাডাম,পড়া আর মাথায় ধরে না।
ম্যাডাম তবুও পড়াতে লাগলেন।আমি বারবার ঘড়ি দেখতে লাগলাম।সময় যেন কাটে না।পেছনে ছেলেমেয়েরা কথা বলছে।ম্যাডাম এ জন্য বিরক্ত প্রকাশ করছেন।মাঝে মাঝে আমার মনে বুদ্ধিজীবিদের নিয়ে প্রশ্ন উঠে।আমদের পড়াশুনাটা রীতিমত বিরক্তির,এটা কি আনন্দদায়ক করা যায় না,বুদ্ধিজীবিদেরমাথায় বুঝি এটা আসে না অথবা তারা অপারগ।হয়তোবা এর জন্য আমরা ছাত্ররাই দায়ী-কি জানি,কে জানে?পৃথিবীতে অনেক কিছুই রহস্যময়।সব রহস্যের জট খুলতে নেই।
ক্লাস শেষ।মোহিতা দাঁড়িয়ে আছে।প্রতিদিনই থাকে।চুলগুলো এলোমেলো,একটুও সাজেনি।আমি হেসে বললাম-এলোমেলো অবস্থা কেন?
মোহিতা দেরি না করে বলল-তোমার বান্ধবীতো তোমার মতই হবে,তাই না?
আমরা হাটতে লাগলাম।এ পথ যদি অন্তহীন হত-পাশাপাশি দুজনে হাটতাম আর হাটতাম-স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে সীমাহীন।

১,১৩১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ১৭১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-৩০ ১৬:১৭:৫০ মিনিটে
banner

৭ টি মন্তব্য

  1. আরজু মন্তব্যে বলেছেন:

    তবুও সঞ্জয় বাশি বাজাতে লাগল।এক অনির্বচনীয় আনন্দ তার চোখে মুখে।সব ধ্বংস হোক,তবুও সে বাশি বাজাবে।

    ক্লাস শেষ।মোহিতা দাঁড়িয়ে আছে।প্রতিদিনই থাকে।চুলগুলো এলোমেলো,একটুও সাজেনি।আমি হেসে বললাম-এলোমেলো অবস্থা কেন?
    মোহিতা দেরি না করে বলল-তোমার বান্ধবীতো তোমার মতই হবে,তাই না?
    আমরা হাটতে লাগলাম।এ পথ যদি অন্তহীন হত-পাশাপাশি দুজনে হাটতাম আর হাটতাম-স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে সীমাহীন।

    মজার গল্প।মজার মজার অংশ কোট করলাম।রাজীব সুন্দর লেখা ধন্যবাদ।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগলো গল্পটি ।একট নিয়ন্ত্রিত গতিতে শুপু থেকে শেষ হয়েছে । শুভ কামনা ।

  3. ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী) মন্তব্যে বলেছেন:

    হুমম দারুণ গল্প ‘স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে সীমাহীন’ পড়লাম, বেশ ভালো লাগলো। ভালোলাগা আর শুভকামনা রইলো।

  4. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল

  5. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    গল্প চমৎকার হয়েছে।

  6. রাজিব সরকার মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ সবাইকে

  7. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    বেশ চমৎকার লিখা

    নাইস ;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;
    ভালো লাগলো পড়ে

    শুভ কামনা রইল

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top