Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে -( পর্ব ১৩-৮ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৩/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1007বার পড়া হয়েছে।

মরু ভূমির প্রাকৃতিক গঠনটাই অন্য রকম । আমাদের দেশের চর অনঞ্চল গুলোতে যেমন শুধু চক চকে বালি থাকে , এখানে কিন্তু ঠিক তা নয় ।সারা মরু ভূমি জোরে মোটা বালি কণা আর নূরী পাথর । পাথর বলতে যে শুধু ছোট পাথর তা নয় । সব আকারের পাথরই আছে । শুধু কালো কালো বিরাট আকারের পাথরও আছে । শুধু পাথরের পাহাড়ও আছে । এখানে আসার আগে শুনেছিলাম , এখানকার আবহাওয়া প্রচন্ড গরম । আসলে কিন্তু আবহাওয়া মোটেই গরম নয় । তবে সূর্যের তাপ একটু বেশী । সেই তাপে মরুভূমির পাথর গুলো উত্তপ্ত হয় এবং তাপ বিকিরণ করতে থাকে । আমাদের দেশে সূর্যের তাপ গাছপালা এবং মাটি শোষন করে । ফলে বিকিরিত হয় কম । এই জন্য সূর্যের তাপের প্রচন্ডতা অনুভূত হয় কম । আমাদের দেশের বৈশাখী রোদের তাপের প্রখরতা এবং সুদানের রোদের তাপের প্রখরতার মধ্যে খুব বেশী তফাৎ নেই । আমাদের বৈশাখী রোদের তাপ সরাসরি সূয্য থেকে এসে আমাদের শরীর ছুয়ে মাটিতে নেমে যায় । কিন্তু মাটি থেকে বিকিরিত হয়ে পূনরায় শরীরে এসে লাগে কম । মরুভূমিতে তার বিপরিত । মরুভূমিতে সূর্যের তাপ প্রথম একবার শরীরে লেগে শরীরকে উত্তপ্ত করে এবং একই সাথে পাথরে পরে পাথরকে উত্তপ্ত করে । পাথর তাপ শোষন করে না । কাজেই উত্তপ্ত পাথর সাথে সাথেই আবার তাপ বিকিরণ করে যা আমাদের শরীরে লাগে এবং আবহাওয়াতে ছড়িয়ে যায় । ফলে মরু ভূমিতে আবহাওয়া এত উত্তপ্ত মনে হয় । রোদের মধ্যে তাপ দাহের কারনে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর । কিন্তু সাথে সাথেই নিকটতম কোন ছায়ার নিচে প্রবেশ করলে দেখা যায় একদম শীতল পরিবেশ । কারণ এখানকার সূর্যের তাপ নিচের পাথরকে উত্তপ্ত করতে পারেনি । ফলে পাথর তাপ বিকিরণ করতে পারেনি । উপরে যে কোন শেড থাকার কারণে সূর্যের তাপ নিচে নামতে পারেনি এবং নিচের পাথর গুলো গরম না হতে পারায় তাপ বিকিরণ করতে পারেনি । যে কারণে মরুভূমিতে যে কোন ছায়া আচ্ছাদিত স্থান থাকে তুলনা মূলক ভাবে শীতল । নিজের দেহকে ছায়ার নিচে রাখার আশায় মরুভূমির অধিকাংশ লোক পুরো গা আচ্ছাদিত করা গাউন বা জোব্বা পরে । আমার ধারনা – আমাদের দেশের মওলানা সাহেবরা যে লম্বা জোব্বা পরা শুরু করেছে , তা হয়তো এই মরু এলাকার লোকদের দেখেই শুরু করে থাকবে । মরুর দেশের লোকেরা কেন জোব্বা পরে তা হয়তো আমাদের দেশের জোব্বা পরিধান কারীরা মোটেই জানেনা । তারা শুধু জানে আরব দেশে ইসলাম নাজিল হয়েছে । আরব মুলুকের লোকেরা যা করে , যা পরে আমাদের তাই করতে হবে , তাই পরতে হবে । মধ্য প্রাচ্যের লোকেরাতো ফরজ নামাজের পর বা ফরজ নামাজ ব্যতীত অন্য কোন নামাজই পরে না । মহিলাদের পর্দা নিয়েওতো কারও তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই । মহিলারা জীবিকার্জনের জন্য কাজ করে খাচ্ছে । কেও ইউরোপিয়ানদের মতো হাফ প্যান্ট , পেন্টি পরছে না সত্য ।কিন্তু আমাদের দেশের ফতোয়াবাজ মোল্লাদের মতো নানা ছুতা নাতায় মহিলাদের ঘরে আটকিয়ে রাখছে না । সাংস্কৃতিক চর্চাও আছে এখানে যথেষ্ট । মেয়েরাও নাচ গান করে ।

৯৯১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    আমি আগেও বলেছি, কিছু মানুষ দিয়ে সবাইকে খারাপ ভাবা যায়না।
    এস এম আব্দুর রহমান ভাইয়ের লেখা নিয়মিত পড়ে যাচ্ছি, ভালো লাগছে।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনি কষ্ট করে পড়ছেন দেখে খুব ভাল লাগছে । আর দুই বৎসর পর শূন্য হাতে অবসরে যাব । তাই মাঝে মাঝে ভাবি চলবো কিভাবে ? আস্তে আস্তে চিন্তা বাড়ছে আর মনে হচ্ছে আতীতের দীর্ঘ জীবনের কথা । মাঝে মাঝে মনে হয় কেন স্রোতের সাথে গা ভাসাতে পারলাম না । ধন্যবাদ আমাকে উপলব্দি করার ভাবনার জন্য ।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    এ পর্বও ভাল লাগল। লিখে যান ভাইয়া।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ার জন্য ধন্যবাদ । ভাল থাকুন সতত ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top