Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব — ১৮)

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০৮/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 948বার পড়া হয়েছে।

আজ সেনেগালের পুলিশদের মেডেল প্যারেড । এখানে মিশনে এফ , পি। ইউ,তে যারা কর্ম রত আছেন , তাদের কর্মে উদ্দীপনা বাড়ানোর জন্যই হোক বা বাৎসরিক একটা অনুষ্ঠান করা দরকার সে জন্যই হোক , বৎসরের যে কোন সময় মেডেল প্যারেড হয় । মেডেল প্যারেডে কমিশনার সহ অন্যান্য সকল কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন । ইউ এন এর কর্ম কান্ডের সাথে জড়িত এ অঞ্চলের লোকদেরও দাওয়াত দেওয়া হয় । মেডেল প্যারেডে ফোর্সদের কয়েকটি প্লাটুন মার্চ পাস করে । তারা ইউ, এন, এ , কাজ করছে সে কারনে তাদেরকে মেডেল প্রদান করা হয় । সেনেগালের ফোর্সদের মার্চ পাস দেখার জন্য আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছে । আমাদেরো একবার মেডেল প্যারেড করতে হবে । আমরা যাতে সেনেগালের মেডেল প্যারেড দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি সেই উদ্দেশ্যেই আমাদের কমান্ডার নিজে যাবেন এবং সকল অফিসার সহ সব র্যাং কের দু-চার জন করে লোক যেতে বলেছেন । আমরা প্রায় ৩০/৩৫ জন লোক চলে গিয়েছি । তাদের বসার যে আয়োজন তার অর্ধেকটা প্রায় আমরা পূরণ করে ফেললাম । আমাদের ছাড়াও আরও চার পাঁচটা ইউনিটের লোক আছে । আমন্ত্রিত অতিথি আছে । আমাতের লোকজন দেখে সেনেগালের অফিসারেরা প্রমাদ গুনতে লাগ লেন । দেরিতে হলেও বিষয়টি আমরা বুঝলাম । আমরা নিজেরা বুদ্ধি ক রলাম , আমরা একজন একজন করে চলে যাব , যাতে সেনেগালের লোকেরা বুঝতে না পারে । কিন্তু আমাদের ভুলের কারণে সে গুড়ে বালি পড়লো । বাংগালী ঝোকে চলে । অর্থাৎ হুরঝুকে বাংগালী বলে একটা কথা আছে না । একা কেউ কিছু করবে না । একজন কে কিছু করতে দেখলে , তখন দল বেঁধে সব ঝাপিয়ে পরে । চলে আসার প্লান করে বসে রইলাম । পিছন থেকে একজন একজন করে চলে আসার কথা । কিন্তু প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে এল , কেউ উঠছে না । এদিকে মেহ্মান আসতে শুরু হয়ে গেছে । বসার জায়গার অভাব অনুভূত হতে লাগল । আমি চলে আসার জন্য রওয়ানা হলাম । আমি একা আসলে হয়তো কেহ খেয়ালও করতো না । কিন্তু যেই আমি রওয়ানা হয়েছি , আমার পিছু লেগেছে তিন চার জন । যাতে স্বাভাবিক ভাবেই সেনেগালের অফিসারদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো । তারা দ্রুত এসে আমাদেরকে চলে আসতে বাঁধা দিলেন । ফলে আমাদের আর আসা হ লো না । ফিরে গিয়ে কোন রকমে বসে পড়লাম ।এখানে কোন বিষয়েই নির্ধারিত সময়ের কোন বালাই নেই । বেলা ১২ টা বেজে গেল । কিন্তু কমিশনার সাহেবের কোন পাত্তা নেই । দুপুরের প্রখর রোদে সেনেগালের ফোর্সেরা লাইন ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে । আমি ভাবতে লাগলাম সেনেগালের ফোর্সেরা গরমের দেশের মানুষ । এমনিতেই তাদেরকে দেখা যায় রোদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে । কোন হায় হুতাস নেই । এটুকু রোদ হয়তো তাদের কাছে সহ্নীয় এবং স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে । শুনেছি , কোন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে কোন প্রাণী বাস করলে আস্তে আস্তে ঐ পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার মত শারীরিক স্টেমীনা তার তৈরী হয় । সে কারণেই হয়তো সেনেগালের ফোর্সদের তেমন কষ্ট হচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল না । তবে এরকম প্রখ র রোদে এত দীর্ঘ সময় আমাদের বাংগালীদের দাঁড় করিয়ে রাখলে দু-চার জন এতক্ষণ পরে যেত এতে আমি নিশ্চিত । অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে , সেনেগালের ফোর্সেরা দগ্ধ হতে লাগলো রোদে, আর আমরা ক্ষুধায় ।শেষটায় যখন ধৈর্য্য হাড়া হওয়ার যোগার , তখন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থাৎ কমিশনার সাহেব এলেন ।তিনি সালামী গ্রহন করলেন এবং ফোর্সেরা মার্চ পাস ক রতে শুরু করলেন । তাদের মার্চ পাস দেখেতো আমরা অবাক । আমাদের দেশে যেভাবে শ্লো মার্চ করে অথবা নতুন ফোর্সদের যেম্ন বাই নাম্বারে মার্চ শিখানো হয় , ঠিক তেমনি অনেকটা । স্লো মার্চের চেয়ে একটু গতি বেশী ।অনেকটা নবাবী চালের মতো ।আমাদের দেশে এক চক্কর মার্চ করতে গেলে গা ঘেমে যায় , হাত পা অবশ হয়ে আসে , এক চক্করেই হাপিয়ে উঠে সবাই । আর এদের মার্চ পাসের যে নিয়ম তাতে সারা দিন মার্চ করলেও কেহ টায়ার্ড হবে বলে মনে হয় না । যাই হোক কথায় বলে না ,যে দেশে যে ভাউ , উলটো করে নাউ বাউ ।সেনেগালের নিয়মে তাদের মার্চ পাস চলবে , এটাই তো স্বাভাবিক । আমরা যারা বৃটিশ উপনিবেশ থেকে আলাদা হয়েছি , সম্ভবত তাদের কুচ কাওয়াজ , সামরিক কায়দা কানুন এক রকম । আমাদের দেশের ফোর্সদের কুচ কাওয়াজ দ্রুত এবং কষ্ট সাধ্য ।মার্চ পাস শেষ হলে সেনেগালের কয়েকজন সৈনিক সে দেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এক ধরনের নৃত্য পরিবেশন করলো । গায়ে পাতা ও ডাল পালা বেঁধে এক ধ রনের জংলী নৃত্য । তা দেখে আর এক বার মনে হলো আসলে আফ্রিকান দেশ গুলির মানুষেরা খুব বেশী আগে সভ্যতার সাধ পায়নি ।যে সময়ে মানুষ বনে বাস করতো , সেই সময়কার সংস্কৃতি এখনো তারা আগলে বসে আছে । আধুনিক বিশ্ব এখন সেই মধ্য যুগীয় নৃত্য ছেড়ে দিয়ে করিওগ্রাফি শুরু করেছে । সেখানে আফ্রিকান অধিবাসীরা এখন ও জংলী নৃত্য নিয়েই পরে আছে ।অনুষ্ঠানে একজন মহিলা এসেছেন, একদম বাংগালীর মত চেহারা । দূর থেকে তো তাই মনে হচ্চজিল ।অবশ্য নেপালী, বুড়কিনা ফাসু , এদের চেহারাও অনেক টা আমাদের মতো । কাজেই তিনি কে এটা জানার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগলাম । অনুষ্ঠান শেষ হলে সবাই ডাইনিং হলের দিকে রওয়ানা হ ,ল । সেই ফাঁকে আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম———–চলবে——

৯২৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

১ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    দারুন লাগতেছে ভাইয়া।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top