Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব — ১৫–১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৯/১১/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1012বার পড়া হয়েছে।

এমনই যখন আমার অবস্থা তখনও আমার ভাই বোনেরা বলে যেহেতু আমি পুলিশ বিভাগে চাকরী করি সেহেতু আমার লক্ষ লক্ষ টাকা আছে , কিন্তু আমি তাদের দিচ্ছি না । আমি চাকরীতে প্রবেশ করার দুই বছর পর প্রথম এক থানায় আমার পোষ্টিং হলো । ৪২৫ টাকা বেসিকের চাকরী । কত টাকা আর বেত্ন পাই ? কিন্তু আমার মা, বাবা, ভাই, বোনেরা ধরে নিল দারোগার চাকরী । টাকাতো ঊড়ে উড়ে আসছে । কাজেই আর বিলমব কেন , ছোট দুই ভাইকে পাঠিয়ে দিল আমার কাছে পড়তে । একজন জামালপুর সরকারি আসেক মাহ মুদ কলেজে , এবং একজন মেলান্দহ হাই স্কুলে ভর্তি হলো । ছোট ভাইয়েরা আমার কাছে থেকে পড়বে , কাজেই নিষধ করার তো কোন কায়দা নেই । দুজনই দুই বৎসর করে পড়ে একজন আই , এস, সি এবং একজন এস , এস , সি , পাশ করলো । এস , এস , সি , পাশ করে এক জন মাদারগঞ্জ কলেজে ভর্তি । এতোমধ্যে আমি শূণ্য হাতে বিয়ে করে ফেললাম । আর বিয়ে করার দেড় মাস পরই আমার ঢাকা এস , বি,তে পোষ্টং হলো । আমি ঢাকা এস , বি,তে যোগদান করে মীরপুর ১৪ নং পুলিশ কোয়াটারে সাবলেট জীবন শুরু করলাম । তখন আমার এমন অবস্থা শুরু হলো যে আমার মাসের টাকা দিয়ে আর মাস চলে না । এমনও দিন গিয়েছে যে , দুই টাকা রিক্সা ভাড়া বাচানোর দুপুর দুইটায় অফিস ছুটি হলে কাঠ ফাটা রোদের মধ্যে পুরাতন বিমান বন্দর থেকে পায়ে হেটে মীরপুর ১৪ নং পুলিশ কোয়াটারে আসতাম । এই যখন আমার অবস্থা , তখন মাঝে মাঝেই কেউ না কেউ অসুস্থ্য হয়ে সু চিকিৎসার জন্য ঢাকা আসতে থাকলো । এর মধ্যে আমার দুই ছোট ভাই ও এক ছোট বোন চাপ সৃষ্টি করতে যে , তাদের পড়ার খরচ দিতে হবে । আমি টাকা দিতে না পারায় তাদের সাথে সমপর্ক ছেদ হয়ে গেল । আমি তাদের শ্ত্রু হয়ে গেলাম । তারা প্রকাশ্যেই ব লতে লাগলো আমার অনেক টাকা আছে । কিন্তু আমি তাদের দিচ্ছি না ।এর মধ্যে যোগ হলো একটি উপাত্য ।আমার শশুর হার্ট এ্যাটাক করে চাকরী করতে অক্ষম হয়ে গেলেন ।তারা কিভাবে চলছে তা আমি জানতাম না । কোন দিন জিঞ্জেস করেও দেখিনি । তবে এটুকু বলতে পারি যে, আমি কোন দিন একটি টাকাও তাদের দিয়ে দেখিনি ।যদিও তাদের সাহায্য করা আমার কর্তব্য ছিল । কিন্তু আমার সাহায্য করার কোন সামর্থই ছিল না । সামর্থ থাকলে কারও ক্তহা আমি শুন তাম না । কিছু না কিছু সাহায্য করতাম । এই অক্ষমতার লজ্জা আমি কোন দিন ভুলতে পারবো না । কিন্তু আমার বাবা মা ভাই বোনেরা ধরে নিল আমি লক্ষ লক্ষ টাকা কামাচ্ছি এবং সেই টাকা দিয়ে আমার শশুরের সংসার চলছে । কাজেই আমার সাথে আমার ভাই বোনদের কথোপকথনও বন্ধ হয়ে গেল । এতেই শেষ নয় । আমার ভাইয়েরা মাঝে মাঝে আমার শশুর বাড়ি গিয়ে আমার শ্যাল্ক ও শাশুরীকে আমার টাকায় সংসার ভালই চালাচ্ছে এই মর্মে কথা শুনিয়ে আসতো । ঢাকাতে মাঝে মাজে আমার পরিচিত জনদের সাথে দেখা হলে তারা বলতো – আমার বড় ভাইয়ের অভিযোগ , আমি বাড়ি যাই না , বাড়ির সাথে কোন যোগাযোগ রাখি না । কিন্তু আমি তো তাদের এ কথা বলতে পারিনা যে , আমার ভাই বোনেরা টাকাহীন আমাকে দেখতে চায় না । তারা খুঁজে বেড়ায় বাংলাদেশী একজন অসৎ পুলিশ অফিসারের টাকার গন্ধ । কিন্তু তা তো আমার নেই । আমি কখনও বাড়ি গেলে ভাই বোনেরাতো কোনছার , আমার মা আমাকে বলতেন –“ তুই তো বাড়িতে কোন ঘর দিসনি , শুবি কোথায় ? আমার তখন কোন এক জায়গায় কোন রক্মে শুয়ে রাত কাটিয়ে চলে আসতে হতো । এ সকল কথা কি আমি বাইরের লোকদের বলতে পারি ? আমি বাড়ি যাইনি, কিন্তু আমি কি করে বলি যে, ঐ সময় এক বার ঢাকা থেকে বাড়ি গিয়ে ঘুরে আসলেই যাতায়াত খরচ যেত অন্তত দুই শত টাকা । আর সংসার চালিয়ে এই দুই শত টাকা অতিরিক্ত খরচ করাই তখনকার সময়ে আমার জন্য ছিল একটা অসম্ভব কষ্টকর ব্যপার । আমার ভাই বোনদের অর্থের প্রতি আশক্তি ও আমার প্রতি আচরণ সারাটা জীবন আমাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে । কিন্তু কাওকে কিছু বলতে পারিনি । ফলে দিনের পর দিন নিজের সাথে লড়তে লড়তে আমি একাকি হয়ে গিয়েছি । এই ত্রিশ বছরের যুদ্ধে আমি পরাজিত হয়নি ঠিকই, কিন্তু উপলব্ধি করতে পেরেছি যে , সারা পৃথিবী কিনা জানিনা , তবে আমাদের বাংলাদেশী অভাবী সমাজে টাকার চেয়ে বড় কিছু নেই । আর সেই সমাজে সৎ থাকার চেষ্টা করার চেয়ে বড় বোকামিও আর কিছু নেই । টাকার উপরই নির্ভর বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু বান্ধব আত্মীয় সব্জনদের সাথে সম্পর্ক । যদি কারও পয়সা থাকে তবে দেখা যাবে তার চার পাশে মানুষ মৌমাছির মত উড়ে বেড়াচ্ছে । যখনই মৌমাছির দল বুঝতে পারবে যে , এর কাছে আর টাকা নেই , তখন তার চার পাশ আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে যাবে । কেঊ কেঊ বলেমায়ের ভাল বাসা টাকার দরে তুল্য হয় না । মায়ের ভাল বাসা টাকার দরে তুল্য হয় কিনা তা জানি না, তবে এটা জানি যে , টাকার প্রভাবে মায়ের ভাল বাসায় ঘাটতি না হলেও মায়ের ব্যবহার ও আচার আচরণে যে পরিবর্তন আসে তাতে কোন সন্দেহ নেই । আমি আমার ঊত্ত র সুরীদের কাউকেই আমার পথ অনুসরণ করতে বলবো না । কারণ এ পথ বড়ই কষ্টের । কারণ আমাদের দেশে সৎভাবে জীবন যাপন করার অবস্থা নেই । কাজেই এ পথ ধরলে পুরু জীবন্টাই বরবাদ হয়ে যাবে । বাংলাদেশ সরকার যখন তার কর্মচারীদের কথা ভাববে না , তখন নিজের জীবন বিপ ন্ন করে লাভ কি ? জীবনটাতো একটাই । এমন তো নয় যে , পরীক্ষা মূলক ভাবে একটা জীবন কাটালাম , দিতীয় জীবন আবার অন্যভাবে কাটাবো । আমার কথা বলবেন না । আমি নিঃসঙ্গ , একাকী ।আমার আত্মীয় সজনেরা আমাকে পরিত্যাগ করেছে । আমার এখন আর কোন দুঃখবোধ নেই । আমিতো সর্ব ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা । আমি ইচ্ছে করলেও নিজের নীতি থেকে বিচ্যুত হতে পারি না । আমার স্ত্রীতো জীবনে কিছু পায়নি , শুধু এই অহংকার বোধ টুকু ছাড়া । ছেলে মেয়েরা তাদের বাবা একজন মুক্তি যোদ্ধা এবং তিনি নীতি ভ্রষ্ট নন , এই অহং বোধেই উজ্জিবীত থাকে সব সময় । আমি তাদের এই শেষ পাওয়া টুকু থেকে বঞ্চিত করতে পারি না ।

৯৬৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    বাংলার কৃতি সন্তান,
    মুক্তিযোদ্ধা_ জনাব এস এম আব্দুর রহমান,
    স্যালুট আপনাকে,

    আমি ছোট মানুষ, মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চিরদিন আছে এবং থাকবে। আপনার লেখা (স্মৃতির পাতা থেকে) আমাকে অনুপ্রানিত করেছে। আপনাদের মত সৎ মানুষদের জন্যই দুনিয়া টিকে আছে। আপনার জীবনের সাথে আমার জীবন অনেকটাই মিল। আমি মাস্টার্স কমপ্লিট করে, পরিবার পরিজন ছেড়ে প্রবাসে অবস্থান করছি। প্রবাস জীবন যে কত কষ্টের, তা বুঝানো যাবেনা, হয়তো কিছু টাকা আছে কিন্তু সুখ নেই।

    আর আমার এ প্রবাস জীবনের কথা যদি বলি, তাহলে আপনার মত স্মৃতির ডাইরি লিখতে হবে, আপনাকে দেখে আমিও তাই স্মৃতির ডাইরি লিখতে প্ররোচিত হলাম। আশা করছি আপনার মত আমিও লিখবো।

    তবে সংক্ষিপ্ত করে দুটি কথা বলি,
    বাংলাদেশে সরকারী চাকরির জন্য আমি অগনিত ভাইবা পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু ভাগ্য খারাপ চাকরি হয়নি, হয়তো অনেকে বলতে পারেন আমার হয়তো যোগ্যতা নেই, আমিও বলি হয়তবা তেমন যোগ্যতা নেই, তবে আমার সাথে যারা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, যাদের চাকরি হয়েছে তিনারা কি খুবি যোগ্য ছিলেন? আমার চেয়ে অনেক অপদার্থদের চাকরি হয়েছে। তাহলে আমার কি অপরাধ ছিল? কেন আমার সরকারী চাকরি হলো না? কে দেবে আমার এই প্রশ্নের জবাব?

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ আপনাকে কষ্ট করে পড়ার জন্য । চাকরী সে ক্ষোভ আপনার যৌক্তিক । তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারী চাকরী করে সৎভাবে জীবন যাপন করা প্রায় অসম্ভব । শুভ কামনা । ভাল থাকুন সতত ।

  3. আহমেদ রুহুল আমিন মন্তব্যে বলেছেন:

    একজন সৎ পুলিশ অফিসারের সাথে পরিচয় হয়েছিলাম নীলফামারীতে যিনি সততার কারণে চাকুরী জীবনের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারেই কাটিয়ে দেন । বিশিষ্ট সাহিত্যিক নন্দিত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ুন আহমেদ এর পিতার কথাও শুনেছি একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে । আসলে, সৎ থাকা শুধু পুলিশ বিভাগে নয় ব্যাক্তি হিসেবে সৎ মানুষের বড় অভাব । সৎ থাকাও বর্তমানে আপেক্ষিক বিষয । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জীবনের সত্যি কাহিনী প্রকাশ করার জন্য ।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    দুঃখ পেতে পেতে একেবারে শেষ পর্যায়ে এসেই এ সিদ্ধান্ত । আমারো ৩৩ বছর চাকরীর মধ্যে এস,বি, সি, আই, ডি ও দুর্নীতি ২০ বছর । এখন তো শেষ বেলা । বাড়ি ফেরার পালা । দোয়া করবেন , যেন সুস্থ্য অবস্থায় বিদায় নিতে পারি । শুভ কামনা ।

  5. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ডায়রী যত পড়ছি ততই বিমোহিত হচ্ছি। কিষ্টবোধও কাজ
    করছে মনে। এই অহংকারটুকুই আপিনাকে চির স্মরনীয় কতে রাখবে

    স্যালুট অফ ইউ। প্রাউড ইফ ইউ

  6. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    কষ্ট করে পড়েন বলে জীবনের গল্প বলতে ক্লান্তিবোধ করছি না । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top