Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে –(-পর্ব—–৩৪ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২২/০৫/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1121বার পড়া হয়েছে।

আজকের দিনটা ভাল যাবে বলেই মনে হচ্ছে । কথায় বলে না –সকালের সূর্যের রুপ দেখেই সারাটা দিন কেমন যাবে তা বলে দেয়া যায় । আজকে আমার জন্য একটা ভাল খবর আছে । অবশ্য খবরটা যে শুধু একা আমার জন্য ভাল তা নয়, এখানে আমরা যারা আছি , তাদের সবার জন্যই ভাল খবর । কারন অনেক দেরীতে হলেও আমাদের ২০% টাকা সুদানের ব্যাংকে এসে গেছে । এ টাকা প্রাপ্তির জন্য আমরা অনেকেই ছুটি যেতে পারছিলাম না । কাজেই টাকা আসার কথা শুনে ক্যাম্পে যেন একটা ঈদ ঈদ ভাবের সারা পরে গেল । সবাই ছুটিতে দেশে বেড়াতে যাবে তা নয় । কেউ কেউ যাবে , অন্যরা তাদের হাতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু টাকা পাঠাবে । অন্যের কথা ছেড়েই দিলাম, আমার নিজের অবস্থাই তার বাইরে নয় । আমি মিশনেই এসেছি এক বিশেষ মিশন নিয়ে । সে কথা আগেই বলেছি । কাজেই টাকা প্রাপ্তিতে আমার আনন্দটাও ফেলে দেওয়ার মত নয় । আমি সহ তিন জন এ,এস,পি,ইতোমধ্যেই ছুটির আবেদন দাখিল করে ফেলেছি । আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ছুটি ভোগ করার কথা উল্লেখ করে আবেদন করেছি । ১৬ অথবা ১৭ নভেম্বর ঈদ-উল আজহা অনুষ্ঠিত হবে । সে কারনেই এক ঢিলে দুই পাখি মারার সুবিধা করে মেয়ের বিয়ের দিন ধার্য করেছি ২৬ নভেম্বর । সে কারনেই অন্যের সাথে আমার আনন্দটাও একেবারে কম নয় । আসলে পরিবারের সদস্যদের বা প্রিয়জনদের ছেড়ে দূরে না থাকলে অনুভব করা যায়না যে, আমরা একে অপরকে কতটা ভাল বাসি । আমার পারিবারিক জীবনটা একটু অন্য রকম । ঠিক যেন অন্যের সাথে মিলতে চায় না । এই ধরুন না , আমার মেয়ে বড় হয়েছে , তাকে বিয়েও দিয়েছি , কিন্তু আমি যতক্ষণ বাসায় থাকবো সে এসে ততক্ষণ আমার পাশে এসে বসে থাকবে । শুধু কাছে এসে বসে থাকবে না , আমার গা ঘেসে বসে থাকবে । আর আমার ছেলে যখনই দেখবে মেয়ে আমার কাছে একান্ত ভাবে বসে আছে, তা হলে আর যায় কোথা , ছেলেটি এসে আমাদের মাঝ খানে মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে ঠেলে ঠেলে জায়গা করে নিয়ে সেখানে বসে যাবে । বহু পরিবারেই দেখি তাদের ছেলে মেয়েরা বাবার ধারে কাছেই যেতে সাহস পায় না, বাবাকে এড়িয়ে চলে । কোন কিছুর দরকার পরলে মায়ের কাছে ধরনা দেয় । কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়েছে তার বিপরীত । আমার ছেলে মেয়ে দুটো যেন আমার সব চেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু । সারা দিন কে কোথায় কি অবস্থার সন্মুখীন হয়েছে আমাদের আলোচনা থেকে সে সব কিছুও বাদ পরে না । আমার মেয়ে বড় হওয়ার পর থেকে তার কাছে কোন ছেলে কি ঢং এ প্রেম নিবেদন করলো সে সব কথাও আলোচনা হয় । ছেলে তার স্কুলে কোন মেয়ের সাআথে কি কথা বলে , কার সাথে আড্ডা মারলো , কোন মেয়ে তাকে কোন কথা বলে ল্যাং মারলো আলোচনা থেকে সে সব কথাও বাদ যায় না । আমি আগেই বলেছি আমার তেমন কোন বন্ধু নেই। আমার ছেলে মেয়ে দুটো আর আমার স্ত্রী ছাড়া আসলেই আমার তেমন কোন বন্ধু নেই । এরা আমার বন্ধু এরাই আমার সব । আমরা একে অন্যের জন্য এতটাই বেশী সময় দেই যে, আমাদের অন্যের সাথে মেলা মেশার দরকারই হয় না । তাদের মনের বিকাশ ঘটানোর জন্য যা কিছু দরকার তার সবটাই পূরণ করার চেষ্টা করি আমরা । আমার ছেলে মেয়েদের যে সকল কথা তাদের বন্ধু বান্ধবীদের বলার কথা তারা নিঃসংকোচে সে সকল কথা আমাদের কাছে বলে ফেলে । অন্য কোন ছেলে মেয়ে সে সকল কথা শুনলে হয়তো বলবে , এ সকল কথা কি বাবা মাকে বলা যায় ? বলতে লজ্জা করবে না ? কিন্তু আমার ছলে মেয়েদের মনে সে রকম লজ্জা বোধ জন্মই হয় নি ।আমার মেয়ের যখন বিয়ে হয়নি , এমন অনেক দিন গিয়েছে সে কলেজ থেকে ফিরে আমাকে বলেছে–
‘ আব্বু আজকে বাসে একটা ছেলে দেখলাম, আমি যে সীটে বসে ছিলাম সেই সীটের পাশেই দাড়িয়েছিল , একদম যুবরাজের মত । অবশ্য যুবরাজরা দেখতে কেমন তা আমি দেখিনি । তবে এ ছেলে যে যুবরাজের চেয়ে কোন অংশেই কম যাবে না তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ।’
আচ্ছা বাবা , তার পর কি হলো সেটা তো বলো ?
‘ মিশন ফেল । ‘
ফেল মানে ?
‘ ফেল মানে ফেল । হাউজ বিল্ডিং এসে নেমে গেল । একবার ভাবছিলাম পিছে পিছে নেমে যাই । দেখি বেটা যায় কোথা । ‘
শুধু ভাবছিলে কেন , নেমে যাওয়াই তো উচিৎ ছিল । ঠিকানাটা নিয়ে আসলে এখনইহ্যান্ড কাপ নিয়ে গিয়ে হাতে লাগিয়ে টেনে টেনে নিয়ে আসতাম । আমার আর ছেলে খুঁজতে হতো না ।
‘ সরি আব্বু । ‘
সরি কেন ?
‘ তোমাকে এই ছেলে খুঁজার কষ্ট থেকে রেহাই দিতে না পারার কারনে । নামলাম না কেন জান? ‘
না বললে কি ভাবে জানবো ?
‘ ভাবলাম , মাকাল ফল উপর থেকে খুবই সুন্দর দেখা যায় , কিন্তু ভিতরটা থাকে ছাই দিয়ে ভরা । পিছু যে নিব যদি পরে মাকাল ফল বের হয় । তাহলে তো কষ্ট টাই অকাজে যাবে । ‘
ঠিক করেছ । উপযাচক হয়ে আগেই অন্যের পিছু লেগে লাভ কি ? তার চেয়ে অন্যরাই পিছে পিছে ঘুরুক । তখন যাচাই বাছাই করে একটা সিলেক্ট করে নিলেই হবে । এখন অনুমান করুন আমাদের সম্পর্কটা কিভাবে রানিং করে । অবশ্য আমি বলছিনা যে, আমার পদ্ধতিই যথার্থ পদ্ধতি । সেটা নাও হতে পারে । তবে আমার অনুরোধ এই যে, আপনারা আপনাদের সন্তানদের টিন এজের সময়টা দূরে দূরে রাখবেন না । এই সময়টায় তাদের চোখের সামনে একটা নতুন জগত ভেসে উঠে , দিশে হারা হয়ে যায় তারা । এ সময় যদি তাদের পরিমিত ভালবাসা দিয়ে সঠীক পথে না রাখা যায়, তাহলে তাদের পক্ষে যে কোন বড় ধরনের ভুল করে বসার সম্ভাবনা থাকে বড় আকারের । একবার যদি গ্রহ গ্যালাক্সী চ্যুত হয়ে যায় তবে তাকে সুনির্দিষ্ট পথে ফিড়িয়ে আনা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যপার, পারেনি আমার সুমনাকে তার বাবা মা । যথা সময়ে যদি যথাযথ কেয়ার নেয়া হতো তা হলে হয়তো সুমনা এই ভুলটা করে বস তো না । অনেক দিন হয় সুমনাকে রিং করা হয় না । সে টা আজকের কথা নয় , অনেকদিন আগের কথা । সেই যে আমি চিটাগাং থেকে এসেছি । তার পর একবার রিং করেছিলাম । সে দিন অর্থাৎ শেষ যেদিন রিং করেছিলাম সে দিনই সুমনা আমাকে হুমকী দিয়েছিল । যদি নিয়মিত রিং না করি তা হলে যে কোন দিন সে একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে । জানি না এতদিনে সে কেমন আছে । দূরু দূরু বুকে রিং করলাম ।

১,১১৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো পড়ে ভালো ভাবনার বিষয়

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  3. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    ‘ ভাবলাম , মাকাল ফল উপর থেকে খুবই সুন্দর দেখা যায় , কিন্তু ভিতরটা থাকে ছাই দিয়ে ভরা । পিছু যে নিব যদি পরে মাকাল ফল বের হয় । তাহলে তো কষ্ট টাই অকাজে যাবে । ‘

    ভাবনাটা বেশ দারুণ লেগেছে ! সব কাজে সবাই যদি এমন ভালো-মন্দ ভেবে অগ্রসর হতো তবে দেশটার অগ্রগতি ছিল শুধুই সময়ের ব্যাপার ! ভালো লাগলো স্মৃতিকথা । শুভেচ্ছা জানবেন ।

  4. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লেগেছে শুনে খুশী হলাম ।শুভ কামনা ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top