Today 16 Oct 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( পর্ব—৪২ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ৩০/০৮/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 783বার পড়া হয়েছে।

ছুটি মঞ্জুর হয়েছে বেশ কদিন আগেই । কিন্তু এটাতো আর বাংলাদেশ নয় । বাংলাদেশে ছুটি মঞ্জুর হয়েছে তো অফিসে একখান প্রস্থান প্রতিবেদন রেখেই দিলাম ছোট । সোজা বাড়ি । বাড়ি গিয়ে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য উপভোগ করা । ছোট বেলায় ঈদ আসলে মনের মধ্যে যেমন একটা খুশীর উন্মাদনা সৃষ্টি হতো তেমনি ছুটি মঞ্জুর হওয়ার পর থেকে এখানেও সবার মধ্যে সেই রকম একটা ঈদ ঈদ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে । তখন ঈদের আগের রাতে খুশীর চোটে আমরা ঘুমাতে পারতাম না । এ অবস্থা যে শুধু আমার একার হতো তা নয় । সব রকম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে এটা লক্ষ্য করা যেত । তখনকার দিনে নিজ নিজ কাপড়ে ভাতের মার লাগিয়ে কয়লার আগুনে স্ত্রী গরম করে কাপড় ঢলে , ঘসে , ভাজ করে রেখে দিতাম অন্য কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে । শুধু ইস্তিরি করে রেখে দিলেই যে মনের মধ্যে শান্তি পাওয়া যেত তা নয় । ঘন্টায় ঘনটায় কাপড় বের করে দেখতাম , সব ঠিক আছে তো ? কাপড় ধুয়ে ইস্তিরি করলেই সব সময় পোষাক সুন্দর থাকতো সে কথা জোর দিয়ে বলা যায় না । কারণ লোহার ইস্তিরির ভিতর কাঠের কয়লা ভরে তার মধ্যে আগুন জ্বালানো যে কতটা কষ্টসাধ্য ব্যপার তা আগের যুগের সেই কয়লায় গড়ম করা ইস্তিরি না জ্বালালে উপলব্দি করা কঠিন । মাথা উকি দিয়ে ইস্তিরিতে ফুঁ দিতে দিতে চোখে ধোঁয়া গিয়ে নাকের জল চোখের জল একাকার হয়ে যেত । এত কষ্ট করে কাপড় ইস্তিরি করে রেখেও অনেক সময় ঈদের দিন সকালে কাপড় বের করে দেখা যেত কাপড়ের না না জায়গায় কয়লার কালো কালো দাগ লেগে আছে । সব চেয়ে বেশী যা আছে তা হচ্ছে কাপড় ইস্তিরি করে রাখার পর যতবার বের করে দেখেছি তত জায়গাতেই হাতের ছাপ পরেছে । তাতেও কিন্তু আনন্দের তেমন কোন হেরফের হতো না । মিশনে অবস্থান করে ছুটি পেয়ে আমরা যেন সেই শিশু কালের ঈদ ফিরে পেয়েছি । দিনের এ মাথায় ও মাথায় ঈদের ইস্তিরি করা কাপড়ের মতো পাস পোর্ট , ভিসা, এম ও পি ইত্যাদি বার বার বের করে দেখছি, কোথাও কোন ভুল নেই তো ? যেন এই নির্ধারিত ফেড়িতে নদী পার হতে না পারলে আজ আর পার হওয়ার কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই । এটাই যেন শেষ ফেরি । সব চেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে আমরা যে এয়ার লাইন্সের টিকিট করেছি , সে এয়ার লাইন্স লাগেজে মাত্র ২৩ কে,জি মালামাল নিতে দিবে । এখন ২৩ কে, জি, ঠিক রাখতে গিয়ে বার বার মালামাল একবার লাগেজে ঢুকাতে হচ্ছে আবার বের করতে হচ্ছে । কারণ একবার লাগেজ ভরে ওজন দিয়ে দেখা গেল, সব ঠিক আছে । একটু পরেই দেখা গেল সব চেয়ে দরকারী বস্তুটিই ঢোকানো হয়নি । আবার খোল আবার ওজন দাও । ঐটাকে সমন্বয় করতে গিয়ে আবার কতক গুলো নামাও ।এই চলছে বেশ কয়দিন ধরে । চলবেই না বা কেন ? এখান থেকে যাওয়াটা অত্যন্ত ঝঞ্জাটের । কারণ অন্যান্য দেশের মতো , অথবা অন্য কোন বিমান বন্দরের মতো হলে কোন কথাই ছিল না । আমাদের দেশে যেমন, কেহ বিমান যোগে ঢকার বাইরে যেতে চাইলে কাগজ পত্র ঠিক করে দেশের যে কোন স্থান থেকে একটি গাড়ি নিয়ে ৫/৭ ঘনটা আগে রওয়ানা হলেই যথা সময়ে বিমান বন্দরে পৌঁছা যায় । নিদেন পক্ষ্যে যদি কেহ গাড়ি ভাড়া না করে তা হলেও অসুবিধা নেই । যে কোন একটি দূর পাল্লার বাসে উঠে বসলেই ৫/৬ ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা এনে পৌঁছে দেবে । কিন্তু এখানে সে রকম কোন ব্যবস্থা নেই । সারা দারফোরে কোন রাস্তাঘাট নেই । এখন কিছু কিছু রাস্থা ঘাট তৈরী করতে শুরু করেছে । শুনেছি ইউ এন তাদের মিশন নিয়ে এ দেশে আসার আগে , এ দেশের গ্রামের লোকেরা । যন্ত্রচযলিত গাড়িই দেখেনি । কাজেই আমি এই আল জেনিনা থেকে শত ইচ্ছে করলেও ব্যক্তি উদ্দোগে খারতুম পৌঁছে বিমান ধরে দেশে যেতে পারবো না । এখান থেকে খারতুম যেতে হলে প্রথম ছুটি মঞ্জুর করাতে হবে , তার পর সংগ্রহ করতে হবে মুভমেন্ট অর্ডার । মুভমেন্ট অর্ডারে উল্লেখিত তারিখ মোতাবেক সকালে ইউ এন, নিয়ন্তিত বিমান বন্দর হাজির হয়ে যাত্রী তালিকায় নাম দেখে অপেক্ষায় থাকতে হবে । যদি যাত্রী অনুসারে বিমান ছোট হয় , তা হলে তালিকার শেষের দিকে নাম থাকলে , সে দিন যাওয়া নাও হতে পারে । এমতাবস্থায় সিরিয়ালের প্রথম দিকের যাত্রীদের বিমানে তোলে আপনাদের বলবে অপেক্ষা করুণ , হেলিকপ্টার এসে আপনাদের নিয়ে যাবে । আপনি বসে আছেন তো আছেনই । খাওয়া পরার কোন ব্যবস্থা নেই । নিজের হাত ব্যাগে যা আছে তাই খেয়ে কোন জীবনটাকে ধরে রেখে বসে থাকলেন , কখন যেন হেলিকপ্টার এসে আপনাকে নিয়ে যাবে । সন্ধ্যার আগ দিয়ে আপনাকে বলা হলো আজ আর হেলিকপ্টার আসবে না । কাল আসুন । পরদিন গেলেন । আপনি আগের দিনের যাত্রী । ঐ দিনের নির্ধারিত যাত্রীতো আছেই । কাজেই যাত্রীর সংখ্যা বেশী হবে সেটাই তো স্বাভাবিক । যাত্রীরা বিমানে উঠলো । বলা হলো যাত্রী বেশী । কাজেই সকলের লাগেজ রেখে যেতে হবে । কারন লাগেজ সহ যাত্রীর ওজন বেশী হয়ে যাচ্ছে । এই বিমানে আপনারা ছলে যান । হেলিকপ্টার যোগে আপনাদের লাগেজ পাঠিয়ে দেয়া হবে । আপনি ছলে গেলেন । না গিয়ে কি করবেন । পর দিন আপনার ফ্লাইট । আজ না গেলে ফ্লাইট ধরার কোনই সম্ভাবনা নেই । বাধ্য হয়েই আপনার যেতে হচ্ছে । আপনি খারতুম গিয়ে বিকেলে খোঁজ নিলেন , আপনার লাগেজ গিয়েছে কিনা । না যায়নি । পরদিন সকালে খোঁজ নিলেন , তাও যায়নি । ১২ টায় ফ্লাইট । ১১ টায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে , আপনার লাগেজ তখন ও আল-জেনিনাতেই রয়ে গেছে । আপনি বাধ্য হয়ে শূন্য হাতে , ভঘ্ন হৃদয়ে বিমানে উঠবেন ।

৭৮০ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো পড়ে

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    বিদেশে থাকা আসলেই কষ্ট

    ভাল লাগল পর্বটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top