Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে-( পর্ব——৪৩/৪ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০৮/১০/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 880বার পড়া হয়েছে।

খারতুম শহরটি খারাপ নয় । বেশ বড় প্রশস্থ রাস্তা । রাস্তায় কোন যান জট নেই । অবশ্য যান জট না থাকার দুটো কারণ হতে পারে । এক- শহরে কোন রিক্সা নেই , অর্থাৎ যন্ত্র চালিত ছাড়া কোন যান বাহন এই শহরে নেই । দুই -লোক সংখ্যা কম থাকায় গাড়ির সংখ্যাও কম । ফলে কোন যান জট নেই । তাছাড়া মরু এলাকার শহর , জায়গার অভাব নেই । যে কারণে রাস্তা বেশ প্রশস্থ । শহরে বড় বড় দালান কোঠা আছে । সম্ভবত পরিব্রাজকও বেশ আনাঘোনা করে বলে মনে হয় । কারণ এই শহরেই একটি টেন স্টার হোটেল আছে । পরিব্রাজক না এলে এত বড় ও দামী হোটেলে থাকে কে ? শহরে রেন্ট এ কার আছে যথেষ্ট । বেশীর ভাগই আছে পাজেরোর মতো চালক সহ ৫ আসনের ছোট ছোট গাড়ি । তার লোকাল নাম আমজাদ । এই আমজাদ ভাড়া করেই বেশীর ভাগ লোক চলাচল করে । ভাড়া আমাদের দেশের রেন্ট এ কার চালকদের মতো যাত্রী নিয়ে বিপদে পড়তে হয় না । কারণ আমাদের দেশের ঢাকা শহরের রাস্তায় জ্যামে পড়লে ২০ মিনিটের রাস্তায় লেগে যাবে ২ ঘন্টা বা তারো বেশী সময় । কিন্তু এখানে সে ভয় নেই । যানজট নামীয় দুরারোগ্য ব্যাধির আক্রমন এখানে নেই । ফলে ২০ মিনিটের রাস্তা ২০ মিনিটেই যাওয়া যায় । তবে গাড়ির চালকদের মধ্যে একটা প্রবনতা দেখা গেল । কোন গাড়িতে ভাড়া চুকিয়ে উঠলেও গন্তব্য স্থলে গিয়ে ১০,৫ টাকা বেশী দাবী করে বসবে । সম্ভবত এটা বেশীর ভাগই বিদেশীদের সাথে করে । তার দুটো কারণ হতে পারে —-
এক—ভাড়া মিটানোর সময় ভাষা না বুঝার কারনে অনেকেই হাতের আঙ্গুল দেখিয়ে ভাড়ার চুক্তি সম্পাদন করে । ফলে গাড়ি থেকে নামার সময় ভাড়া দিলেই সে বেশী ভাড়া চেয়ে হাঙ্গামা শুরু করে । এটা অবশ্য ভাষা না বুঝার কারণেও হতে পারে ।
দুই— কোন কোন চালক মিটানো ভাড়া প্রদান করলেও ইচ্ছে করে হাঙ্গামা লাগায় । কারণ হাঙ্গামা বাধালেই লোক জর হলে তারা যাত্রীর ভাষা বুঝতে পারে না , কিন্তু চালকের ভাষা বুঝতে পারে । ফলে উপস্থিত লোকজনদের গাড়ির চালক সত্য মিথ্যা বলে তার দাবীর কথাটাই সত্য হিসেবে প্রমান করতে পারে । কাজেই তারা চালকের পক্ষ্যই সমর্থন করে । তখন যাত্রীর উক্ত বর্ধিত ভারা দেওয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর থাকে না । তবে আমার ধারনা চালকেরা কেবল বিদেশীদের সাথেই এরকম প্রতারণা করে থাকে । কারণ আমরা যে সকল গাড়ি ব্যবহার করলাম তাদের মধ্যে অধিকাংশ চালকই এ রকম অবৈধ দাবী করলো । খারতুম শহরের গাড়ি চালকদের মতো ইন্ডিয়ান হাঊজের মালিকও কম যায় না । ইন্ডিয়ান হাঊজ একটি আবাসিক হোটেল । এর মালিক একজন ইন্ডিয়ান নাগরিক । প্রথম যখন মোবাইল ফোনে তার সাথে কথা হয় তখন সে বলেছিল আমাদের নিকট থেকে প্রতিদিন ১২ ডলার করে ভাড়া নিবে । কিন্তু আমরা দুই দিন থাকার পর বিদায় বেলা টাকা দিতে গেলে সে অন্যান্য বর্ডারদের মতোই ১৫ ডলার করে দাবী করে বসলো । আমরা চাপ সৃষ্টি করাতে সে ম্যানেজারকে রেখে হোটেল ছেড়ে কোথায় চলে গেল । তাকে আর খোজে পাওয়া গেল না । পরে আমরা ১৫ ডলার করে ভারা পরিশোধ করেই বিমান বন্দর চলে এলাম । আজকের বিমানেই জেড়িনা ম্যাডামের যাওয়ার কথা । কিন্তু তার সাথে দেখা হলো না । অবশ্য মোবাইলে কথাও হয়নি । হয়তো মনে মনে রাগ ও করে থাকতে পারেন । কিন্তু এখানে এসে নানা চাপে আমি তাকে রিং করার ফুরসৎই করতে পারি নি । খারতুম বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পার হয়ে ওয়েটিং রুমে তাকে বসা দেখেছিলাম । সাথে আরো একজন মহিলা । তাই তার কাছে যাওয়া হয় নি । পরে শুনেছি তিনি আমাদের এক সার্জেন্টের স্ত্রী । খারতুম স্বামীর নিকট বেড়াতে এসেছিলেন । সেই সার্জেন্ট তার স্ত্রীকে ম্যাডামের সাথে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন । আমরা কাতার ইয়ারলাইন্সের বিমানে করে প্রথ দোহা এসে বিমান চেঞ্জ করে পূনরায় অন্য বিমানে ঢাকা চলে এলাম । দোহা বিমান বন্দর বেশ বড় । কিন্তু লোক সমাগম তেমন নেই । আমাদের ঢাকা বিমান বন্দরের মতো লোক জনের সমাগম দেখলাম না । সম্ভবত ধনি দেশ বলেই বড় আকারের বিমান বন্দর করে রেখেছে । কিন্তু তেমন কোন বিমান উঠানামা করে বলে মনে হলো না । আমরা দোহায় ট্রাঞ্জিট করে ঢাকা বিমান বন্দরে চলে এলাম । আমি ইমিগ্রেশন শেষ করে লাগেজ বেল্টের নিকট এসে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি কাঁচের দেয়ালের বাইরে আমার মেয়ে ও তার বড় মামা দাঁড়িয়ে আছে । লাগেজ না নিয়েই কাঁচের দেয়ালের বাইরে থাকা মেয়ের সাথে দেখা করে এলাম । দেখি মেয়ে আমার খুশীতে হাসছে, কিন্তু তার দুচোখ বেয়ে অঝোরে পানি ঝরছে । খুশীর এমন দৃশ্য হয়তো আমি জীবনে আর কোন দিনও দেখতে পাব না । তার এ অবস্থা দেখে আমার দুচোখ ও ভিজে গেল । আমি আমার চোখের পানি লুকিয়ে লাগেজের কাছে ছলে গেলাম । সম্ভবত মেয়েও ইতোমধ্যেই তার তার চোখের পানি সাম্লে নিয়ে থাকবে । আমি লাগেজ নিয়ে বাইরে এসে দেখি , বাইরে আমার ছেলে, মেয়ে জামাই ,শ্যালক , শ্যালকের ছেলে সকলেই দাঁড়িয়ে আছে । দীর্ঘ দিন পর ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরাতে আমার সারা শরীরে আনন্দের স্রোত বয়ে গেল । আমরা সকলে আনন্দের জোয়াড়ে ভাসতে ভাসতে বাসায় চলে গেলাম ।

৮৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top