Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( প র্ব— ১৭ / ৪ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০১/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1093বার পড়া হয়েছে।

মুছিবৎ আমাকে কোন পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে তা দেখার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে পরদিন শনিবার আমি যথারীতি ৯ টায় ডি,আই,জি, অফিসে গেলাম । অফিসে যেতেই অফিস অর্ডারলী আমাকে দেখে বললো —–
“ কি ব্যাপার স্যার ? আপনি জয়েন করতে যাননি ? ” আমি বললাম—–
‘কোথায় জয়েন করতে যাব ? আমার তো বদলীই হয়নি ।, তখন অর্ডারলী বললো —
“ স্যার তো আজ অফিসে আসবেন না । ব্রাহ্মন বাড়ীয়া গিয়েছেন । অন্য কোন অফিসারও আসবেন না । কাজেই বৃহস্পতিবারই তো আপনার বদলীর আদেশ দিয়ে গেছেন । ” আমি জিজ্ঞেস ক রলাম—
‘ কোথায় বদলী হলো আমার জান ? , সে বললো —
“ চট্টগ্রাম জেলায় ।” আমরা কথা বলতেই স্টাফ অফিসার সাহেব অফিসে আসলেন । আমাকে দেখেই বললেন—-
“ আরে রহমান যে, আপনার তো বৃহস্পতিবারই বদলী হয়েছে , চট্টগ্রাম জেলায় ।” আমি বললাম ‘ কি করে হলো স্যার ? , তিনি বললেন—
“ আর বলবেন না । আপনি চলে যাওয়ার পর আমি আবার চাঁদপুর টেলিফোন লাগাই । পেয়েও যাই এস, পি, চাঁদপুরকে । তৎক্ষণাৎ আমি তাকে ডি,আই,জি, মহোদয়ের সাথে কথা বলতে বলি । তিনি সাথে সাথে রিং করেন । আমি অবস্থা বুঝার জন্য ডি, আই, জি, সাহেবের রুমে ঢুকি । কথার ভাবে বুঝলাম ,এস, পি, সাহেব আপনার ভূয়সী প্রশংসা করছেন । টেলিফোন ছেড়ে দিয়েই আপনার বদলীর অর্ডার করে দিলেন । ” আমি বদলীর আদেশের কপি নিয়ে এস, পি, চট্টগ্রাম জেলা এর অফিসে গিয়ে যোগদান করলাম । ম্নে ম্নে ভাবলাম , বৃহস্পতিবার স্বপ্নে যে ব্যক্তি আমাকে কূপে পড়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছেন , তিনি আর কেউ নন , কারুর দেওয়া দ্বায়িত্ব দিয়ে পাঠানো , এই স্টাফ অফিসার । খোদার কাছে হাজার শুকড় গুজার করলাম আমার প্রতি কৃপা দৃষ্টি প্রদান করায় । এস, পি, সাহেবের অফিসে চার দিন ঘুরা ফেরা ক রার পর আমার রাঙ্গুনিয়া থানার ও, সি, হিসেবে বদলী হলো ।
আমি যথারীতি রাঙ্গুনিয়া থানায় যোগদান করলাম । থানায় হাজির হয়ে দেখি ও, সি, হিসেবে যিনি অধিষ্ঠিত আছেন , তিনি ১৯৭৩ এর ব্যাচের অফিসার । ৭২/৭৩ ব্যাচের অফিসারদের এ বিভাগে হাতুড়ে অফিসারের ব্যাচ হিসেবে মূল্যায়ন করা হ্য । আসলে যারা মূল্যায়ন করেন তারা যে অবিবেচকের মতো মূল্যায়ন করেন, তা কিন্তু নয় । আবার এই দুই ব্যাচের কেহই ভাল অফিসার ছিলেন না , সেটাও ঠিক নয় । তবে অধিকাংশই শিক্ষার দিক থেকে অযোগ্য ছিলেন । ৭২/৭৩ ব্যাচে অনুপ্রবেশ কারী সাব-ইন্সপেক্টর বা এ, এস, পি, দুটো গ্রোপেরই এক অবস্থা । কেহই কারও চেয়ে কম যায় না । এ েক্ষত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে তা হলে তারা দাপ্টের সাথে নিজেদের পদ আগলে থাকলেন কি ভাবে ? এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা আমার মনে পরছে । প্রথমেই অন্যের ঘরে হানা না দিয়ে নিজের ঘর থেকেই শুরু করা যাক । আমি বিয়ে করার পরের মাসেই আমার ঢাকা এস, বি,তে পোষ্টিং হলো । ঢাকার জীবন যাত্রার ব্যয় মফস্বল এলাকার চেয়ে দ্বিগুন । কাজেই ঢাকাতে স্বপরিবারে বাসা ভাড়া করে বস বাস করতে এসে আমি অভাবের যাতা কলে পরে একদম হাপিয়ে উঠলাম । আর সেই সময় ভাংগা কপাল নিয়ে ঘর আলো করে জন্ম নিল আমার এক মাত্র মেয়েটি ।মেয়ে পেয়ে খুশিও হলাম আবার সুখীও হলাম । কিন্তু অভাব আমাদের ঘিরে ধরতে থাকলো । ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হতে পারে চিন্তা করে আমরা স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলে এক মত হলাম যে , আর দ্বিতীয় সন্তান নিব না । কারণ সন্তান যত বাড়বে, খরচ তত বাড়বে । সেই খরচা সামাল দিতে হলে অবৈধ অর্থ উপার্জন করতে হবে । ছোট মেয়ে তো আর অভাবের খবর জানে না । সে মনের আনন্দে বড় হতে লাগলো । আমি তখন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার ও ,সি । মেয়ে তখন পাঁচ পেড়িয়ে ছয় বছরে পা দিয়েছে । কিন্তু কিছুতেই সে স্কুলে যেতে রাজি হয় না । বাসা থেকে কোন কায়দায় ছাড়া পেয়ে এক দৌড়ে আমার অফিস রুমে চলে আসে । অফিসে এসেই আমার চেয়ারে উঠে পিঠ ধরে বসে থাকে । কার সাধ্য এখান থেকে তারে নেয় । আমি নানা কথায় তাকে বুঝাতে চেষ্টা করি ।কিন্তু সে কিছুতেই বুঝ মানতে চায় না । একবার আমি তাকে বললাম —-
‘ কি ব্যাপার, তুমি যে স্কুলে যাও না, পড়া লেখা কর না , বড় হয়ে কি করে খবে ?’ সে এক ঝটকায় নির্ভাবনায়, বলে দিল—
“ আমি পুলিশ হবো ।” আমি বললাম—
‘ আরে বাবা, পুলিশ হতে চাইলেও তো পড়া করতে হয় ।, সে ঠোট উ ল্টিয়ে জবাব দিল-
“ জিনা, পুলিশ হতে পড়তে হয় না ।একটা লাঠী হ লেই হয় । সে হয় তো সারা দিনই দেখে থানা থেকে যত পুলিশ বাইরে যায়, তারা কেউ বই হাতে নিয়ে যায় না ।একাকী কোথাও কোন কাজের জন্য বের হলে হাতে একটি শর্ট লাঠি নিয়ে বের হয় । কাজেই সে ভেবে নিয়েছে পুলিশ হতে পড়া লেখার দরকার নেই । সম্ভবত আলোচিত ব্যক্তিরা আমার মেয়ের থিউরী নিয়ে চাকরীতে ঢুকে থাকবেন ।

১,০৬৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

২ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    স্মৃতির পাতা থেকে এর এ পর্বও অনেক ভালো লেগেছে , অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top