Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( প র্ব–২০/২ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ০৭/০২/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1234বার পড়া হয়েছে।

ও, সি, সাহেব চাপা কন্ঠে বললেন-“জলদি হাটা শুরু করেন । “আমরা হাটতে শুরু করলাম । ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব সারা গায়ে কাঁদা মেখে , দুই হাতে দুই সেন্ডেল নিয়ে মনের দুঃখে ডি, সি, সাহেবকে গালাগালি করতে করতে হাটতে লাগলেন । কিছুক্ষণ হাটার পর সামনে একটি বন বাধলো । আমাদেরকে এই বনের মাঝ খান দিয়ে অপর পাশে যেতে হবে । অবশ্য আরও একটি ঘুরা রাস্তা আছে , সেটি ভাল রাস্তা । তবে প্রায় তিন কিমি. ঘুরে যেতে হবে । আর এই তিন কিমি. ঘুরে যেতে হলে যে সময় খরচ হবে , তাতে ডাকাত পাওয়ার আশা একেবারেই শেষ হয়ে যাবে । কাজেই এই সময় নষ্ট করার কোন উপায় নেই । ও,সি, সাহেব আদেশ দিলেন—
“মুভ এ্যাট ওয়ান্স ।” আমরা হাটতে শুরু করলাম । বনের ভিতর দিয়ে পায়ে হাটার শ্রু রাস্তা । সারা রাস্তার পাশ ধরে ঝোপ ঝার এবং মাঝে মাঝে কাটা জাতীয় গাছ । গাছের কাটার সাথে জামা প্যান্ট আটকে যাচ্ছিল বার বার । কাটা ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে সামনের দিকে এগুতে হচ্ছিল । তখন রাত দুইটা বা তার ও একটু বেশী । আমরা যখন বনের উপার গেলাম তখন রাত তিনটা বাজলো । ও, সি, সাহেব আমাদেরকে পূনরায় এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে সোর্সকে নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন । কিছুক্ষণ পর একটি হুইসলের শব্দ শুনে আমরা দ্রুত লেইং পজিশনে চলে গেলাম । অল্পক্ষণ পর ও, সি, সাহেব এসে বললেন–
“উঠেন সবাই । আমরা আর পাঁচ মিনিট আগে আসতে পারলেই ওদের ঘেড়াও করতে পারতাম । চলেন ওদের ফলো করতে হবে । ” এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ও,সি, সাহেবকে বললেন–“ও, সি, সাহেব আমি আর হাটতে পারছি না । পা একদম ফুলে গেছে । হাটার তালে তালে এমন কথা বলতে বলতেই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব পূনরায় ছিটকে রাস্তার পাশে পরে গেলেন । কি হলো, কি হলো, বলে দ্রুত তার কাছে চলে গেলেন । ততক্ষণে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব মরে গেলাম , মরে গেলাম বলে কুকাতে শুরু করেছেন। টর্চ লাইট ধরে দেখা গেল রাস্তার মধ্যে থাকা একটি গাছের গুড়ায় পায়ে হুচট লেগে নখ খসে গেছে । ও, সি, সাহেব নির্মমতার সাথে বললেন— “আ পনি কি হাটতে পারবেন ? যদি পারেন , হাটেন । নইলে এখানে বসে থাকেন । ভোর হলে কোন ভাবে আসবেন । আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করতে পারবো না । “ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অতি কষ্টে উঠে দাঁড়ালেন এবং খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে শুরু করলেন ।কারণ তখন তিনি ভাবছিলেন , এখানে একা থাকলে ডাকাতেরা যদি জানতে পারে যে তিনি ডাকাতদেরই ধরতে এসেছিলেন । তাহলে জীবন নিয়ে বেঁচে যাওয়া কঠিন হবে । কাজেই তিনি প্রাণের মায়ায় পায়ের কথা ভুলে গিয়েছিলেন । হাটতে শুরু করতেই কিষের যেন গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল । আমরা এদিক ওদিক টর্চ লাইট ধরে দেখতে লাগলাম । এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বললেন—‘আমার দিকে টর্চ লাইট ধ রেন তো ।’ তার দিকে টর্চ লাইট ধরে দেখা গেল একটু আগে গাছের গুড়ায় পায়ে হোচট লেগে মাটিতে পরে যাওয়াতে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের গা মানুষের মল লেগে ভরে গেছে । সেই গন্ধই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পরেছে । ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তার সারা গায়ে পায়খানা লেগে আছে দেখে ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে শুরু করলেন । কিছুক্ষণ পর ধপাশ করে মাটিতে বসে পড়লেন । গা থেকে জামা খুলে ফেলে দিলেন । বললেন—‘ আমি যদি মরেও যাই তবু আমার পক্ষে আর এক কদম ও হাটা স ম্ভব নয় । তখন নিকটের এক মসজিদ থেকে আযানের ধবনি ভেসে এল । ও, সি, সাহেব এলাকায় খুঁজে একটি বাড়ি বের করে , তাদের মাধ্যমে একটি গরুর গাড়ির ব্যাবস্থা করে সেই গাড়িতেই ম্যাজিস্ট্রট সাহেবকে তুলে দিলেন । আমরা থানার দিকে রওয়ানা হলাম । পরে শুনেছিলাম , ডি,সি, সাহেব ৯ টার সময় অফিসে এসেই ম্যাজিস্ট্রেটকে পিয়ন পাঠিয়ে দিয়ে অফিসে ডাকান । পিয়ন ফিরে এসে জানায় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের পায়ের ঙ্খ উঠে গিয়েছে এবং পা ফুলে গিয়েছে । তিনি মাটিতে পা ফেলতে পারছেন না । ডি, সি, সাহেব বলেন—‘ একটি গাড়ি নিয়ে যাও ,তাকে ধরে গাড়িতে তুলে অফিসে নিয়ে এস । পিয়ন পূনরায় গাড়ি নিয়ে গিয়ে তাকে অফিসে নিয়ে আসে । ডি, সি, সাহেব ম্যাজিিস্ট্রটের সাহেবের নিকট থেকে সারা রাতের ঘটনা শুনে বলেন—‘ তাহলে তো আসামী ধরা বড়ই কষ্টের কাজ । কি বলো ?ম্যাজিস্ট্রেট বলন –‘ কষ্ট মানে কি স্যার । জীবন বেড়িয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।‘ ডি, সি , সাহেব তার কথা শুনে বলেন– “শুন, এ রকম কষ্ট করেই পুলিশ আসামী ধরে চালান দেয় । আর তুমি তাদের সাথে সাথেই ছেড়ে দাও । এর পর থেকে অযৌক্তিক ভাবে কোন আসামী জামীন দিলে তোমাকে প্রতিদিন আসামী ধরতে পাঠাবো । কথাটা যেন মনে থাকে ।’ এর পর থেকে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আসামী জামীন দেওয়া কমিয়ে দেয় । যে জন্য এই কথাগুলির অবতারণা তা হচ্ছে , আমাদের বিজ্ঞ বিচারক গন যদি আসামী জামীন প্রদানের ক্ষেত্রে অপ্রাধের ধরণটা সক্রিয় বিবেচনায় রাখেন । তাহ লে অপরাধ প্রবন তা অনেকাংশেই কমে যাবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে ।যে কথা বলছিলাম , রাঙ্গুনীয়া , কাউখালী, ও ফটিক ছড়ি এলাকায় ডাকাতি বন্ধ করার কোন উপায় ছিল না । শুধু নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ।আমিও সেই চেষ্টাই করতে থাকলাম ।

১,২১৮ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    ভালো লাগলো স্মৃতিচারণ, নিরন্তর শুভেচ্ছা ।

  2. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আগের পর্বগুলো পড়তে হবে

    ভাল লাগল।

  3. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ , এত ব্যস্ততার মাঝেও কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভেচ্ছা রইল । ভাল থাকুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top