Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে– ( প র্ব —- ২৩/২ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ১৩/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1059বার পড়া হয়েছে।

আমি ভোর ৫ টায় উঠি প্রতিদিন । এর ব্যত্যয় ঘটেনি কোন দিন । তা ছাড়া এখানে তো আরও নিয়মিত হয়েছি অন্য একটি কারণে । এখানে আমাদের ৯ জন অফিসারের ব্যবহারের জন্য একটি সরকারী মডেম বরাদ্ধ । বাই টার্নে সকালে এক ঘন্টা ও বিকেলে এক ঘন্টার জন্য মডেমটি নিজের ব্যবহারের জন্য পাওয়া যায় । সেও আবার সকাল ৭ টা হতে রাত তিনটা পর্যন্ত । রাত তিনটা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত সময় বন্টন করা হয়নি ।এই সময় সাধারনত কেউ মডেম ব্যবহার করে না ।ঐ সময় আমি ব্যতীত সকলেই ঘুমায় । ঘুম থেকে জাগতে শুরু করে সকাল ৮ টার পর থেকে ।কাজেই আমি সকালে দুটি কারণে উঠি । এক- ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য, দুই – নির্ঝঞ্জাটে মডেম ব্যবহার করে স্কাইপির মাধ্যমে কথা বলার জন্য । আজ কথা বলা শুরু হয়েছে ভোর ৫ টা থেকে । মাঝখানে ব্রেক দিয়ে ফজরের নামাজ পরে নিয়েছি । পূনরায় কথা বলার ১০/১২ মিনিট পরই আমার মোবাইল ফোন বেজে উঠলো । আমি স্কাইপিতে আমার স্ত্রীকে বললাম—কে যেন আমার মোবাইল ফূনে কল দিয়েছে । দরকারী ফোন হতে পারে । তোমাকে আবার দুপুর ১২ টায় ফোন দিব । বলেই লাইনটা কেটে দিয়ে মোবাইল হাতে নিলাম । মোবাইল তোলেই দেখি আমার সেই জেড়িনা ম্যাডাম । আমি হ্যালো বলতেই তিনি বললেন—
‘ কি ব্যপার, মোবাইল টা কি ধরতেও ইচ্ছে করে না ? ’ আমি বললাম—-
হঠাৎ এ অভি্যোগ কেন ?
‘’ কেন নয় ? মোবাইল খোলে দেখুন তো কতটা কল দিয়েছি ? ’ আমি তড়িৎ মোবাইল দেখে বললাম –সরি , আমি আসলে শুনতে পাইনি । কল গুলো কি আপনি কাল রাতে দিয়েছিলেন ?
‘ কেন আপনার কি মনে হয় এক সপ্তাহ আগে দিয়েছি ?
না তা হবে কেন ? আমি কিন্তু সরি বলেছি ।
‘ হ্যা, আপনারা শিখেছেন তো ঐ একটাই । সরি বললে বুঝি সব শেষ হয়ে যায় ? জানেন, কাল কত রাত পর্যন্ত আমি আপনার ফোনের অপেক্ষায়ব বসে ছিলাম ? ’
আপনারা বললেন যে , সাহেব বুঝি কথায় কথয় সরি বলে ?
‘ চুপ, তার সম্পর্কে আর একটা কথাও বলবেন না ।”
বেশ , বলবোনা । তাহ লে কান ধরে উঠ বস করবো কি ?
‘ দেখুন , এখন আমার মেজাজ খুব খারাপ । আমাকে গলানোর চেষ্টা করবেন না ।’
পাগল আমি ? মুষিক চেষ্টা করবে হিমালয়ের বরফ গলিয়ে রাস্তা বের করতে ?
“ বাজে কথা রাখুন । কাল মোবাইল রেখে কোথায় গিয়েছিলেন ? ’
আমি কি কান ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কথা বলবো ?
‘ না, বসে বলুন । এবারের মত মাফ করা গেল ।’
যাক বাবা, বাঁচা গেল । দয়া পরম ধর্ম ।
‘আগে বলুন , কাল গিয়েছিলেন কোথায় ? ’
গোসসা করলে মানুষের গাল ফুলে শুনেছি । কিন্তু , আপনার গাল ফুললো কেন ?আপনি তো রাগ করেছেন , গোসসা তো করেন নি । ।
‘ গাল ফুলেছে মানে ? আপনি কি ফোনের মাঝ দিয়ে দেখতে পান না কি ? ’
ঠিক আছে গালে হাত দিয়ে দেখুন ভুল বলেছি কিনা । বলেই আমি স্বশব্দে হেসে ফেললাম ম্যাডাম বললেন—‘ হাসছেন যে বড়ো ?”
হাসবো না ? আপনি সত্যি সত্যিই গালে হাত দিলেন , তাই দেখে হাসলাম ।
‘ আপনি বুঝলেন কি করে ?’’
সে কথা পরে হবে । আগে আপনি বলুন, সত্যিই গালে হাত দিয়েছিলেন কি না ?
‘দিয়েছি । ’
হাতটা নিজের না হয়ে অন্যের হলে কেমন হতো একবার ভাবুন তো ?
‘ সে ভাবনার সৌভাগ্য কি আর আমার আছে ? ”
নেই মানে ? কোন বস্তু পাবার জন্য আগে ইচ্ছে পোষন করুন । তার পরে তা পাবার আশায় রাস্তায় হাটতে থাকুন । দেখবেন, আঙ্খিত বস্তু বেশী দূরে নয় ।
“ জানেন ? এখন কোন কিছু পাবার আশা করতেই আমার ভয় হয় ।“
ভয়কে জয় করাই তো বুদ্ধিমানের কাজ । ভয় নিয়ে ঘরের কোনে বসে থাকলে তো আর জয় আসবে না ।
‘ আঘাৎ পেয়ে মানুষের কল্পনার প্রাষাদ যখন ভেঙে খান খান হয়ে যায় , তখন আশা নামীয় বস্তুর অপমৃত্যু ঘটে । আমার আশার পাখী মরে গিয়েছে সেই কবে । আমি বললাম—আপনার ধারনা ভুল । আশার মৃত্যু হয় না কখনও । সে রিসাইকেল বীনে চলে যায় । তাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলার দ্বায়িত্ব আমাকে দিন । আমি সর্বোত ভাবে আপনাকে সাহায্য করবো ।
“ আমার দরজাতো আপনার জন্য সর্বক্ষণ খোলা । প্রবেশ করলেই পারেন ।”
ধন্যবাদ , ওকালত নামায় স্বাক্ষর করার জন্য ।
“কাল রাতে মনটা খুব খারাপ হয়েছিল । তাই আপনাকে এতবার রিং করেছিলাম ।
আমি সত্যিই দুঃখিত । তা হঠাৎ মনটা এত খারাপ হলো কেন ?
“ আর বলবেন না । কথায় বলে না , ভাত না কাপড়ে, মারে ধপর ধপরে ।” আমি বললাম, কেন ? হঠাৎ আবার কি হলো ?
“ আর বলবেন । খাওন দেবার মুরুদ নাই , কিলানের গুসাই ।” আমি বললাম—
আরে বাবা , সব সময় সব কিলই বেদনার হয় না । এটা গ্রহনের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে
“ আপনিও তো পুরুষ মানুষ, ছেলেরা তো সব সময় মেয়েদের দোষই দেখে । “
আমি কিন্তু দোষ দেখি না, মেয়েটাকেই দেখি ।
“ হবে হয় তো । সবাই তো আর এক রকম নয় ।“ আমি বললাম –
যাক বাবা , কিছুটা হলেও সহানুভূতি আছে । শুনে খুশী হলাম ।
“বেশ, খুশীই থাকুন । আপনি কিন্তু একবারও ফোন করেন না আমাকে । “
আমি তো এখনও এ্যাটেনশন অবস্থায়ই আছি ।আগে স্ট্যান্ড ইজি হই ।
“ আপনি ইজি হতে হতে তত দিনে আমি মরেই যাবো দেখবেন । “
বালাই সাট ।আপনি মরে গেলে গাধার বাঁচ্চার কি হবে ?
“ আবার ? ব লছিনা ওর কথা বলবেন না কখনও ।“ আমি বললাম—
বেশ বললবো না ।কিন্তু ম্যাডাম, পুরু বিষয়টা এক বার আমার জানা দরকার । ম্যাডাম রেগে গিয়ে বললেন—“ আপনার কি ঐ কথার বাইরে আর কোন কথা নেই ? “
তবু তো ।
“বেশ তা হলে আপনার সাথে আর কথাই বলবো না ।“
সরি, সরি, সরি, তিন সরি বললাম । আর বলবো ।
“ কথাটা মনে থাকে যেন । “
ঠিক আছে এবার একটু হাসুন ।
“ দুষ্টুমী হচ্ছে ?” বলেই লাইন টা কেটে দিলেন ।আমি জানি ম্যাডাম তখনও মুচকি মুচকি হাসছেন এবং এই হাসি টুকু দীর্ঘক্ষণ মুখের মধ্যে ধরে রাখবেন । এতে তার দিন টা ভাল যাবে ।

১,০৪৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৬ টি মন্তব্য

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    আহ কি রোমান্টিক মুহুর্ত ছিল

    খুব ভাল লাগা লেখায়।

    ভাইয়া আপনি কি ফেইসবুকে আছেন?

  2. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    ব্লগে আপনার লিখা প্রথম পড়লাম বলেই মনে হচ্ছে ! ভালো লিখেছেন ।
    ভালোলাগা রইলো লেখায় ।

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      আসলে আপনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়নি । আমি অনেক দিন ধরেই কবিতা, ছড়া, গল্প ও উপন্যাস । সম্প্রতি সময়াভাবে কম. লেখা হয় । শুভেচ্ছা রইল । ভাল থাকুন ।

  3. হাসান ইমতি মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়ে গেলাম

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top