Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( প র্ব—২৬/১ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ২৪/০৩/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1286বার পড়া হয়েছে।

ততক্ষণে সূর্য অস্ত গিয়েছে । চতুর্দিকে অন্ধকার নেমে এসেছে । এই সময় আমার সেকেন্ড অফিসার আমার রুমে ঢুকে বললো —
” স্যার, আপনি কি আমাকে বাঁচাতে পারবেন ? আমি কোন অন্যায় করিনি । কাজেই আমি এ্যারেষ্ট হতে রাজি নই । যদি না পারেন তো বলেন আমি ইন্ডিয়া চলে যাব । ” আমি বললাম–আমি পারবো কিনা জানি না । তবে এটা আমি জানতে পেরেছি যে, এ ঘটনায় আপনাদের কোন অপরাধ নেই । কাজেই আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো । এখন আপনার আমার সামনে থাকার দরকার নেই । তবে আমার সাথে শেষ কথা না বলে আত্মগোপন করবেন না । সেলিম চলে গেল । রাত ১০ টার দিকে চেয়ার ম্যান সাহেব ঐ পক্ষের লোকজন দের সাথে নিয়ে থানায় ঢূকলেন । তারা একটি খুনের মামলা দায়ের করার জন্য দরখাস্ত লিখে নিয়ে এসেছে । আমি তাদের বললাম—
আচ্ছা আমাকে একটি সত্যি কথা বলেন তো , যে লোক টা মারা গেছে ,সে কিভাবে মারা গিয়েছে তা আমিও যেমন জানি, আপনারাও তেমনি জানেন । তা হলে মিছিল মিটিং করে মিথ্যে মামলা করার কারণ কি ? কোন কিছু লুকানোর দরকার নেই। সরাসরি বলুন । আগত দলের এক ছাত্র নেতা বললো —-
“স্যার, আপনাকে মিথ্যে বলবো না । যে মারা গিয়েছে ,সে কিভাবে মারা গিয়েছে তা আমরা সবাই জানি । কিন্তু তার ছোট ছোট তিনটা বাচ্চা আছে । তারা কি খেয়ে বাঁচবে স্যার ? ” আমি যেন অন্ধকারের মধ্যে একটা ক্ষিণ আলোর রেখা দেখতে পেলাম ।আমি বললাম— তার জন্য এত হৈ হুল্লুর করতে হয় ? এটা আমার কাছে বললেই হতো । আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি , ঐ তিনটা বাচ্চার উপযুক্ত ব্যবস্থা আমি করে দেব । আপনাদের আর কিছু বলার আছে ? সবাই এক বাক্যে বলে ফেললো —
“আপনি ব্যাবস্থা করবেন বলেছেন, আমরা ব্যাবস্থা পেয়ে গেছি । আপনাকে আমরা
মৃতের বাবার একটি দরখাস্ত দিতে হবে , মৃত ব্যাক্তি যে ভাবে মারা গিয়েছে , তা উল্লেখ করে । নেতৃস্থানীয়রা বললেন —-“আপনি লিখে দিন , তার বাবা সই করে দিবেন ।” আমি একটা আবেদন ড্রাফ করে দিলাম । তারা সেটা পূন রায় লিখে সই করে দিলেন । আমি উক্ত আবেদনের উপর এক টি অপমৃত্যু মামলা রুজ্জু করে এস পি সাহেবকে জানালাম । রাতে মৃত দেহ পুলিশ পাহাড়ায় রেখে সকালে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠালাম । সকাল ৮ টার দিকে সেলিম অর্থাৎ আমার সেই সেকেন্ড অফিসার ফোন করলো —
“স্যার , কি খবর ? আমি কি ইন্ডিয়া চলে যাব ? ” আমি বললাম—ইন্ডিয়া যাবেন, তবে এখন নয় । পরে কখনও সময় করে বেড়াতে যাবেন । আপাতত তাড়াতাড়ি থানায় চলে আসুন । বেলা ১১ টার দিকে সার্কেল সাহেব এলেন । এমন একটি বিপদের সময় তাকে ঘটনার সাথে সাথেই জানানো হয়েছিল ।থানার অফিসার ফোর্দের প্রতি যদি এক টু মায়া থাকতো তা হলেতো তার আগের দিন বিকেলেই চলে আসার কথা । অন্যায় ভাবে আমাদের বিপদ গ্রস্থ করা হায়েছে বা হচ্ছে । সেখানে একজন সিনিয়র অফিসার হাজির থাকলে কতখানি ভরসা পাওয়া যায় । কিন্তু তিনি আসেন নি । বরং পরদিন বেলা ১১ টার সময় এসে মৃতের বাড়িতে হাজির হয়ে অনেক লোকের সামনে খুব হামকী দামকী শুরু করলেন । বার বার বলতে থাকলেন —
” এটা একটা ক্লিয়ার কাট মার্ডার কেইস । আপনি মামলা সাপ্রেস করছেন ।” তার হুমকী ধামকীতে উপ স্থিত লোক জন বিরক্ত হয়ে গেল । কারন তারা স ত্য ঘটনা জানে । যেখানে তিনি পুলিশের একজন সিনিয়র অফিসার , নীতিগত দিক থেকেই তিনি সত্য কথা জেনে পুলিশ যাতে বিনা অপরাধে বিপদে না পরে তার জন্য চেষ্টা করবেন । কিন্তু এ লোক সহজ সড়ল লোকদের উসকানি দিয়ে পুলিশকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন ।একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে খুন হিসেবে প্রমান করতে চাচ্ছেন । উপস্থিত ছাত্র নেতারা আমার কানে কানে ব লতে লাগলো —–
“স্যার, শালার ধান্দাবাজ অযথা ঝামেলার সৃষ্টি করছে । দিব নাকি শালাকে একটি ধাওয়া দিয়ে । মার্ডার কেইস হলেই দারোগা কনস্টবলদের ভাঙ্গিয়ে খেতে পারবে । এ জন্যই এ গীত শুরু করেছে । ” আমি অবাক হলাম এই ভেবে যে, আমার উপর মানুষের কতটা ভরসা থাকলে এমন কথা বলতে পারে । আমি শুধু মুখে বলেছিলাম– ব্যাবস্তা করবো , এর বেশী কিছু নয় । আমি সবাইকে শান্ত রেখে সার্কেল সাহেবকে নিয়ে থানায় চলে এলাম । আমি মৃতের বাবা মা ও স্থানীয় লোক জনদের প্রতি দেওয়া কথা রেখেছিলাম । আমার নিজের বিবেচনা প্রসূত ব্যবস্থায় সকলেই খুব খুশী হয়েছিল । আমার সেই সেকেন্ড অফিসার আমার সাথে এখনো যোগাযোগ রেখেছে । সে তার পরিচিত জনদের নিকট বলে বেড়ায় –“স্যার আমার নতুন জীবন দিয়েছেন। “

১,২৭১ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৮ টি মন্তব্য

  1. টি. আই. সরকার (তৌহিদ) মন্তব্যে বলেছেন:

    স্মৃতির ভেলায় ভালোই ভাসিয়ে নিচ্ছেন সবাইকে ! ভালো লাগছে আপনার স্মৃতিচারণের ধারাবাহিক সংকলন ! আজকের ঘটনাটা বিশেষ করে শেষাংশটা একটু বেশি ভালো লেগেছে ।
    ভালো থাকুন নিরন্তর ।

    • এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

      আপনাদের ভাল লাগছে শুনেই পুরুনো দিন গুলোকে আবার ভাবনার জগতে ফিড়িয়ে আনতে ভাল লাগছে । অনেক অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য । শুভ কামনা । ভাল থাকুন ।

  2. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    আমার ও শেষাংশটাই বেশি ভালো লেগেছে …….
    দারুণ লিখনী চমৎকার ভালো লাগলো

    শুভ কামনা রইল
    ভাল থাকুন ভাল লিখুন

  3. জসিম উদ্দিন জয় মন্তব্যে বলেছেন:

    বাক্যে শব্দের ব্যবহার ভালো লিখে যান । শুভেচ্ছা রইলো ।

  4. সেতারা ইয়াসমিন হ্যাপি মন্তব্যে বলেছেন:

    মনে হচ্ছিল ঘটনাটা নিজের চোখে দেখছি… সত্যি হারিয়ে গিয়েছিলাম আপনার লেখার মধ্যে… দেশের এই অবস্থায় মানুষ এখন আর পুলিশদের উপর ভরসা করেনা… তাঁরপরও কিছু সৎ অফিসারের পরিচয় পেলাম আপনার লেখায়…ভাল লাগল… ভাল থাকুন… সত্যের পথে থেকে লিখে যান নিয়মিত…শুভকামনা…!

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top