Today 25 Sep 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

স্মৃতির পাতা থেকে ( প র্ব —২০ )

লিখেছেন: এস এম আব্দুর রহমান | তারিখ: ৩১/০১/২০১৫

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 1095বার পড়া হয়েছে।

রাঙ্গুনীয়া থানার দ্বায়ীত্ব ভার গ্রহন করে আমার দিন চলে যাচ্ছিল ভালই । কিন্তু প্রকৃতি ও পরিবেশ খুব একটা আমার অনুকূল ছিল না । অবস্থানের দিক থেকে রাঙ্গুনীয়া থানা এলাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের আওতাধীন নয় বটে , তবে ভূমির গঠন পার্বত্য জেলার মতই । সারা থানা এলাকা জুরেই শুধু টিলা আর টিলা । কিছু কিছু টিলা উচ্চতায় পর্বতের মতই । টিলা বা ছোট পর্বত যাই বলি না কেন , এদের মাঝে মাঝে আছে সুন্দর ও উর্বর সমতল ভূমি । ঐ সকল সমতল ভূমিতেই মানুষের বসবাস । এক সময় এই এলাকা জুড়ে ছিল পাহাড়ীদের বসবাস । বর্তমানে রাঙ্গুনীয়া থানা এলাকায় পাহাড়ীদের খুব একটা দেখা যায় না । দু- এক ঘর যাও আছে , তারা গভীর জংগলে এবং টিলায় টিলায় বাস করে । সমতল ভূমি পুরুটাই বাংগালীদের দখলে । বাংগালীরা যখন এ এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে , তখন পাহাড়ীরা ছিল খুবই সহজ সরল প্রকৃতির । সেটা তাদের অশিক্ষার কারনেই হোক , আর আমাদের এই রুঢ় সভ্যতার যাতা কলে পিষ্ট না হওয়ার কারনেই হোক । সেই সুযোগটি গ্রহন করেছে এই চতুর বাংগালীরা । দখলে নিয়েছে এই রাঙ্গুনিয়ার সকল সমতল ভূমি গুলো । কাল ক্রমে বুদ্ধিতে , চতুরতায় ও প্রতারনায় কুলিয়ে উঠতে না পারায় পাহাড়ীরা চলে গেছে আরো গভীর পাহাড়ী বনাঞ্চলে । তারা বিতাড়িত হয়েছে বাংগালীদের দ্বারা তাদের আদি বাস স্থান থেকে । সকল সমতল ভূমি ঘিরে আছে পাহাড় । ফলে বর্ষা কালে বৃষ্টির পানিতে পাহাড় ও টিলা গুলি ধুয়ে সবুজ সার নেমে আসে সমতল ভূমিতে । সঙ্গত কারনেই পাহাড়ী সমতল ভূমি গুলো অত্যন্ত উর্বর । প্রচুর ধান উৎপন্ন হয় এ সকল জমিতে । তা ছাড়া রাঙ্গুনীয়া এলাকার প্রায় অধিকাংশ লোকজড়িত আছে চোরাই কাঠ ব্যবসায় । বর্তমানে রাঙ্গুনীয়া এলাকায় কোন কাঠ নেই বললেই চলে । এখন যে সকল কাঠ পাওয়া যায় সে গুলি গভীর জঙ্গল থেকে পাহাড়ীরা কাঁধে করে নিয়ে আসে পাহারের ছড়ার মধ্য দিয়ে । পাহাড়ের ছড়া বলতে কোন দূর পাহার থেকে নেমে আসা ঝর্নার পানি দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নালাকে বুঝায় । সেই পানি যেতে যেতে এক সময় ন্দীতে গিয়ে মিশে যায় । এই সকল পাহাড়ীয়া এলাকায় কোন রাস্তা ঘাট না থাকায় আদি কাল থেকেই পাহাড়ীরা এই সকল ছড়াকেই রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে । এলাকার মানুষ চোরাই কাঠের ব্যবসাই করুক আর বৈধ কাঠ ব্যবসাই করুক তাতে সাধারন মানুষের কোন অসুবিধা ছিল না । কিন্তু তাদের অসুবিধা সৃষ্টি করে কতিপয় দুষ্ট কীট । তারা মানুষের ঘুম হারাম করে রাখে সর্বক্ষণ । রাঙ্গুনীয়া এলাকায় প্রচুর ডাকাতি সংঘটিত হয় । এম্ন কোন রাত খুব কমই পার হয় , যে রাতে কোথাও ডাকাতি সংঘটিত হয়নি । পাবলিকের জন্য তো বটেই পুলিশের জন্যও এটাই ছিল এক মাত্র অশান্তির কারন । ও, সি, হিসেবে প্রতিদিন দুরু দুরু বুক নিয়ে অফিসে যেতে হতো । আজ যেন কয়টা ডাকাতির সংবাদ পাওয়া যাবে । তাই বলে পুলিশ ডাকাতি রোধ কল্পে চেষ্টা করে যাচ্ছে না তা নয় । টিলা বহুল ও জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা হওয়ায় ডাকাতেরা ডাকাতি করে খুব তাড়া তাড়ি পালাতে সক্ষম হয় । পুলিশ যদি এক এলাকায় রন পাহাড়ায় থাকে , তবে ডাকাতেরা অন্য এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ পৌঁছতে পৌঁছতেই দৌঁড়ে এক পাহাড়ের ভিতর ঢুকে যায় । তথাপী যারা ডাকাতি করে তারা জীবনে দু-চারবার ধরা পরেনি , তা নয় । এক দু মাস জেল হাজতে থাকার পরই আমাদের দরদী বিচারক গন তাদেরকে জামিনে মুক্ত করে দেন । যাতে তারা মামলায় লড়ার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে পারে । কাজেই তারা পূনরায় এলাকায় এসে পুরোদ্মে ডাকাতি করতে শুরু করে । কোন মামলাতেই তাদের সচরাচর শাস্তি হয় না । কারণ জামিন মুক্ত হয়ে এসেই তারা মামলার সাক্ষীদেরকে গোপ্নে প্রাণ নাসের হুমকী দিতে থাকে । ফলে সাক্ষীগন পুলিশের দেওয়া নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তার চেয়ে প্রাণ নাসের হুমকীকেই গুরুত্ব গিয়ে থাকে বেশী । এতে মামলার ফলাফল আসামী খলাস । দুর্মুখোরা বলে ডাকাতদের ছেড়ে না দিলে তাদের উপার্জন ক্ষম ছেলের মত ডাকাতি করে তাদের পেট ভরায় । আমাদের দেশে ওকিল , বিচারক ও মানবাধিকার সংস্থার লোকদের আবার এই সব ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের প্রতি মায়া বেশী । ওকিল আর বিচারকরা অনেকেই সরাসরি তাদের উপার্জনে ভাগ বসায় । আর মানবাধিকার সংস্থার লোকেরা লাফা লাফি করে বিদেশী দাতা সংস্থার টাকা হজম করার জন্য । পাহাড়ী এলাকার এক জন ডাকাত খুঁজে বের গ্রেফতার করা যে কতটা কষ্টকর ব্যপার তাতো আর তারা জানেন না ।যদি জানতেন তাহলে তারা এ কাজটি করতেন না । তাদের এ ব্যপারে জ্ঞান দেওয়া যেত যদি উর্ধতন কর্মকর্তাগন পুলিশের দুঃখ বুঝতেন । এ প্রসঙ্গে আমার একটি জানা ঘটনার কথা না বলে পারছি না । —চ ল বে ——-

১,০৫৯ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ৩৩১ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৪৮৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৯-০৮ ১৩:৩৯:৪৭ মিনিটে
banner

৩ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    তথাপী যারা ডাকাতি করে তারা জীবনে দু-চারবার ধরা পরেনি , তা নয় । এক দু মাস জেল হাজতে থাকার পরই আমাদের দরদী বিচারক গন তাদেরকে জামিনে মুক্ত করে দেন । যাতে তারা মামলায় লড়ার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে পারে । কাজেই তারা পূনরায় এলাকায় এসে পুরোদ্মে ডাকাতি করতে শুরু করে । কোন মামলাতেই তাদের সচরাচর শাস্তি হয় না । কারণ জামিন মুক্ত হয়ে এসেই তারা মামলার সাক্ষীদেরকে গোপ্নে প্রাণ নাসের হুমকী দিতে থাকে । ফলে সাক্ষীগন পুলিশের দেওয়া নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তার চেয়ে প্রাণ নাসের হুমকীকেই গুরুত্ব গিয়ে থাকে বেশী ।

    প্রকৃত বাস্তবতা নিয়ে লেখা , খুব ভালো লাগলো , ভালো থাকবেন সতত।

  2. এস এম আব্দুর রহমান মন্তব্যে বলেছেন:

    কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ । শুভেচ্ছা রইল । ভাল থাকুন ।

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    ভাল লাগল পর্বটি

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top