Today 28 Sep 2021
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

আমার প্রিয় লেখকের ‘অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্প’

লিখেছেন: মৌনী রোম্মান | তারিখ: ১৬/০২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 700বার পড়া হয়েছে।

এবার বই মেলা থেকে কেনা বইয়ের মধ্যে প্রথমেই যে বইটা পড়া শেষ করেছি সেটা হচ্ছে “অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্প” । আমার অন্যতম প্রিয় লেখক শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্পের বই । বর্তমান সময়ে শক্তিমান গল্পকারদের একজন তিনি । নিজস্ব এক স্বতন্ত্র গল্প বলার ঢঙের জন্য বাংলা সাহিত্যে তিনি নিজের একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন । বইটিতে মোট দশটি ছোটগল্প আছে । প্রথম গল্পটির নামেই বইটির শিরোনাম ।
প্রথম গল্পটিই লেখক এবং তার এই বইটির বৈশিষ্ট ধারণ করে । দুই বন্ধুর কথোপকথনের মাধ্যমে জীবনানন্দ দাশের একটি গল্পের ভেতর দিয়ে পাঠককে বৈচিত্রময় এক ভ্রমণে নিয়ে যায় ‘অন্য এক গল্পকারের গল্প নিয়ে গল্প’ ছোটগল্পটি । এরপর ‘৩০৬ নম্বর বাস’, ‘পৃথক পৃথিবী’, ‘রফিকের নোটবুক’, এইগল্পগুলো যেন একি সঙ্গে অনেক পৃথিবীর কথন । মসৃণ লেখনী আর আর গল্প বলার এক ভিন্ন ধারায় লেখক পাঠককে ভাবনার এক জগত থেকে ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যান । কখনো কখনো গল্পের বিচিত্র অথচ অতি-বাস্তব চরিত্রগুলোর সাথে এই পরিচয় আত্মতৃপ্তিও জাগায় । ‘মান্না দে’, ‘গোয়েন্দা ঘরানার গল্প’, ‘অপুস্পক’, গল্পগুলো আমাদের সামাজিক বিভিন্ন কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস নিয়ে । স্বাভাবিক ভাবেই এসব ঘটনায় সব সময় নারীরাই বেশি ভুক্তভোগী । তবে গল্পের শিরোনাম দিয়েই বোঝা যায় এ ক্ষেত্রেও লেখকের গল্প বলার আঙ্গিক রীতি-বিরুদ্ধ । যা শেষ লাইন পর্যন্ত পাঠকের মনযোগ আকড়ে ধরে রাখে ।
তবে এই বইয়ে যে দুটি গল্পের কথা আলাদা করে বলতে হয় তা হচ্ছে ‘মুরাকামির বিড়াল’ আর ‘সাইপ্রাস’ । ‘মুরাকামির বিড়াল’ মানব মনের চির-রহস্যময়তার কাহন । নিরাপদ-নিশ্চিন্ত জীবনের জন্য মানুষের যে প্রতিনিয়ত আকাংক্ষা – সে কি সত্যিই তা চায় ? প্রকৃতপক্ষে মানব জীবনের এই পথ চলার উদ্দেশ্য কি ? এই প্রশ্নগুলোরই উদ্ভব ঘটায় এই গল্পটি । সেখানে ‘সাইপ্রাস’ গল্পটির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন । একদম আমাদের চারপাশে তাকালেই পাওয়া যায় এমন দুটো চরিত্রের পাশাপাশি এক বাস যাত্রার গল্প । সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র ও পর্যায়ের দুটো মানুষের মাধ্যমে উঠে আসে চিরায়ত বাংলার শতাব্দী প্রাচীন কিছু বচন আর বর্তমান সময় ।
একদম শেষ গল্পটি হচ্ছে ‘সাড়ে সাতাশ’ । এটিকে মূলত লেখকের রচিত সব চরিত্রের এক মিলন মেলা বলা যায় । রাইটার্স ব্লকের সময়টায় লেখক তার সব চরিত্রদের নিয়ে বসেন এক আলোচনায় । সেখানে এক কথায় বলতে গেলে লেখক যেন তার চরিত্রগুলোর ময়নাতদন্ত করেন । যারা লেখকের অন্যান্য ছোটগল্পের বইগুলো পড়েননি ‘সাড়ে সাতাশ’ গল্পটি দিয়ে সেসব সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যাবেন ।

অত-শত এক ঘেয়েমী বইয়ের ভিড়ে যেসব পাঠক ভিন্ন স্বাদের এবং প্রথাগত ধারা ভঙ্গকারী বই পড়তে আগ্রহী তারা নির্দ্বিধায় বইটি পড়তে পারেন । বইটি এবারের বইমেলায় মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ।

৭৩৭ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
নিজেকে নিয়ে বলার মতোন কোন অবস্থানে এখনও পৌঁছাতে পারিনি, পড়াশোনা করছি । আমি মোটেও লেখক নই । সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক শুধু । লেখালেখির নিয়ম-নীতি সম্পর্কে একদম অজ্ঞ । কিশোর বয়সের প্রথম প্রহর থেকে ডায়রির সাথে সখ্যতা । সেই আমার অব-লেখনের সূচনা । গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, তাই মনের মধ্যে অনেক কথাই অনুচ্চারিত থেকে যায় । সেগুলো প্রকাশের তাড়না থেকেই, শুধুমাত্র নিজের জন্য লেখি । এজন্যই আমার লেখাগুলোও বড্ড স্বার্থপর । অনেকটা সময় পর্যন্ত সব লেখা শুধু ডায়রিতেই আবদ্ধ ছিল । চলন্তিকায় যাত্রা শুরুর আগ পর্যন্ত, আমার লেখার একমাত্র পাঠক ছিলাম - আমি । হঠাত্ই অর্বাচীনের মত চলন্তিকায় একটা লেখা পোষ্ট করা, আর সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমার চরম দুঃসাহসী হয়ে উঠা । তাই যে কোন দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো
সর্বমোট পোস্ট: ৩৭ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ২৬৪ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৮-২৪ ০৫:৫৩:৫৩ মিনিটে
banner

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top