Today 01 Dec 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

ধারাবাহিক উপন্যাস “নরক”

লিখেছেন: এ হুসাইন মিন্টু | তারিখ: ১২/০৭/২০১৩

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 5485বার পড়া হয়েছে।

পর্ব-১০

জৈষ্ঠ মাস। রাত আটটা। একটু আগেই এশার আযান হয়েছে। সবুজেদের বাহির বাড়ির আঙ্গিনায় নতুন ধান জমাকৃত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসমত ও মতিন সেই ধান চুরি করার উদ্দেশ্যে আঙ্গিনার এক কোণে লেবু গাছের নিচে বসে বিড়বিড় করে পরামর্শ করছে।
হাসমতের বয়স কুড়ি বাইশ হবে। লম্বা, গায়ের রঙ কালো । মুখশ্রী কিঞ্চিৎ লম্বাটে। গায়ে সেন্টু গেঞ্জি, পরনে লুঙ্গি। চোখে মুখে সরলতার আভা থাকলেও নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধূর্তবাজ মনে করে। কৈশর কাল থেকেই হাত নাড়ানোর বদোভ্যাস আছে। ছেঁচড়া চোর। যেসব জিনিস চুরি করে ধরা পড়লে শক্ত মার খেতে হবে না সেইসব জিনিসের প্রতি নজর বেশি।
মতিনের সংসারে মা ছাড়া আর কেউ নেই। উচ্চতায় হাসমতের চেয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি কম হবে। গায়ের রঙ মোটামোটি ফর্সা। রুগ্নকায়। চুরি পেশায় নতুন। সংসারে মা বাবাহীন ইয়াতিমের জীবন যাপন । এক বোন আছে তার বিয়ে হয়েছে বাবার জীবদ্দশায় । নিজ সংসারের ব্যস্ততা কাটিয়ে ভাইকে দেখতে আসে না সেও না প্রায় বছর তিনেকের বেশি ।
হাসমত ও মতিন কাছা দিয়ে লুঙ্গি পরে আছে। হাসমত বিড়বিড় করে বলল, বস্তা রেডি ?
মতিন মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানানোর পর হাসমত আবার বলল, প্ল্যান মনে আছে তো ?
মতিন বিড়বিড় করে বলল, প্ল্যান কি ?
হাসমত বিরক্তির সুরে বলল, মুরক্ষ। তুই না কেলাস থিরি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিস, ইংরেজি জানিস না ? আমি তো কখনো ইশকুলের বারান্দাতেও যাই নাই। মেট্টিক পাস লোক আমার সাথে ইংরেজি বলে পারবে ?
মতিন কিছু না বলে মুচকি হাসল। সে ভালো করেই জানে এই একজন লোকই আছে আর যাই কথআয় পেরে ওঠা দায় । সেই লোকটিই হাসমত ।
হাসমত অবার বলল, তুই বস্তা ধরবি আর আমি ধান ভরবো। ধান ভরার সময় ভালোভাবে খেয়াল রাখবি কেউ আসে কিনা ?
মতিন বলল, অন্ধকারে দেখব কীভাবে ?
হাসমত সঙ্গে সঙ্গে বলল, অন্ধকারে দেখব কীভাবে। চুরি করতে আসছিস, না কিতাব পড়তে ? জানিস না, চোরদের চোখে পাঁচ ব্যাটারির টর্সের চেয়েও বেশি পাওয়ার থাকে ? চোরেরা দিনের চেয়েও রাতে ভালো দেখে। বস্তা ভরার সময় দশ ব্যঁটারি টর্স জ্বেলে রাখবি। বুঝলি ?
মতিন বলল, একটু আগে না বললে পাঁচ ব্যাটারি ।
হাসমত চোখের দিকে আঙ্গুল তুলে বলল, দুইটা মিলে কত হইল ?
মতিন বলল, ঠিক আছে, চলো।
ঝোঁপের নিচে থেকে বের হতে হতে হাসমত বলল, খালি ঠিক আছে, ঠিক আছে বলিস না। যা বলি মনে রাখিস।
মতিন বস্তা ধরে আছে, আর হাসমত হন্তদন্ত হয়ে ধআন ভরছে । বস্তা ভরার পর মতিনের মাথায় তুলে দিতে চাইল। মতিন বস্তা মাথায় নিতে আপত্তি জানিয়ে বলল, রাস্তা পর্যন্ত তুমি লও, পরে আমি নিবো।
হাসমত বিড়বিড় করে বলল, আমি বস্তা মাথায় নেবো ক্যান ? আমি হইলাম সর্দার, সর্দাররা কখনো বস্তা মাথায় নেয় ?
মতিন নিরুপায় হয়ে বস্তা মাথায় নিলো । বস্তা মাথায় নিতেই তার কেন যেন মনে হল, এমন ভারী সে বোঝা সে তার জীবনে আর কখনো মাথায় নেয় নি । মতিনের মাথায় বস্তা তুলে দিয়ে হাসমত বলল, এখন দৌড়ে আয়।
মতিন হাটতে হাটতে শুষ্ক স্বরে বলল, বস্তা মাথায় দিয়ে দৌড়াবো কেম্নে ?
হাসমত পিছন ফিরে বলল, আরে বোকা কিচ্ছু বুঝেনা, দৌড়ে আয় মানে তাড়াতাড়ি আয়। চুরি করতে আইছে অথচ নিয়ম কানুন কিচ্ছু জানে না।
মতিন আবার বলল, ঔষধ খেতে নিয়ম করতে হয়। চুরির আবার নিয়ম কি ?
চুরির আবার নিয়ম কি ? শালা নিয়ম জানো না বলেই তো এর আগে তোমাকে নিয়ে পাঁচবার চুরি করে, তিনবারই ধরা খেয়েছি। দাড়িয়ে বলল হাসমত । কথা শেষ করে সামনের দিকে পা বাড়াতেই থমকে দাড়াল। করিম মাথার উপর লাঠি তাক করে আছে। নড়লেই বুঝি বাড়ি দিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দিবে ।
চাপা স্বরে হাসমত বলল, খাইছে আমারে ।
করিম হুসিয়ারী জ্ঞাপন করে বলল, খবরদার এক পা নড়বে না।
হাসমত বেগতি দেখে হতভম্বের মত দাড়াল। মতিন বিড়বিড় করে জানতে চাইল বস্তা নামিয়ে ফেলবে কিনা ?
হাসমত কোনো উত্তর করল না। করিম মজনুকে ডাকতে শুরু করেছে। মজনু টর্স নিয়ে দৌড়ে এল। কাছে আসতেই আক্কেলগুড়ুম । করিম রশি নিয়ে আনতে বলল । মজনু দৌড়ে চলে গেল।
হাসমত করিমের পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করল । ওস্তাদের কান্নাকাটি দেখে মতিনও করিমের পায়ে পড়ে গেল । ক্ষনিকের মধ্যেই মজনু রশি নিয়ে হাজির। করিমের হুকুমের তোয়াক্কা না করেই একাই হাসমত ও মতিনকে বারান্দা খুঁটির সঙ্গে বেধে ফেলল । সুরগোল শোনে ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। কাছে এসে চশমার ফাঁক দিয়ে হাসমতকে দেখে বলল, তুমি উত্তর পাড়ার সুবহান চাচার ছেলে না ?
হাসমত মুখে কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল। সবুজ তারপর মতিনের পরিচয় জানতে চাইলো ।
করিম বলল, এইডা অইলো পুবপাড়ার আক্কাসের পুলা।
সবুজ বলল, ওদেরকে বেধেঁছেন কেন ?
সবুজ কথা শেষ করার আগেই মজনু হারমার করে হাসমত ও মতিনের বাঁধন খুলে দিলো। বাঁধন খুলার পর হাসমত শুষ্ক মুখে হাসির ভান করে বলল, তালুকদার সাহেব অনেক ভালো মানুষ।
মজনু সঙ্গে সঙ্গে বলল, এই শুধু তালুকদার বলবি না, বল ডাক্তার সাহেব।
হাসমত ও মতিন মুখ খুলতেই সবুজ দুজনকেই থামতে বলল। তারপর হাসমত ও মতিন লুঙ্গির কাছা খুলে বসতে বলল । চুরি করো কেন ? সবুজ জানতেই হাসমত একেবারে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, কাজকাম নাই কী করব ?
করিম সঙ্গে সঙ্গে বলল, কাম নাই ? কও কাম করতে কষ্ট লাগে।
সবুজ আবার বলল, লেখাপড়া করেছ ?
হাসমত মাথা নাড়িয়ে না করার পর মতিন বলল, আমি কেলাস থিরি পর্যন্ত পড়েছি।
সবুজ বলল, আমার এখানে কাজ করবে ?
মতিন বলল, কী কাজ ?
আমার চেম্বারে থাকবে ?
মতিন বলল, থাকব।
মজনু সঙ্গে সঙ্গে বলল, প্রত্যেকদিন দুইবার করে চেম্বার সাফ করবি।
সবুজ তারপর করিমকে উদ্দেশ্য করে দুইজনকেই ছেড়ে দিতে বলে হাসমতকে কিছু জমি দিতে বলল, যাতে সে চাষ বাষ করে সংসার চালাতে পারে ।
জমির কথা শোনতেই করিম বলল, রাজ্যেইর আইলসা। এর আগেও দুইবার জমিন নিয়া ঠিকমত চাষ করে নাই বাবাজি।
সবুজ আর বিশেষ কিছু বলল না । মতিন পরের দিন থেকে নিয়মিত চেম্বারে কাজ করলেও জমিতে হাল নামানোর কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাসমতের ছায়া পর্যন্ত দেখা গেল না।
বেলা দেড়টা। সবুজ তার চেম্বারে বসে রোগি দেখছে। সর্বশেষ রোগি ভেতরে ঢুকেছে। মতিন বারান্দায় বসে আছে। মতিনের পাশে আসাদুল্লাহও বসে আছে। গ্রামে যে নতুন স্কুল হয়েছে, আসাদ সেখানে শিক্ষকতা করে। দৈহিক লম্বা, কম স্বাথ্যের অধিকারি। বেশ ফর্সা। আসাদ সবুজের বাল্যকালের বন্ধু। ছোট বেলা একসাথে নানা রকম খেলাধূলা ও প্রাইমারি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। তারপর শহরের স্কুল বন্ধ থাকার সময় বাড়িতে আসলে সবুজকে যারা বেশি সঙ্গ দিত, আসাদ তাদের মধ্যে অন্যতম।
সর্বশেষ রোগি বের হবার পর আসাদ ভিতরে ঢুকল। ভিতরে ঢুকে হাসিমুখে বলল, কী খরর ডাক্তার ?
সবুজ সরাসরি জবাব না দিয়ে জানতে চাইল বাহিরে আরো রোগি আছে কিনা । আসাদ সামনের চেয়ারে বসতে বসতে বলল, যে কমপাউন্ডার তুই রেখেছিস, রোগি থাকলে আমাকে ঢুকতে দিতো ?
সবুজ মুচকি হাসল। আসাদ আবার বলল, তুই যাই বলিস না কেন ? তোর এই কমপাউন্ডার রাখার বুদ্ধিটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। অন্তত গ্রামের একজন বেকারকে তো কাজে লাগানো গেল।
সবুজ বলল, তোর খবর বল।
আসাদ বলল, আমার অবার খবর ? তোর কাছে এলাম একটা পরামর্শ করার জন্য।
সবুজ সঙ্গে সঙ্গে বলল, আমি ডাক্তার। উকিল হলে পরামর্শ দিতে পারতাম।
কথা শোনার সাথে সাথে আসাদ হা হা করে হেসে ফেলল। সবুজও আসাদের সাথে সুর মিলিয়ে হাসল।
হাসতে হাসতেই আসাদ বলল, তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরামর্শ না। আমার বিশ্বাস এই ব্যাপারে তুই-ই সঠিক পরামর্শ দিতে পারবি।
সবুজ বলল, ঠিক আছে, বল শোনি।
আমাদের বাজারে ঔষধের দোকান নেই। ঔষধ কিনতে রোগিদেরকে আছিম ফুলবাড়ীয়া যেতে হয়। এত দূরে গিয়ে ঔষধ আনতে হয় বলে হয়ত অনেক রোগি ঔষধ-ই খাচ্ছে না । সেজন্য ভাবছি বাজারে একটি ফার্মেসি দেবো।
সবুজ সঙ্গে সঙ্গে বলল, তাহলে তো ভালোই হয়।
খানিক চুপ থেকে আবার বলল, তবে তোর এই উদ্দোগটি সেবামূলক নয়, ব্যবসায়িক। আর ব্যবসা সম্বন্ধে আমার কোনো আইডিয়া নেই।
আসাদ উঠতে উঠতে বলল, ঠিক আছে দোস্ত, তুই থাক তোর সেবা নিয়ে। আর আমি এগিয়ে চললাম আমার ব্যবসা নিয়ে।
সবুজ চা খেয়ে যা বলল । সবুকে বিকেলে বাজারে যেতে বলে আসাদ বেরিয়ে পড়ল ।

সবুজ বসে বসে কি যেন লিখছে। এখনো আধাঘন্টা সময় বাকী, আজ আর কোনো রোগি নেই।
কিছুক্ষণ পর হামিদ খাঁ ভেতরে ঢুকল। হামিদ খাঁ, এই এলাকার ইউ পি চেয়ারম্যান। বয়স ষাটের কাছাকাছি হলেও গা গতরে বেশ শক্ত। পাঞ্জাবিদের মতন লম্বা। মুখেও পাঞ্জাবিদের মত লম্বা দাড়ি। পরনে লুঙ্গি আর গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। ভেতরে ঢুকেই হামিদ খাঁ সালাম দিলো। সবুজ নিচু মাথা উচু করেই সালামের জবাব দিয়ে হামিদ খাঁকে বসতে বলল । কোশল বিনিময় করার পর হামিদ খাঁ বলল, কয়েকদিন ধরেই ভাবছি তোমার সাথে দেখা করতে আসব, কিন্তু ব্যস্ততার জন্য পারছিলাম না। তুমি খুব ভালো কাজ করছ বাবাজি। আমি দোয়া করছি, আল্লাহতালা তোমাকে দীর্ঘজীবি করুন।
কিঞ্চিৎ চুপ থেকে আবার বলল, তা বাবাজি রোগি কেমন হচ্ছে ?
সবুজ বলল, এই হচ্ছে।
হামিদ খাঁ একেবারে ঝোঁকে এসে বলল, তাতো হবেই বাবাজি, এমন ফ্রি চিকিৎসা আর কোথায় পাবে বলো।
মতিনকে ডেকে সবুজ চা দিতে বলল। মতিন অত্যান্ত রুক্ষ স্বরে জানাল চা নেই। একথা বলেই মতিন দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল। তাকে দেখে মনে হচ্ছে যে কোনো কারণে সে উত্তেজিত হয়ে আছে। হামিদ খাঁ-কে দেখলেই তার গতর জ্বলে যেতে চায়। ইচ্ছা করে রাম দা দিয়ে কেটে টোকরা টোকরা করতে। দশ বছর আগে মতিনদের জমি যবর দখল করার জন্য হামিদ খাঁ-র লোকজন জমিতে হাল নামিয়ে ছিল । তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মতিনের বাবা আক্কাস আর ফিরে আসেনি। তিনদিন পর খালপাড়ে আক্কাসের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। সেই থেকে গ্রামের অনেকের মত মতিনেরও ধারনা হামিদ খাঁ-ই তার বাবাকে হত্যা করেছে। যখনি মতিনের নিজ বাবার কথা মনে পড়ে তখনি সে রাম দা-তে ধার দেয়। তিন বছর আগে সে দা-টি বৈশাখী মেলা থেকে কিনে এনেছে। তার ইচ্ছা একদিন না একদিন ঐ দা দিয়েই হামিদ খাঁ-কে কেটে টোকরা টোকরা করে খালের জলে ভাসিয়ে দিবে। কিন্তু সেইদিন কবে আসবে মতিন নিজেও জানে না।
বারান্দার বেঞ্চিতে মতিনের পাশে হামিদ খাঁ-র সহযোগি কুদ্দুসও বসে আছে। কুদ্দুসের বয়স ত্রিশের কাছাকাছি হবে। মুখে ছুঁচাল দাড়ি। গায়ের রঙ কালো। বেটে গুছের মানুষ। সকালে ছোট ছেলেমেয়েদেরকে আরবি শেখায় আর সারাদিন হামিদ খাঁ-র সাথে থাকে। হামিদ খা-কে বেরুতে দেখে কুদ্দুস লম্বা লম্বা পা ফেলে কাছে এসে পাশে দাড়িয়ে চটকদারি হাসি হাসল। মতিন মুখ ভোতা করে অন্যদিকে ঘুরে বসে আছে। হামিদ খাঁ বারিন্দা থেকে নামতে গিয়ে আঙ্গিনায় পা ফেলার আগেই আবার দুই কদম পিছিয়ে এসে মতিনকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি যেন কার ছেলে ?
মতিন একবার হামিদ খা-র দিকে তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নিলো। কুদ্দুস মুচকি হেসে বলল, পুবপাড়ার আক্কার পুত মইত্যা হুজুর।
মতিন কুদ্দুসের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাল। তার খুব ইচ্ছা করছে চিৎকার করে বলতে, এই কুদ্দুস্যা, আমার নাম মইত্যা না, আব্দুল মতিন। কিন্তু পারল না। হামিদ খাঁ-কে দেখলে যেমন তার শরীর আক্রুশে ফেঁটে যেতে চায়, আবার সামনে কিছু বলার সাহসও হয় না।
মতিনকে উদ্দেশ্য করে হামিদ খা নরম সুরে বলল, ময় মুরব্বি দেখলে সালাম দিতে হয়, এটা জানো না ? যে বেয়াদব তাকে দিয়ে কিচ্ছু হয় না। হে হে হে ।
মতিন আবার মুখ ফিরিয়ে নিলো। হামিদ খাঁ হতাশার সুরে বলল, এই ছেলে তো বেয়াদবের গোড়া দেখছি।
কুদ্দুস বলল, বাদ দেন হুজুর। চলেন।
হামিদ খাঁ আঙ্গিনায় পা ফেলতেই কুদ্দুস আবার বলল, মটরসাইকেল তো পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন কীভাবে যাবেন হুজুর ?
হামিদ খাঁ হাটতে হাটতে বলল, ভাবছি হেটে বাগানটা দেখে যাব।
হামিদ খাঁ ও কুদ্দুস চলে যাবার কিছুক্ষণ পর মতিনকে ডেকে বাজার থেকে চা পাতা আনতে বলল সবুজ। জবাবে মতিন জানাল চা পাতা আনতে হবে না। চা এখনো শেষ হয় নি। সবুজ সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞাস করল, তখন কেন বললে চা শেষ ?
জবাবে মতিন বলল, হামিদ খাঁ অত্যান্ত খারাপ লোক স্যার। আমি তাকে চা বানিয়ে দিতে পারব না।
সবুজ খেয়াল করে দেখল মতিনের চোখে মুখে আক্রুশের লাভা। কথা বলতে গিয়ে বার বার থেমে যাচ্ছে । ক্ষণকাল চোপ থেকে শান্ত গলায় বলল, হামিদ খাঁ যে খারাপ লোক, তুমি কীভাবে বুঝলে ?
মতিন সঙ্গে সঙ্গে বলল, সে আমার বাবাকে খুন করেছে।
এ কথা বলার সাথে সাথে মতিনের গলা ফেঁটে লুকানো কান্না বেরিয়ে আসতে চাইল। চোখ ছলছল করে উঠল। চোখের কোণে জমাট অশ্রু আড়াল করার জন্য মতিন দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। সবুজ আর কিছু বলল না।
খানিকক্ষণ মতিনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার পর, মতিনকে চেয়ারে বসতে বলল। কয়েকবার বলার পর মতিন চেয়ারে বসল। সবুজ নিজে উঠে গিয়ে দুই কাপ চা বানিয়ে আনল। এককাপ দিলো মতিনকে দিয়ে, আরেক কাপে নিজে চুমুক দিলো। সবুজের সহমর্মিতা দেখে মতিনের রাগ গলে পানি হয়ে গেল। চোখের কোণে জমাট বাধা অশ্রু টব করে ঝরে পড়ল।

(এই বইটি ২০১৩ বইমেলায় প্রকাশিত)

(যা না বললেই নয়-এই উপন্যাসের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৭১ থেকে১৯৯৩ পর্যন্ত)

 

৫,৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
পুঁজিবাদের এই জমানায় কলম আমার পুঁজি চেনা মানুষের ভিড়ে আমি অচেনা মুখ খোঁজি,, কলমে ভর করে দাড়ানোর প্রচেষ্টায় রত এক শব্দ শ্রমিক । লেখকের প্রকাশিত বইসমূহঃ- কাব্যগ্রন্থ-জীবন নদীতে খরা উপন্যাস-অশ্রু, নরক ও প্রচ্ছায়া ।
সর্বমোট পোস্ট: ৯৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১২৫০ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৩-০৬-২৬ ১২:২৭:৩১ মিনিটে
banner

৯ টি মন্তব্য

  1. আমির হোসেন মন্তব্যে বলেছেন:

    নরককে মাঝে মাঝে খুজে পাই না কারণ কি?

  2. সাফাত মোসাফি মন্তব্যে বলেছেন:

    পড়লাম,বাকি অংশের অপেক্ষায় রইলাম।

  3. এ হুসাইন মিন্টু মন্তব্যে বলেছেন:

    ধন্যবাদ

  4. রূপা মন্তব্যে বলেছেন:

    অহো এটা তো পর্ব ১০ তাহলে তো আগের গুলো পড়তে হবে ।

  5. গৌমূমোকৃঈ মন্তব্যে বলেছেন:

    আমিও পর্ব ১০এ এসে ঢুকলাম। আগের পর্বগুলো পড়তে হবে।

  6. শাহ্‌ আলম শেখ শান্ত মন্তব্যে বলেছেন:

    অনেক অনেক ভাল লাগা জানিয়ে দিলাম ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top