মাতৃত্ব
এখনও না মাঝে মাঝে
আমার পাশের বিছানাটা
ভেজা মনে হয়
সেই যে পৌষ তীব্র শীতে
তোমার আগমন………
লেপের নীচে চি চি আওয়াজ
আমি ঘুম থেকে
লাফ দিয়ে উঠেই
তোমার দিকে তাকাতাম !
গরম পানির স্পর্শ
কিছু ক্ষনেই ঠান্ডা বরফ
তবুও বুকের গভীরে
মাতৃত্বের সুখের অনুভূতি………….
আমি তোর মা,
ছোট্ট মুখের বাচ্চার এক মা ।
বুকটা না……..
কেমন যেন করে উঠতো
তোর ঐ না জেনে হিসু করে
আমাকে শীত দেওয়ায়
তখন আমার সুখের অনুভূতি !
তোর ঐ ছোট্ট চেহারাটা
আজো আমার কাছে অমনই
তোর হাতটা এখনও তুলতুলেই
গালের ভাজে উষ্ঠো ছালের মত
চামড়া উঠে যাওয়া খসখসে ভাব,
গায়ের মধ্যে তেলতেলে গন্ধ
আর শীতে কুচকে হয়ে
আমার কোলে বসা
সেই মুখটা এখনও অমলিন…..।
আমার মাথার চুল পাক ধরেছে
হাসলে গালে বৃদ্ধ ছাপ ভাজ পড়ে
হাটতে গেলে ঢুলে পরি
যেমনি তুমি হাটতে শিখেছিলে
পড়ে যেতে যেতে….।
তোমাকে আমার খুব প্রয়োজন মনে হয়
সেই ঠান্ডা দিনে
হিসু করে দেওয়া দিনের মত
যখন বরফ শিতল দিনেও
তোমাকে জড়িয়ে রাখতাম,
বুকে আগলে ধরে রাখতাম
আর ভাবতাম তোমাকে ছাড়লে
বুঝি আমার আত্নাই ছুটে যায়…।
আজ তোমাকে বড় প্রয়োজন
আমি হাটতে পারিনা বলে,
হাসতে পারিনা বলে,
এমনকি তোমাকে ছাড়া
কাঁদতেও পারিনা বলে…..!
তুমি এই দিনেও
তোমার ব্যস্ততা দেখাও
আমি রাগ হইনা, অভিমানিতও না
শুধু একটু মন খারাপ হয়
আমি যদি তোমার
সেই হাঁটি হাঁটি পা পার দিনে
খুঁটি না হতাম
তোতলিয়ে কথা বলার শুরুতে
ম্য……ম্য…. ডাক না শেখাতাম
তবে কি তুমি আমাকে
ব্যস্ততা দেখাতে পারতে ?
এগুলোও ভেবে অপরাধী হই আমি
আমার এই ভবনা টুকুই যদি
চলার পথে অভিশাপ হয় তোমার.!
তুমি ব্যস্ত থাকো, দূরেও থাকো
তবু অনেক ভালো থাকো
সেই ছোট্ট ফুটফুটে মুখের মত
উদ্ভাসিত থাকো…….
আমার মাতৃত্বই আমাকে
এই দোয়া করতে শেখায় ।