সী বিচে সন্ধ্যায় দশ মিনিট…..
ঘোর আঁধারে দূর থেকে দূরে
ভেসে আসছে সাদা ফেনিল জলরাশি
উফ!! জীবনের প্রথম সমুদ্র দেখা,
খালি পায়ে; সাদা বালিতে পা ফেলি ধীরে ধীরে
অদ্ভুত ভাল লাগায় সারা গায়ে
শিহরনে কাঁপুনি দিয়ে বলে!!
পা বাড়া সামনে মেয়ে!
পা রাখা স্থানে শিরশির করে সরে যাচ্ছে বালি
অন্যমনা আমি আগাচ্ছি সামন পানে,
আচমকা বড় ঢেউ এসে আঁছড়ে পড়ল আমার পায়ে!
ভিজিয়ে দিলো শরীর; ভিজিয়ে গেলো মন ।
ছুঁইয়ে দেই হাত দিয়ে সাদা জলরাশিকে,
উচলে পড়ে হাতে গভীর ঢেউ,
ইচ্ছে করছিলো চিৎকার করে জানিয়ে দেই আকাশকে
হ্যাঁ, আমি শুনেছি সমুদ্রের গর্জন,
প্রতিদিন অতি আপন একজনের গর্জনে আমার অন্তর কেঁপে উঠত!
আর আজ সমুদ্রের গর্জন শুনে আমি ঘাবড়াই নি;
পিছিয়ে আসিনি; ভয়ে কুঁকড়ে উঠিনি..
আমার খুব সমুদ্রের গভীরে যেতে ইচ্ছে করছিল
পেছন থেকে সে বার বার বাঁধা দেয়
বলে চলে এসো, চলে এসো…
আর এগিয়ো না, কিন্তু
সে কে? এমন করে কাছে ডাকে আমায়!
সমুদ্রের গর্জনের সাথে তার সুর কেনো মিইয়ে গেলো,
আমি শুনতে চাই সেই ডাক, যে আমায় আপন করে কাছে ডাকে ।
সে হারায়, গর্জন হারায়, ঢেউ হারায়;
সব হারায়, রয়ে যাই একা আমি,
আকাশের চাঁদ কাল সাগরের উপর যেন কালো আলো ছড়াচ্ছে……
আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে; আর একটি ঢেউ আসার অপেক্ষায়।
যে ঢেউ আবার আমায় ভাসাবে, ভাসিয়ে নেয়ার কালে,
সে আমায় হাত ধরে টেনে আনবে সমুদ্রের কিনারায়,
আমি ডুবতে চাই, ভাসতে চাই।।
সব কিছু মুহুর্তেই ভেঙ্গে গেলো
আমার সাথীরা আমায় ডেকে বলে ,
চলে আসেন, সময় হাতে নেই!
ফিরতে হবে নীড়ে।
মাত্র দশ মিনিট ছিল আমার সমুদ্র দর্শন
।
