মায়ার সংসার ৭ম পর্ব
মায়ার সংসার ৬ষ্ঠ পর্বের পর..
রতন পরের দিন আর অফিসে এলোনা । সে আগেই ছুটি নিয়েছিল তার পর মায়ার সাথে সর্ম্পক ভাল হয়েছে ।আসলে রতন তার নিজ প্লান মতই চলছে।
২ দিন পরে তুলি বুটিক হাউস এ এলো। রতনকে খুঁজলো তুলি । অফিসে এসে জানল সে ছুটিতে আছে। তুলি বুটিক থেকে বের হয়ে রতন কে ফোন দিল ।
তুলি : রতন তুই কোথায় ?
রতন : আপু বাসায় ।
তুলি : বাসায় কেন ? কাজে যাওনি কেন, অসুখ করছে নাকি ?
রতন : না আপু, আমি এমনেই যাইনি।
তুলি : ছুটি নিয়েছ ?
রতন : হ্যা।
তুলি : কেন ? কারণ ছাড়া ছুটি, অফিসে এত কাজ, তুই নাই ।
রতন : একটা সমস্যা হয়েছে ।
তুলি : কি সমস্যা ? আর ড্রেসটা কোথায় ?
রতন : ওটা নিয়েই সমস্যা।
তুলি : খুলে বল ।
রতন : আপু বাসায় এসে বলি ।
তুলি : আচ্ছা রাতে আাসিস।
রতন : আচ্ছ।
রতন ফোন রেখে নতুন বুদ্ধি আটতে থাকে। রাতে রতন বাসায় হাজির ।
তুলি : বল কি হয়েছে ?
রতন : সে রকম কিছুনা ।
তুলি : সে রকম কিছুনা তা হলে ফোনে বলতে পারলিনা কেন?
রতন : আপু মায়া ম্যাডামের মনে হয় অনেক টাকা হয়েছে ।
তুলি : কি বল, কোথা থেকে এত টাকা হল ?
রতন : কোথা থেকে আবার তোমার অফিস থেকে ।
তুলি : আমি বিশ্বাস করিনা । তোর কাছে প্রমাণ আছে ?
রতন : না তা নাই তবে টাকার গরম আছে তাই বললাম।
তুলি : কিভাবে বুঝলি টাকার গরম আছে ।
রতন :সে দিন তোমার জন্য যে ড্রেসটা আনমাল সেটা বুটিকে নেওয়ার পর তার পছন্দ হল।
তুলি : পছন্দ হতেই পারে।তাতে কি হয়েছে ।
রতন :সেটা আমি তাকে দিতে চাইনি। সে জোর করে নিল তার উপর আমাকে টাকাও দিল।
তুলি : ভাল তো তুই আমাকে ফ্রি দিতে চাইলি আর সে টাকা দিয়ে কিনে নিল,তাতে তোর লাভ হলনা?।
রতন মনে মনে আমি কি বলি আর সে কি বুঝে । কিছু ক্ষণ চুপ থেকে রতন আবার : আপু তোমার জিনিস সে টাকার গরম দেখিয়ে কিনে নিল আর তুমি কিছু বললা না।
তুলি : রতন আমি তোর কোন কথা আসলে বুঝতে পারছিনা।
(মায়াকে আসলে সে ভুল বুঝতে চাইছেনা ।)
রতন : আমি যখন বললাম এই ড্রেসটা আপুর আর তার পরও সে কিনে নিল তার পরও..।
তুলি : এখন ড্রেসটা কোথায় ?
রতন : তার বাসায় ।
তুলি : ঠিক আছে । (মনে মেন তুলি খুব মর্মাহত)। মায়ার প্রতি তুলির যে অঘাত বিশাস ছিল তার ছেদ ধরাল রতন। রতন মনে মনে ভীষণ খুশি।
তুলি : তুই এখন থেকে সব ঘটনা জানাবি আমাকে ।
রতন: রতন মনে মনে ভীষণ খুশি। অবশই। আপু তোমার জন্য আর একটা ড্রেস ওর্ডার করে এসেছি আগামি সপ্তাহে পাব ।
তুলি : আচ্ছা রেডি হলে খরব দিস।
মায়ার আর তুলির অন্য রকমের ধারণা ছিল কিন্তু রতন তার সার্থে মিথ্যা অপবাদ দিতে দ্বিধা করলনা।
রতন আর এক নতুন কৌশল আটল । সে আসলে কোন ড্রেস ওর্ডার করেনি। সে পরের দিন অফিসে গেল । নিজ বোনের মত ভাব করে মায়ার সাথে ,আসলে তার অন্যরুপ ।
রতন : আপু আজ একটা খুব সুন্দর ড্রেস দেখলাম আমার খুব পছন্দ হয়েছে । আপনি নিবেন ?
মায়া : না ভাই এমাসে একটা কিনলাম।আর দুই এই মাসে লাগবেনা ।
রতন : আপু আপনার ৪-৫ মাসে টাকা দিতে হবেনা। আমি বাকির ব্যবস্থা করে দিব । আমি কিন্তু ওর্ডার করে দিলাম । সামনে ঈদ আছে না । বোনাস পাবেন।
মায়া ভাবে ছেলেটা মনে হয় ভাল হয়ে গেছে । আপু ডাকে । থাক এট রিকুয়েস্ট করছে তার পর বাকি । স্কুলে ও যেতে হয় একটু ভাল পোষাক তো লাগেই ।
রতনের নতুন কৌশলর ফাদে আবার পা দিল মায়া। রতন একটি দোকানে পোষাকটি কিনে রেখে আসে আর মোবাইলে ছবি তুলে।মোবাইলে তোলা ছবিটি তুলির মোবাইলে এম-এম- এস করে পাঠায় আর দোকানের ঠিকানা দেয় । একই এম-এম- এস করে মায়াকেও ।
রতন মায়াকে বাসায় ফেরার পথে ড্রেসটি নিয়ে যেতে বলে। সামনে ঈদ তাই সে যেন আজই নিয়ে যায়।
মায়া রতনের কথা মত তাই করল ।তুলি অসম্ভব ব্যস্ত তাই সে পরের দিন একই দোকানে যায় ড্রেসটি নেয়ার জন্য। যেয়ে দেখে সেটি নেই এক ভদ্র মহিলা নিয়ে গেছে ।
সে রতনের উপর রাগ করল।
তুলি : রতন তুই কোথায় ?
রতন : আপু একটু বাইরে
তুলি : বাইরে কোথায় ?
রতন : বাসায় ।
তুলি : বাসায় কেন ? তুই কি একদিন পর পরই ছুটি নিস ?
রতন : না আপু শরীর খারাপ।
তুলি : তুই যে ড্রেসটির কথা বললি সেটা কে নিয়েছে ?
রতন : মনে হয় মায়া ম্যাডাম ।
তুলি : মায়া কেন?
রতন : সে শুনছিল যে একটা সুন্দর ড্রেস আছে তাই সে আমার কাছ থেকে দোকানের ঠিকানা নিয়েছিল।
মায়ার প্রতি সন্দেহ আরো ঘনিভূত হতে লাগল তুলির।
মায়া যত রাতেই ফিরুক নান্টুর পড়া শেষ না করা পযনত ঘুমায় না। নান্টুর ফাইনাল পরীক্ষা তাই পড়া শুনার চাপ বেশি। মায়ার ইচ্ছা ছেলে ক্লাসে সব সময় প্রথম হোক। ছেলেটির মেধা মাশ আল্লাহ খুব ভাল এবং সে মায়ের কথা মতই চলে ।
মায়া অনেক দিন কোন ছুটি নেয়নি। সে ভাবছে নান্টুর ফাইনাল পরীক্ষার সময় এক সপ্তাহ ছুটি নেবে। মায়া তুলির কাছে এক সপ্তাহের ছুটি চাইলে সে ছুটি মন্জুর হলনা। মায়ার খুব মন খারাপ এবার তার ছেলে ভাল ফল করতে পারবেনা। তুলি ও এবার চাইছে তার মেয়ে প্রথম হোক।
মৌমিতা একবার প্রথম হলে নান্টু ২য় এভাবেই চলছে।মনে মনে মায়েদের মধ্যে বেশি প্রতিযোগিতা। যেহেতু মায়ার প্রতি তুলির একটি অভিমানের কারণ রয়েছে সেহেতু মায়া এবার ছুটি পেলনা। মৌমিতা একাধিক গৃহ শিক্ষক থাকায় পড়াশোনায় বেশ এগিয়ে ও আছে ।
৮ম পর্ব চলবে…..