Today 14 Aug 2022
banner
নোটিশ
ব্লগিং করুন আর জিতে নিন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের রিটার্ন বিমান টিকেট! প্রত্যেক প্রদায়কই এটি জিতে নিতে পারেন। আরও আছে সম্মানী ও ক্রেস্ট!
banner

“Pied Piper of Hamelin” – হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা

লিখেছেন: ঘাস ফড়িং | তারিখ: ২১/১২/২০১৪

এই লেখাটি ইতিমধ্যে 905বার পড়া হয়েছে।

শহরটার নাম হামেল্ন৷ সবাই চেনে হ্যামিলন
নামে৷ ছোট্ট, সাজানো, সুন্দর শহর
হ্যমিলন৷ সেই শহরের মানুষের খুব দু:খ৷
সেখানে যেন ইদুর বন্যা হয়েছে৷
হাজারে হাজারে ইঁদুর৷
এখানে সেখানে৷
ঘরের মধ্যে যাও সেখানেও ইঁদুর৷ এই
ধরো কোন বাচ্চা স্কুলে যাবে, ব্যাগ
গোছাচ্ছে, দেখা গেল ঐ ব্যাগের
মধ্যে গোটা পাঁচেক ইঁদুর ছানা৷
কিংবা স্কুলের খেলার মাঠে শিশুদের
পা খামচে ধরছে ইঁদুর৷ কি যে যাচ্ছেতাই
অবস্থা! শহরের মেয়র পড়েছেন ভারি বিপদে৷
নগর পিতার ঘুম নেই৷ কি করবেন তিনি…
এমনি এক ইঁদুর
দিনে হ্যামিলনে এসে পৌঁছালো আজব এক
লোক৷ লোকটির পরনে খাটো নানান রঙ্গের
আলখাল্লা,
এর পর আর কোনদিন দেখা যায়নি হ্যামিলনের
বাঁশিওয়ালকে
মাথায় চোঙ্গার মতো উপরে উঠে ঝুলে পড়া টুপি৷
হাতে লম্বা এক বাঁশি৷ আহা কি সুন্দর করেই
না বাঁশি বাজায় লোকটি…৷
শহরের মধ্যখানে মেয়রের অফিস৷ এক সময়
সেখানকার রোদে গা জুড়াতো মানুষ ৷ আজ আর
সেই অবস্থা নেই৷ লোকজন
ঘরে কোনভাবে দিন কাটায়৷ অফিস আদালতের
কাগজপত্র কেটে কুটে একাকার
করে দিচ্ছে ইঁদুর আর ইঁদুর ছানারা৷
শহরের গণ্যমান্য লোক তাই বসেছেন সভায়৷
কি করা যায় সেই চিন্তায় সকলের
কপালে পড়ে গেছে ভাঁজ৷ ঐ সভায়
এসে পৌছালো সেই অদ্ভুত বাশিওয়ালা…
: আমি আপনাদের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারি৷
আমি হচ্ছি ইঁদুর শিকারি৷ আমি এই শহর
থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি সব ইঁদুর৷
মেয়র একটু ভ্রূ কুঁচকে বললেন
: বিনিময়ে তুমি কি চাও?
তখনি সমস্বরে সেখানে উপস্থিতরা বলে উঠলেন….
তুমি যা চাও আমরা তাই দেবো৷ টাকা চাও, সোনা চাও,
জমি চাও, ঘর চাও, বাড়ি চাও সব তোমাকে দেবো,
কেবল আমাদের রক্ষা করো৷
লোকটি একটু হাসলো৷ তারপর বাইরে বের
হয়ে নিজের রঙিন আলখাল্লাটার মধ্য থেকে দারুণ
একটি বাঁশি বের করল….. তারপর সেই
বাশি বাজাতে বাজাতে ঘুরতে থাকল হ্যামিলনের পথে৷
সে বাঁশির এক অচেনা সুরের
আকর্ষণে শহরের হাজার হাজার ইঁদুর দল
বেঁধে ছুটছে লোকটির
পেছনে পেছনে৷ নর্দমার গর্ত থেকে,
অন্ধকার গলি থেকে, রান্নাঘরের পেছন
থেকে দলে দলে বেরিয়ে আসছে ইঁদুর৷
সুরের সন্মোহনে পাগল যেনো ইঁদুরের
দল৷
ঐ শহরের পাশে যে নদী তার নাম ভেজার৷
লোকটি থামলো না৷ ভেজার নদীর পাশ
দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো সে৷ আর তাঁর
পিছু অদ্ভুত সুরের মূচ্ছর্নায়
আসতে থাকলো ইঁদুরের দল৷ এক সময়
বাশিওয়ালার বাঁশির সুর থেমে গেলো৷ কি এক
চক্রবাঁকে যেন এক উন্মাদনা এসে ভর
করলো ইঁদুরের দলে৷ আর
সে যেনো উন্মাদনাতেই দল
বেঁধে ঝাপিয়ে নদীর জলে…
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এভাবেই ইঁদুরের
কবল থেকে রক্ষা করলো শহরবাসীকে৷ কিন্তু
এরপর?
ইঁদুর বিদেয় হবার পর শহরের মেয়র আর
শহরের গণ্যমান্য লোকদের
কাছে এসে চাইলো তার সম্মানী৷ কিন্তু
কি হলো জানো… মেয়র এবং তার
সাঙ্গপাঙ্গরা প্রাপ্য সোনাদানা তো দিলই না,
আরো বরং ধমকে তাড়িয়ে দিল বাঁশিওয়ালাকে৷
বাঁশিওয়ালা খুবই দু:খ পেলো৷ তার চোখে পানি৷
প্রতিশোধ নেবার বাসনা তার মধ্যে৷ কিছুদিন পর যখন
শহরের লোকজন তাদের গীর্জায় প্রার্থনারত,
সেই ক্ষুব্ধ, প্রতারিত
বাঁশিওয়ালা ফিরে এলো আবার৷
এবার তার মাথায় লম্বা লাল রঙের টোপর৷
গায়ে জড়ানো অদ্ভুত পোশাকটি অনেক লম্বা৷
সেই পোশাক থেকে বের করল
সে একটি ছোট্ট বাঁশি৷ সেই
বাঁশিটি বেজে উঠলো৷ কিন্তু এবার বাঁশির
একেবারেই অন্য সুর৷ সেই সুরে এবার আর
ইঁদুর বেরিয়ে এলো না৷
বেরিয়ে এলো শহরের সমস্ত শিশুর দল৷ সুরের
মূর্চ্ছনায় বাঁশিওয়ালার পেছনে পেছনে সরু
পথ থেকে বড় পথ৷ পাহাড়ের কোল
থেকে নদীর কুল পর্যন্ত এগিয়ে যাচ্ছে শিশুর
দল৷ এই দলে আছে শহরের মেয়রের আদরের
কন্যাও৷ এরপর বাঁশিওয়ালা শিশুদের
নিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো৷ এই পাহাড়, ঐ
নদী, পাশের শহর সব জায়গা খুঁজেও
পাওয়া গেলো না সেই শিশুদের৷
পাওয়া গেলে কেবল দুটি শিশুকে৷ মিছিলের
সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার
কারণে পিছিয়ে পড়েছিল বলে তাদের
ফিরে আসতে হলো৷ তাদের একজন অন্ধ
বলে জানতে পারলো না, কোথায় গেল সবাই৷
আরেকজন বোবা বলে জেনেও কিছু
বলতে পারলো না..

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৮৭৫ বার পড়া হয়েছে

লেখক সম্পর্কে জানুন |
I'm one of between you and he.
সর্বমোট পোস্ট: ১১৯ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ৯৬৭ টি
নিবন্ধন করেছেন: ২০১৪-০৮-২৮ ১৩:১৯:৫৬ মিনিটে
banner

৪ টি মন্তব্য

  1. সহিদুল ইসলাম মন্তব্যে বলেছেন:

    ছোটকালে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা পড়েছিলাম, আবার আজকে মনে পড়ল

  2. দীপঙ্কর বেরা মন্তব্যে বলেছেন:

    খুব সুন্দর
    খুব ভাল

  3. এই মেঘ এই রোদ্দুর মন্তব্যে বলেছেন:

    পুরাতন গল্প নতুন করে পড়ে ভআল লাগল ধন্যবাদ

  4. সবুজ আহমেদ কক্স মন্তব্যে বলেছেন:

    হ্যামিলন …ইদুর …বাঁশি ……
    এতো দিন পর বাহ বেশ সুন্দর
    দারুন ভাবনার প্রকাশ

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন.

go_top