ব্যাঙের সর্দি

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
ব্যাঙের নাকি সর্দি লেগেছে
রতন, মানিক বলে
এই কথাটি শোনার পরে
গদাও তাদের দলে।
পানির মাঝে আহার বিহার
পানিতে যার বাস
সেই ব্যাঙেদের সর্দি-বেমার
ভীষণ সর্বনাশ?
ব্যাঙের আবার সর্দি কেন?
চলছে আলোচনা,
সকাল বিকাল বিরাট মিটিং
করছে যে তিন জনা।
একজন কয়, ‘ডাক্তার ডেকে
চিকিৎসা করতে হবে’।
আরেকজন কয়, ‘এসব কাজে
পয়সা লাগবে তবে’।
এসব কথায় বলছে গদা
‘কেমন বুদ্ধির হোতা,
ব্যাঙের তো হাল চাষ নাই
পয়সা পাবে কোথা’?
‘তার চেয়ে চল পাড়ায় পাড়ায়
চান্দা কিছু তুলে,
বিনা পায়সায় চিকিৎসা করবো
নদীর কুলে কুলে’।
রতন তাতে সায় দিয়ে কয়,
‘বুদ্ধিটা খুব ভালো,
এবার আমরা ব্যাঙের জন্য
জ্বালবো নতুন আলো’।
‘নদীর কুলে চিকিৎসা নয়
খুলবো ডাক্তার খানা,
পাড়ায় পাড়ায় পয়সা চাইলে
কেউ করবে না মানা’।
এই না বলে ওই তিনজনে
গেল চান্দা তুলতে
সব মানুষের বকুনি খেয়ে
ফিরল ঢুলতে ঢুলতে।
বদ্যি বুড়ো কান ধরে কয়,
‘বুদ্ধি কোথায় পেলে,
সটান এবার বাড়ি চলে যাও
ধান্ধাবাজি ফেলে’।
কাঁদতে কাঁদতে চলল তারা
কেউ বলে না কিছু
বদ্যি বুড়োর কান মলাতে
ছাড়ল ব্যাঙের পিছু।