Today 05 Sep 2026
Top today
Welcome to cholontika

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

: | : ১০/১০/২০১৩

পূর্ব প্রকাশিতের পর

রাত বাজে বার টা l ঢং, ঢং, ঢং, ঢং ঘড়ির ঘন্টা বাজছে l চারিদিকে নিশীথের নিস্তব্দ্বতা বিরাজ করছে, এই গলিতে সাধারণত রাত আটটার মধ্যে সব দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়i l রাত দশটার মধ্যে র একেবারে মৃতপুরীর মত নিস্তব্দ হয়ে যায় যায় এই এলাকা l ধানমন্ডির ভুতের গলিতে আশফাক দের বাসা l

অন্যদিন সে সন্ধা ছয় টার আগে বাসায় ফেরে, আজকে তাদের এক ক্লায়েন্ট এর সঙ্গে প্রজেক্ট দেখতে গিয়ে রাত হয়ে গেছে l নিলুফা কে আজকে ফোন দেওয়া হয়নি ,বেচারী না জানি কত টেনশন করছে, যে হয়রানির মধ্য দিয়ে গেল আজকে সারাটা দিন l

ইস এত অন্ধকার এই রাস্তা টা ,স্ট্রিট লাইট টা যে কেন এখনো ঠিক করেনা l

সর সর করে একটা শব্দ হলো যেন পায়ের কাছে, মনে হলো পায়ের উপর দিয়ে কি যেন একটা হেটে গেল l

ওরে বাপরে বলে, লাফ দিয়ে আশফাক পড়ে গেল রাস্তার আরেক মাথায় l

তখনি শোনা গেল অস্ফুট এক গোঙানির শব্দ , কেউ যেন অস্পষ্টভাবে কিছু একটা বলল, ভয়ে হিম হয়ে তার গা. কিসের শব্দ এটা, ওরে বাবা .ছোটবেলায় মার কাছে শোনা ভুতের গল্প গুলি মনে আসতে থাকলো, মা বলত নিশীথিনী, ভূত, প্রেত নিশিরাতে টহল দিয়ে বেড়ায়, কোনো পছন্দের মানুষ পেলে তারা তার ঘাড় মটকায় l

“ভুতের বাচ্চা রা খোদার দোহাই আমারে পছন্দ করনা .মনে মনে আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফু দিয়ে জোরে পা চালালো l

তখনি শুনলো এক ভয়ার্ত নারীকন্ঠের আওয়াজ “না না ও মাগো”

আশফাক ছুটল ও মাগো বাবাগো বলে রুদ্দ্বশ্বাসে l বাসার গেট এর সামনে এসে হাফ ছেড়ে বাচলো l
আহ আলোর মুখ দেখলাম কতক্ষণ পরে.গেটের দরজা লাগিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে মনে হলো
আমি এটা কি করলাম. বোকার মত ভুতের ভয় পেলাম. এমন ও তো হতে সত্যিকারের কোনো মেয়ে বিপদে পড়েছে l এখন আমি কি করব? পুলিশ এ ফোন করব .না বাবা পুলিশ এ ইনফর্ম করলে এদের জেরায় পড়ে জীবন শেষ হয়ে যাবে l

আমার এসব হেডেক এর দরকার নাই.কালকে সকালে জরুরি কাজ আছে,তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে. এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল একসময় l

পরদিন সকালে যথারীতি কাজের জন্য বের হলো. রাস্তার মাঝখানে এসে দেখে এক জটলা ,অনেক লোকের কথার আওয়াজ l ভিড় ঠেলে গিয়ে যা দেখল চমকে উঠার মত দৃশ্য !!!

এক তরুণী র মৃতদেহ পড়ে আছে রাস্তার মাঝখানে রক্তের স্রোতের উপর l আহ বলে বসে পড়ল রাস্তার উপরে আশফাক ”

এই কি সেই মেয়ে যার কান্না কে ভুতের আওয়াজ মনে করে আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম l

======================================================================================

চৌধুরী ভিল্লার সামনে অনেক লোকের ভিড় l আশে পাশের বস্তির সব মানুষ এসে জড়ো হয়েছে l কারো মুখে বেদনার ছাপ, কারো চোখে মুখে সহানুভূতি, তাদের বস্তিতে থাকে, চৌধুরী ভিলা র কাজের মেয়ে হালিমা বাড়ির সামনে জঙ্গলে কে বা কারা মেরে রেখে গেছে l হালিমার বৃদ্বা মা র বিলাপ এ পরিবেশ আরো ভারী হয়ে উঠলো l

পুলিশ এর গাড়ির সাইরেন শুনা যাচ্ছে l কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ আসছে, জনতা উম্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে পুলিশ এসে কি করে l

যথা সময়ে পুলিশ এসে পৌছল l এসে জায়গা টা সীল করে আলাদা করে দিল lপুরা জায়গা কে দড়ি আর খুটি দিয়ে আলাদা করা হয়েছে বিশাল বপু সার্জেন্ট আর তার সেন্ট্রি সরজমিনে সব তদারকি করছে l সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম আর তার সেন্ট্রি রহমত মিয়া সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কেউ কিছু সন্দেহজনক দেখেছে কিনা l

সার্জেন্ট যত কথা বলে তার সেন্ট্রি বলে তার ডাবল l প্রথনে এসে বাশি তে ফু দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো lযাকে সামনে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিয়ে সর সর বলে সবাইকে সামনে থেকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো l

চৌধুরী ভিলা র মালিক আকমল হোসাইন চৌধুরী ষাট উত্তীর্ণ বয়স্ক লোক. ঘটনায় তিনি হকচকিয়ে গেছেন l এ তার কোন কাজের মেয়ে মনে ও করতে পারছেন না l সার্জেন্ট তার ড্রয়িং রুম এ বসে আছেন এ ব্যাপার এ জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য l তাকে সিড়ি দিয়ে নামতে দেখে ভিড় থেকে কেউ একজন বড় একটা ঢিল ছুড়ে মারলো l

এই কে ঢিল ছুড়ল কে? সেন্ট্রি হুঙ্কার দিয়ে সামনে যাকে পেল তার হাতের লাঠি দিয়ে পিটানো সুরু করলো l সবাই আস্তে আস্তে পিছনে হঠা সুরু করলো l

আকমল চৌধুরী র এক মেয়ে রুবিনা ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে ইংলিশ হনস এ 2nd yr এ পড়ে. ঘটনার শকে দুজনে ম্রিয়মান হয়ে আছেন l

“যা জিজ্ঞাসা করার আমাকে জিজ্ঞাসা করুন বাবার শরীরটা বিশেষ ভালো নেই ” বলে উঠলো রুবিনা l

সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম থতমত খেয়ে গেলেন চৌধুরী র মেয়ের সোন্দর্য আর ব্যক্তিত্যের কাছে l কি যে বলবে ভেবে রেখেছিল সব ভুলে গিয়ে তোতলাতে সুরু করলো l

সত্যি রুবিনা র রূপ সৌন্দর্য্যের কোনো তুলনা নাই একবার যে তাকে দেখে দ্বিতীয়বার দেখার জন্য তারা ছুটে আসে l সে দেখতে যেমন অতীব রূপবতী তেমনি তার আচার ব্যবহার এ অনেক চমত্কার ভদ্র মেয়ে কিন্তু আজকে সে খুব বিষন্ন হয়ে আছে হালিমার জন্য l

কি হয়েছে ,ঘটনা টা কিভাবে হয়েছে আমাকে কি একটু বলতে পারেন অনেক কষ্টে রফিকুল তার কর্কশ স্বর যথাসম্ভব মোলায়েম করে অবশেষে বলল l

আমি আসলে ডিটেলস কিছু বলতে পারবনা, বুয়া সাধারণত আটটার মধ্যে তার বাসায় চলে যায়.তার স্বামী আর চোট ছেলের জন্য l আমি সবসময় আমাদের বাসায় ওকে থাকতে বলি lকিন্তু ও থাকতে চায়না তার চোট বাচ্চার জন্য l রাত বারো টায় সে কেন পিছনের জঙ্গলে আসল বা কি হয়েছে কিছু বুজতে পারছিনা l

তো আপনি বলছেন আপনি কিছু জানেন না ?শেষ তাকে কে দেখেছে ? সে বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় কাকে বলে বিদায় নিয়েছিল?

আমাকে বলে বিদায় নিয়েছিল lদরজা আটকে দিয়েছিল আমাদের আরেক কাজের মেয়ে শিউলি l

তাকে কি এখানে আনানো যাবে ? সার্জেন্ট সুধায়,

শিউলি কে ডাকা হলো l সে এলো .শিউলি র বয়স তের কি চৌদ্দ সে খুব হড় বড় করে যা বলল,

আমি তো ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলাম, বুয়া বলল বাই আমি ও বললাম বাই l

আর কে কে থাকে এ বাড়িতে ? একজন কেয়ার টেকার , দারোয়ান চাচা, ড্রাইভার ভাই আর দুরসম্পর্কের এক খালা l

এক এক করে সবার সাথে কথা হলো, জেরা করা হলো কিন্তু এখনো সেই একই অন্ধকার এ আছেন ,কেন যে মেয়েটাকে  এভাবে মারলো বা কে করলো এরকম?

সার্জেন্ট ভাবলো এই ড্রাইভার বেটা র কোনো প্রবলেম নাই তো ? এরে কি ধরে নিয়ে ইন্টারগেসন করলে হয়তবা কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে l

সার্জেন্ট এর চিন্তার সুত্র ছিন্ন হয়ে গেল বাহিরে থেকে ভেসে এলো শিশু কন্ঠের কান্না আর চিত্কার এর আওয়াজ l

কে এই বাচ্চা এভাবে কাদছে “মার কাছে যাব,

আমার মা কই?

=====================================================================================

ভুতের গলি রাস্তার এই পাশে ট্রেন যায়, এখানে যে বস্তি টা আছে এখানে কিছু হতদরিদ্র মানুষের বাস l অধিকাংশ দিন আনে দিন খায়, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা,কিছু গার্মেন্টস কর্মী l পাশের সুন্দর চাকচিক্যময় বিল্ডিং গুলি বস্তিটার পাশে অনেকটা বিদ্রুপ এর মত দাড়িয়ে আছে উপহাস করার জন্য l

বস্তির একটা চালা ঘর থেকে একটা চার বছরের বাচ্চা বের হয়ে রাস্তার সামনে দাড়িয়ে কাদছে l বাবা টানাটানি করছে ঘুম পাড়ানোর জন্য, ছেলেটির নাম জামাল মিয়া l সে চৌধুরী ভিলার কাজের মেয়ে হালিমার একমাত্র ছেলেl সে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদছে, তার শিশু মনে অনেক কষ্ট
কেন তার মা এখনো আসছেনা .তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে খাইয়ে দিচ্ছেনা .গত দুইদিন ধরে তার মা ঘরে আসেনা. আজকে তার ধনুক ভাঙ্গা পন, আজকে মাসহ সে ঘরে ফিরবে l

“মাগো তুমি কোথায় এ বলে অবুজ বালকটি রাস্তার পাশে আকুল হয়ে কাদছে l অসহায় পিতা আব্দুর রহিম বাচ্চার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দিচ্ছেন আর মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন নিরুপায় হয়ে l

“বাপধন তোর্ মা একটু পরে আসবে ক্ষণ l

হা তুমি খালি মিছে কথা কও বাজান আইজ আমি মারে নিয়া ঘরে ফিরুম l

বাপরে তোর্ মা তোর্ জন্য অনেক মিষ্টি আর মজার খাওয়ার আনতে গেছে, চলরে বাপধন ঘরে চল l
ছেলে কে ঘরে নিয়ে এল বাবা l তার ও পরে অনেকক্ষণ কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে পড়ল l

কিরে বাপ রহিম গুমায়চশ নি? ও বাপধন ,

রহিম এর মা হাসিনা বিবি চোখে বিশেষ দেখেন না ছানির জন্য ,হাতড়ে হাতড়ে এসে পাশে বসলো l

“আজকে এখানে একবার পুলিশ আইছিল তোর্ খোজে l

কেন ? কেন ? আমার খোজে কেন

বৌটা অপঘাতে মরলো পুলিশ খোজ করবনা ,

আমি কি করছি আমার খোজ কেন করবে পুলিশ ?
মা তুই মনে করিস আমি কিছু করছি ?

হালিমা বেগম কিছুক্ষণ নিরুত্তর থাকলেন তারপর বললেন ,

আরে পাগলা বেটা বউ মরলে হক্কলতে আগে জামাইরে সন্দেহ করে l
হতভাগী মরে আমারে ডুবাই দিয়ে গেল, এখন এই বাচ্চারে বা কি বলি
আর পুলিশ এর কথার জবাব কি দিমু l

হায়রে তোর্ মনে কি মায়া রহমত নাইরে , নামাজ পইরা বউ এর লাগি একটু কাদ l

হা কান্দুম আমি, হে এত রাতে বারো টার সময় কার লগে দেখা করতে গেছে ? সবাই জানে ওই কুদ্দুস্সার সাথে রাতে রিকশা করে ঘুরে l

চুপ কর বেটা পাগল, এই কথা কারো কাছে আর কইসনা, পুলিশ ভাবব তুই মারচস তোর্ বৌরে l তরে ধৈরা লই যাইব, বাপ একটু হুশ কইরা কথা ক l

তোর্ মনে কি আছে মা ক তো ? তুই কি মনে করিস আমি হালিমারে মাইরা লাইছি, তুই আমারে এরকম মনে করিস মা ?

হাসিনা বেগম উত্তর দিলেন না ,তাকে বিরক্ত মনে হলো , বললেন
“তুই তাহলে হালিমা র পিছনে পিছনে কোথায় গেলি ? তুই এর সঙ্গে থাকলে হে মরে কিভাবে ?

আমি আমি আমতা আমতা করতে থাকে রহিম.

বিড়বিড় করে বলে “তোর্ কথা র জবাব আমি পরে দিব রে মা
এখন তুই আমারে আজকের মত মাফ কর..খোদা র দোহাই লাগে তুই ঘুমা l
======================================================================================
ভুতের গলিতে আশফাক এর বাসা থেকে এক ব্লক সামনে থাকে মিজান। সে আশফাক এর বন্ধু। একটা পুরানো চারতলা বিল্ডিং এ ছাদ এর চিলেকোঠায় মিজান থাকে ভাড়া বাইশ শত টাকা l প্রথম মাসে কষ্ট করে টাকা করে দিয়েছে l এই পাচ মাস কোনো ভাড়া দিতে পারেনি মিজান l এখন সকাল ৫ টা, বাড়িওয়ালা চাচা র সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং ফিরে অনেক রাতে l তাড়াতাড়ি শার্ট টা কোনরকমে গলা দিয়ে গলিয়ে দুরদার করে সিড়ি দিয়ে লাফিয়ে নামতে সুরু করলো l

আহ হৃদয় আমার শীতল হলো তোমার দর্শনে l পিতার বদলে কন্যার সাথে মোলাকাত l আনন্দে মিজান র হৃদয় আকাশ ছুই ছুই ,মেঘ না চাইতে জল l

আহারে এত সুন্দর একটা মেয়ে কেন মিজান এর জন্য মজনুর লাইলী সেজে অপেক্ষা করেনা l সব সুন্দর মেয়েগুলি কেন এত আয়ত্তের বাহিরে থাকে , বাড়ি ওয়ালা র মেয়ে, নাম কেয়া l অবশ্য তাকে কখন ও ডাকে রজনীগন্ধা, কখনো বেলি, কখনো শিউলি, ওর পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় ফুলের সৌরভ পায়.মেয়েটা ও এত সুন্দর আর মিষ্টি কিন্তু কোনো অহংকার নাই l দেখা হলে খুব ভদ্র আর মিষ্টি করে সালাম দিয়ে বলবে “কেমন আছেন মিজান ভাই” l

মিজান এর ইচ্ছে করে তখন লাফ দিয়ে আকাশটাকে ছুতে. বিয়ে ঠিক হয়ে আছে কানাডা প্রবাসী ডাক্তার এর সাথে l ইডেন কলেজ এ ফিসিক্স এ মাস্টার্স পরে. আজকে যথারীতি খুব মিষ্টি করে বলল,

“আসালামুয়ালায়কুম মিজান ভাই ভালো আছেন ” মিজান এর হার্ট টাতে ছোট বিস্ফোরণ এর আওয়াজ হলো যেন l আরো কিছুক্ষণ দেখা গেলে ভালো হত. কিন্তু বাড়িওয়ালা চাচার কাশির শব্দ শুনে পড়িমড়ি করে দৌড় দিয়ে বের হয়ে আসল, নাহলে চাচার হাতে পাকড়াও হওয়ার সম্ভাবনা ছিল l

গলির শেষ মাথা য় যে চাযের দোকান আছে এখানে মিজান সবসময় সকালে র নাস্তা সারে বিসকুট কলা দিয়ে l

তাড়াতাড়ি একটা কড়া চা লাগাও আসগর মিয়া, মন টা অনেক খারাপ l

দোকানির নাম আসগর কেন কি হইছে ভাইজান? মন খারাপ কেন ?

আসগর চা বানাতে বানাতে বলল ভাইজানরে একটা কথা বলতে চাইতেছি যদি কিছু মনে না করেন l

আরে একটা কেন ১০০ টা বল তোমার সাথে আমার কি মনে করাকরির সম্পর্ক ?
তারপর হাত কচলাতে কচলাতে ইতস্তত করে বলে ফেললেন আসগর

“ভাইজান আমার চার মাস এর বাকি টা যদি দিয়ে দিতেন আমার খুব উপকার হত, দোকানের মাল কিনার টাকা ও আমার কাছে নাই l

আরে দিব দিব ,যা..আমি তো মানিবাগ ফালাই আসছি বলে কিছুক্ষণ মিথ্যে মিথ্যি পকেট হাতড়ালো
অবশেষে এ বলে রফা হলো কালকে অর্ধেক টাকা পাচশ টাকা হলে দিয়ে যাবে l
চা শেষ করে মনটা আরো বেশি উদাস হয়ে গেল. এই বেকার জীবন টা অনেক কষ্টের. কবে জব হবে কোথায় টাকা পাবে, কিভাবে সব দেনা শোধ করবে এই চিন্তায় মাথা খারাপ এর মত অবস্থা l

এত কপাল খারাপ কারো হয়, ছোটো একটা চাকরি পাইছিল, পনর দিন ও করতে পারলনা l

দেখি আশফাক এর সাথে কথা বলি l তারা চার বন্ধু, আশফাক, জামিল, মজনু সবাই কি সুন্দর জব পেয়ে গেল, সুন্দর মেয়ে দেখে বিয়ে করলো, তার কপালে কবে যে এসব হবে ?

আশফাক কে রিং করলে কখনো ই পাওয়া যায়না, সে সবসময় ব্যস্ত কালকে থেকে ফোন আর ব্যবহার করা যাবেনা l

ফোন এর আওয়াজ, কার ফোন? আশফাক এর ফোন l

হ্যালো কিরে তোর্ কি খবর ?

আমার আর কি খবর দোস্ত তোরা তো তোদের গরিব দোস্তর খবর ও নিসনা. তোর্ অফিস এ একটা ব্যবস্থা করে দিসনা l আমি দরকার হলে পিয়ন এর চাকরি ও করব, আমার অবস্থা খুব করুণ আমারে সাহায্য কর দোস্ত l

দেখি কি করা যায় তোর্ resume কি আছে ? কালকে আমার অফিস এ চলে আয় l একসঙ্গে লাঞ্চ করব আর তোর্ সব কথা সুনব l

আমার শোনার মত কোনো কথা নাই .যদি পারিস আমাকে দশ হাজার টাকা ধার দে l

কি করবি দশ হাজার টাকা দিয়ে ?

চার মাসের বাড়ি ভাড়া চায়ের দোকানের বিল ,দোস্ত রাস্তায় থালা নিয়ে বসে আছি lতুই না দিতে পারলে জামিল, জামিল না পারলে মজনু আর মজনু যদি না পারে জনে জনে ভিক্ষা করা সুরু করব l

যা ফাজলামি বাদ দে, আমার প্রবলেম হচ্ছে সব টাকা বউ এর হাতে থাকে একশ টাকা নিতে অনেক কারণ ব্যাখ্যা করতে হয় l বুজছিস নিলুফা সন্দেহ বাতিকগ্রস্থ
সন্দেহ করবে কেন? তুই কি বউ কে সময় দেসনা, বাহিরে বেড়াতে নিয়ে যাসনা ?

সময় পাইনা রে কাজ করার পর, খুব টেনসন এর কাজ , কাজ শেষে অনেক ক্লান্ত লাগে, কোনো এনার্জি পাইনা বাহিরে যাওয়ার l

ওকে অনেক বিষি এখন, কালকে লাঞ্চ টাইম এ চলে আয়, দেখি তোর্ টাকা র কি ব্যবস্থা করা যায় l দরকার হলে একাউন্টেন্ট থেকে লোন নিব, চিন্তা করিসনা .সুন্দর করে রেসুমে বানিয়ে qualification highlight করবি l

ওকে see u tomorrow .

রাত ১১ তে খুব আস্তে আস্তে পা টিপে ঢুকতে গিয়ে আবার কেয়ার সাথে দেখা ,
খুব মিষ্টি করে হেসে বলল সেই সকালে বেরিয়ে এখন আসলেন বাসায় ?

হা একটু কাজ ছিল আমতা আমতা করে জবাব দেয় মিজান l

রাতের খাওয়া কি হয়েছে ?

জি হোটেল থেকে খেয়ে এসেছি l

মিথ্যে কথা কেন বলছেন? আপনার সারাদিন খাওয়া হয়নি চেহারা ই বলছে
আসুন ভিতরে আসুন বাবা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন l

ইয়ে ইতস্তত করে বলল আমি ওনার সাথে কালকে দেখা করব, সব ভাড়া দিয়ে দিব l

ঠিক আছে দিবেন এখন বাবা আপনার সাথে অন্য একটা  ব্যপারে কথা বলবেন l

হাত ধরে টেনে কেয়া ঘরে নিয়ে আসল. মিজান যেন একটা ঘোরের মধ্যে আছে .

সে কোনো সপ্ন দেখছে না তো ?

বাড়িওয়ালা দরজার কাছে দাড়িয়েছিলেন l

আস আস বাবা সারাদিন কোথায় ছিলে? মিজান এর চোখে পানি চলে এসেছে l
চোখের জল গোপন করার জন্য মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো l

যাও বাবা বাথরুম এ গিয়ে ফ্রেস হয়ে আস

টেবিল এ এসে দেখে অনেক মজার খাবার সাজানো l কেয়া প্লেট এ ভাত বেড়ে প্লেট টা তার দিকে বাড়িয়ে ধরল, চাচা প্লেট এ মাংশ তুলে দিলেন. মিজান আর সামলাতে পারলনা নিজেকে, টপ টপ করে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো l

একি কান্ড আপনি কাদছেন কেন ? কেয়া হটাত করে তার হাত ধরে ফেলল. তারপর নিজের উত্তেজনায় নিজে বিব্রত হয়ে পড় l

চাচা ও অস্থির হয়ে পড়লেন একি কান্ড বাবা মন খারাপ কোরনা আমরা আছিনা তোমার পাশে  l

চোখ মুছ আর খাওয়া শেষ করে আস অনেক জরুরি একটা কাজের ভার দিব .এখন থেকে তোমার সব টেনসন আমাদের l

(পরবর্তিতে)

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১ টি
নিবন্ধন করেছেন: মিনিটে

মন্তব্য করুন

go_top