Today 11 Aug 2026
Top today
Welcome to cholontika

ভুতের গলির সেই ভূত কি ফিরে এলো ?????

: | : ১১/১১/২০১৩

পূর্ব প্রকাশের পর

মনোয়ারা  বেগম  খুব চেষ্টা করছিলেন .সুমিত্রার মন টা হালকা করতে। পারছিলেন না। সুমিত্রার মন যে কোথায় হারিয়ে গেছে।

মাগো তুমি আরেক টা বিয়া কর না কেন গো ? তোমার চেহারা .ছবি কত ভালো গো মা তোমার বয়স ও কত কম মা।তোমার বয়স কত মা ?

আটাশ বলল সুমিত্রা লজ্জা পেয়ে।

মা আমার  ছেলেরে কেমন লাগে ? তুমি কি পছন্দ করবা  আমার ছেলে রে ? আমার ছেলেটা একটু বাদাইম্মা এখনো কিছু করেনা কিন্তু আমি বললে সে কাম কাজ খুজবো। সে আমারে আবার খুব মানেগো মা। ওই দেখো  ঐযে ও হইতাছে আমার ছেলে ওদিকের কোনার বেড এ একটা  ছেলে শুয়ে খুব আনমনা হয়ে বাহিরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। স্পষ্ট বৈরাগ্যের ছাপ তার ।

সুমিত্রা মনে  মনে হাসলো। তার ছেলের বয়স খুব  বেশি হলে আঠার থেকে বিশ বছর হবে তার।

আস মা তোমার সাথে কথা বলায়ে দেই। সুমিত্রাকে  টেনে  ছেলের বিছানার পাশে নিয়ে এলো।

এইযে আমার বাবা দিদার।

আপনি ভালো আছেন সুমিত্রা হেসে জিজ্ঞাসা করে।

 

দিদার তার উত্তর না করলে জড়সড় হয়ে পড়ল। মাথাটা উপরের দিকে তুলতে এই নার্স এর সাথে  চোখাচোখি হয়ে গেল।

দিদার দেখল এই মেয়েটির চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ কি একটা বেদনা যেন সে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। দিদার এর কাছে মেয়ে মানে হলো একটা শরীর যার  কোনো মানবিক অস্তিত্ব সে কখনো খেয়াল করেনা। সে যে পরিবেশে বড় হয়েছে বাবাকে দেখেছে মাতাল হয়ে ঘরে ফিরত তারপর একটু উনিশ বিশ হলে মাকে পিটাতে পিটাতে রক্ত বের করে ফেলত। আবার মাঝরাতে তাদের সামনে দিয়ে টেনে হিছড়ে মাকে তার রুম এ নিয়ে যেত শারীরিক প্রয়োজনে। মা কোনো প্রতিবাদ করতনা কানতনা  যেন এটা স্বাভাবিক। এসব এর মধ্যে সে বড় হতে হতে মেয়েদেরকে খুব অশ্রধার য় দেখত সে। শারীরিক আকর্ষণ থেকে যেত পাড়া পতিতালয়ে। এই মেয়ে গুলিকে ও সে খুব ঘৃণার চোখে দেখত।

এই প্রথম দিদার  কোনো  মেয়ে র চোখের  ভাষা পড়ার চেষ্কটা করলো। নারীর একধরনের রূপ আছে যার সামনে পুরুষ থমকে  দাড়ায়। যে রূপ ষোড়শীর সুমিত্রার তাদের তেজস্বীয় রূপ সততায় পুরুষ ভক্তি শ্র্রদ্ভায় মাথা নত  করে।

আজকে সুমিত্রার ঘরে পৌসতে প্রায় সাত টা বেজে গেল। ভিতরে ঢুকতে তার বুকের  ভিতর  টা ধক ধক করতে লাগলো আশঙ্কায় ভয়ে।

কোন  ঘটনা  সে  প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে  তা সে টের পেল। অনেক মানুষ   আশেপাশের বাসার সামনে শোরগোল করছে। সামনে মনে হছে তাকে ঠান্ডা  শীতল কিন্তু তার অন্তরাত্তা কাপতে কাপতে হাহাকার এর  মত বলতে লাগলো।

ভগবান  এই কষ্ট আমার  মাথায় তুলে দিওনা। আমি সইতে পারবনা। অল্প বয়সে মাকে নিয়েছ. .কোনো অভিযোগ করিনি বাবা তার মেডিকেল পড়ার সময়ে দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে জব  হারান। তার   প্রেমময় স্বামী আজ অন্য মেয়ের সংসার করছে। তবু আমি অভিযোগ করিনি। আমাকে দয়া কর প্রভু।

কার ও দয়া হলনা এই অসহায় মার জন্য। না ভগবান না মানুষ।

একজন বৃধ্ব স্থানীয় মহিলা এসে বলল মাগো তোমাকে শক্ত হতে হবে। সবাই এখন দাফন করতে বলছে। সকালে মারা গেছে মা এখন দাফন না করলে লাশ দুর্গন্ধ হতে পারে।

সুমিত্রা অনেকটা অজ্ঞান এর মত হয়ে অছে।

তার অন্তরাত্তা হাহাকার এর মত বলছে ভগবান আমার পৃথিবীতে কি সত্যি অছে ?

একজন তার মেয়ে কে কোলে করে এনে বলল শেষবার এর মত দেখে নাও মা।

আজকে আর সুমিত্রা সহ্য করতে পারলনা। তার মেয়ে র শক্ত হয়ে যাওয়া মৃত মেয়ের  দেহের পাশে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল।

পরিশিষ্ট

ভুতের গলিতে আসলে কি ভুতের আনাগোনা আছে কিনা বা কোনো দিন ছিলনা কিনা তা জানা যায়নি এখনো ।তবে এখানে থেকে বড় চোরা চালান এর হদিস পেল পুলিশ ঠিক গলির মুখে র বড় বাড়ি থেকে ।অনেক দিন ধরে এ বাড়ি তে অনেক অসামাজিক কার্য কলাপ চলছিল, তার হদিস পেয়ে পুলিশ পুরা বাড়ি ঘিরে ফেলল l এখান এ পাওয়া গেল এক বিশাল ট্রাক ভর্তি হেরোইন এর চালান ।

পুলিশ স্পেশাল হাসপাতাল এ আস্তে আস্তে জ্ঞান ফিরে আসে চোরাকারবার দের একজন দিদার এর ।  দীর্ঘ  তিনমাস পর কমা থেকে সচেতনতার জগতে ফিরে আসে । না ফিরে আসলে সম্ভবত ভালো ছিল, এটা তার মা কাদতে কাদতে জেল এর সামনে বলতে থাকে । কেননা তার বিরুদ্দে দুইটা গুরুতর অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে । একটা মাদক দ্রব্য চোরাচালান এর কাজে সে জড়িত, তার চেয়ে বড় অপরাধ হালিমা নাম্নী এক মেয়েকে সে এবং তার এক সাথী মিলে রেপ করার পর নিষ্ঠুর ভাবে খুন করেছে ।বিচারে তার সাজা হয়েছে ফাসিতে মৃত্যুদন্ড ।দন্ড কার্যকর করার পর জেলের কতৃপক্ষ দিদার এর লাশ তার বৃধ্যা মাতার কাছে হস্তান্তর করলো ।

আফরোজা এবার আর কোনো ভুল করলনা পাত্র নির্বাচনে, সে তার বাবার পছন্দের  বিসনেস কলিগ এর ছেলেকে বিয়ে করলো, এবং হনিমুন এ তারা সুইটজারল্যান্ড  এ বেড়াতে  গেল, দেখে মনে হচ্ছিল তার জীবনে আবার সুখ ফিরে গেছে ।সুধু আশফাক তার দেওয়া একটা শঙ্খের ঝিনুক যখন হাতে নেয়  তখন তার বুকের ভিতরটা আফরোজার জন্য হু হু করতে থাকে, স্ত্রী নিলুফা স্বামীর দুর্বলতা বুজতে পেরে অসহায় হয়ে মাঝে মাঝে কাদে আবার মাঝে মাঝে ঝগড়া করে আশফাক এর সাথে ।আবার দুজনের মান অভিমান দুরে সরে যায় পরস্পরকে ভালবাসা আর আদর এর মাধ্যমে ।

মিজান আর কেয়া আবার হনিমুন এ এসেছে কক্স বাজার  দুজন দুজনের হাত ধরে    ।

হাটতে থাকে , মাঝে মাঝে দুজন দুজনের দিকে তাকায় তারপর হেসে ফেলে ।দিন শেষে স্যুট এ ফিরে দেখে তাদের কাবার্ড এলোমেলো, কেয়ার সোনার কিছু অলংকার আর দামী শাড়ী মিসিং ।মিজান আর কেয়া এ সিদ্বান্তে আসল হোটেল এর কোনো কর্মচারীর কাজ এটা ।

থাক কেয়া বাদ দাও আমার মনে হয় আমার মত কোনো গরিব বেচারা বিয়ের খরচ যোগাতে না পেরে চুরি করেছে বলল মিজান হেসে ।

না না মিজান চুরি প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা, চল রিপোর্ট করে আসি লবি তে । দুজন এর প্রচুর জিনিস চুরি গেলে তার জন্য তাদেরকে ঠিক দুক্খিত মনে হোলোনা । দুজন ই তৃপ্তি সঙ্গে এই উপলব্দি করলো সুখে থাকার জন্য তাদের দুজনের দুজন কে হলে চলবে, বাড়তি কোনো ঐশঃজ্য না হলে ও চলবে ।

ফাদার আলবের্ত এখন তার মন পুরাপুরি সপে দিয়েছে চার্চ এর কাজে ।এখন সে অনেক টাই বিষন্নতার প্রভাব থেকে মুক্ত. নিয়ম করে সে এখন বাইবেল পড়ে, তার জন্য মনে কোনো অপরাধ বোধ ফিল করেনা । তার স্টাডি রুম বিভিন্ন লোকের লিখা কোরান ও আছে, । আজকে চার্চ এর টপিকস ছিল

God’s purpose to make the earth a paradise will be fulfilled

পড়তে পড়তে সে এর ৭৯ চ্যাপ্টার এর ৯ vers এ এসে থামল, এটা সব সময় এর জন্য তার প্রিয় একটা Scriptures

Help us O God of our Salvation

For the sake of the glory of your name

And Deliver us and cover over our sins on account of your name

বলতে বলতে তার মনোযোগ চলে যায় সতের আঠার বছরের একটি মেয়ের দিকে,এশা।

আলবের্তো কাছে এসে বলল হাই তুমি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছ এশা ?

আয়েশা চমকে উঠলো দেখল যে ফাদার তার নাম মনে রেখেছে ।

আমি ফাদার আপনাকে দেখতে এসেছি বলল আয়েশা মাথা নিচু করে ।

দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে ভাবে আলবার্তো এই মেয়েদের হাত থেকে কবে পরিত্রান পাবে? যেখানে যায় মেয়েরা তাকে ধাওয়া করে ।

জীবন টা হলো বহতা নদীর মত । জীবন জীবনের নিয়মে চলতে থাকে । কোনো ঘটনায় বা বিপর্যয় এ পৃথিবীর গতি কখনো থেমে থাকেনা। মা একসময়ে ভুলে যায় তার প্রিয় সন্তানের মৃত্যু শোক ।স্বামী স্ত্রী পরস্পরের বিচ্ছিন্নতা মেনে নিয়ে একসময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায় ।

ভুতের গলির বাসিন্দাদের জীবন কাহিনী আপাতত কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলেও  পরে অন্য সময়ে অন্য প্রেক্ষাপটে নুতুন ঘটনার বুননে হয়তবা আবার দেখা হবে

প্রথম পর্বের কাহিনী এখানে সমাপ্ত।

লেখক সম্পর্কে জানুন |
সর্বমোট পোস্ট: ০ টি
সর্বমোট মন্তব্য: ১ টি
নিবন্ধন করেছেন: মিনিটে

মন্তব্য করুন

go_top