মহাসিন্ধুতে এক বিন্দুর সলিল সমাধি
পরিত্যাক্ত ডায়েরির পাতা উল্টাতে উল্টাতে সেদিন
খুঁজে পেলাম আমার ভালোবাসার নাতিদীর্ঘ তালিকা ! এক, দুই করে
গুনতে গুনতে দেখি নেহায়েত কম নয়, দশটি ধ্রুবতারা !
শুরু হয় পাথরে ফুল ফোঁটা, বেড়ে যায় বুকের ধুঁক ধুঁক; আমি দুচোখ বন্ধ করে রাখি
কিছুক্ষণ পর অবাক তাকিয়ে দেখি, একে একে ঝরে পড়ছে নক্ষত্রের মিছিল
ফুটো হয়ে যাওয়া বেলুনের মত
মৃতপ্রায় আগ্নেয়গিরির মত
পাট খড়ির বিরহে ক্রমেই নেভে যাওয়া উনুনের মত
আমিও কেমন চুপসে যাই! নিজেকে মনে হয় হিমুর মত !
অতঃপর আর কিছু মনে করতে পারি না !
শুধু বুকের গভীরে একটু একটু চিন চিন ব্যথার অস্তিত্ব টের পাই
বার বার খুঁজতে চেষ্টা করি এ কার মুখ, কিছুই ঠাহর করতে পারি না
হঠাত আলোর উপর আলো আমাকে ঘিরে ধরে
শান্ত সৌম্য স্নিগ্ধ আলোকচ্ছটায় আমার সমস্ত অন্তরাত্মা কেঁপে কেঁপে উঠে
ভয়ার্ত কণ্ঠে কোনো রকমে জিজ্ঞেস করি, কে তুমি ?
এক সাথে আকাশ-বাতাস, স্বর্গ-মর্ত্য থেকে ভেসে আসে জলদ গম্ভীর কণ্ঠস্বর,
আমি! আমি! আমি !!!
এক নিমিষে হারিয়ে যায় আমার অস্তিত্ব !
আগুনে ঝাঁপ দেওয়া উইপোকার মত আমিও সগর্বে চেঁচাতে থাকি,
তুমি! তুমি! তুমি!!!
যৌবনের খরতাপে এক এক করে ঠায় করে নেয়া নামের তালিকাটা সদর্পে পুড়তে থাকে
শুরু হয় মহাসিন্ধুতে এক বিন্দুর বিলীন হয়ে যাওয়ার অবিস্মরণীয় মঞ্চায়ন !
একি নাটকের যবনিকাপাত নাকি গৌরচন্দ্রিকা ? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না!
মহা সুখের অতীন্দ্রিয় আবেশে শুধুই তলিয়ে যেতে থাকলাম
গভীরে — আরও গভীরে —- আরও গভীরে —— !!!