তোমার জন্য
তোমার জন্য কাটিয়েছি বিনিদ্র রজনি
বছরের পর বছর ।
খুঁজেছি তোমায় জেগে থাকা উজ্জল গ্রহ নক্ষত্রে,
শত সহস্র তারকালোকে , ভেসে যা ওয়া মেঘ পুঞ্জে,
চকিত বিদ্যুতের বিচ্ছুরিত আলোতে ।
ছুটে গিয়েছি প্রোজ্জ্বলিত চিতার দাবানলে,
দাঁড়িয়েছি সারিবদ্ধ জানাজায় মৃতের
কফিন নিয়ে,দেখিনি তোমায় কোথা ও দৃষ্টিলোকে
দেখেছি অনুভবে ।
সহাস্য বদনে দাঁড়িয়ে তুমি , অন্তরালোকে
ক্যানভাসে আঁকা জলছবি ।
নিয়েছো যাকে ঘরে ফিড়িয়ে, যেন নেওয়াই ছিল
জরুরী তাকে এ মায়া জালের বন্ধন থেকে ।
তোমার জন্য—-
ছুটে গিয়েছি শুষ্ক মরুর দেশে,
গিয়েছি কৈলাশ পর্বতে, হিমালযে মথুরায়,
গয়া, কাশি , ভ্যাটিকানে, সমুদ্র তলদেশে,
যেথায় চরে বেড়ায় জলচরেরা,
খুঁজেছি তৈলকূপে কয়লার খনিতেও,
অনুভবে, অনুভুতি,
সৃষ্টিরা দৃশ্যালোকে পায়নি তোমায় কভু ।
শুধু তোমারই জন্য—–
ঘুরেছি দেশ থেকে দেশান্তরে,
দেখেছি তোমায় বৈশাখী হাওয়ায়,
নৃত্যপাগল ধানের শীষে,
শীতের ভোরে কোয়াশাচ্ছন্ন শষ্য পত্রে
জমে থাকা মুক্তা রুপী শিশীর বিন্দুতে ।
তোমায় অনুভব করেছি হিমালয় থেকে
ছুটে আসা কনকনে শীতের হাওয়ায়
উদোম বুকে নেচে যাওয়া বস্রহীন শিশুর মাঝে,
বাঁচিয়ে রেখেছ তাদের প্রাকৃতিক নিয়মে
আনন্দ চিত্তে ।
তোমার জন্য আহার নিদ্রাহীন তপসী
যুগ যুগ কাটিয়েছে পর্বত গুহায়, বিড়ান পাথারে
গভীর অরণ্যে সজ্ঞাহীন ।
শুধু ক্ষণিকের সান্নিধ্যে তৃষিত হৃদয় পাবে
অনাবিল আনন্দ প্রতিক্ষিত জীবনের । ।